Pages

শুক্রবার, ১৮ নভেম্বর, ২০২২

২৬ তম পর্ব ২০০৬ সালে বি এন পি'র তত্ত্বাবধায়ক সরকার নাটক:

 .



২০০৬ সালে বি এন পি'র তত্ত্বাবধায়ক সরকার নাটক:-২০০৬ সলের জোট সরকার মেয়াদ শেষ হলে ক্ষমতা ছাড়ার সময় অাবার দেখা দেয় দুই প্রধান দল তথা জোটের মধ্যে তত্বাবদায়ক সরকারের প্রধান নিয়ে মতদৈদ্বতা। জোট সরকারের সময় বিচারপতিদের বয়স হঠাৎ দুই বৎসর বাড়িয়ে দিয়ে ৬৭ বৎসর করাকে কেন্দ্র করে শুরু হয় জটিলতা। আওয়ামীলীগ মনে করল বিচারপতি কে এম হাসানকে তত্বাবদায়ক সরকারের প্রধান হওয়ার পথ সুগম করে দেওয়ার জন্যই এই কাজটি করেছে জোট সরকার। যেহেতু হাসান সাহেব ছিলেন বি এন পি'র প্রতিষ্টাতা সদস্য, এক সময়কার বি এন পি'র আন্তর্জাতিক বিষয়ক  সম্পাদক, তদুপরি বঙ্গবন্ধুর দুই খুনীর ঘনিষ্ট আত্মীয়, সেহেতু আওয়ামীলীগের সন্দেহটা আরো বেড়ে যায়। তারা মনে করল এটা বিএনপির ইলেকসান ইঞ্জিনিয়ারিং এর নীল নকসা। এছাড়া মাগুরা ও মিরপুর উপ নির্বাচনের পর তখনকার নির্বাচন কমিশন নিয়েও আপত্তি ছিল আওয়ামী লীগ সহ বিরুধী জোটের। তাদের দাবী ছিল নির্বাচন কমিশন সংস্কার করা আর হাসান সাহেবকে প্রধান উপদেষ্টা না করা। সরকার এদাবীতে কর্ণপাত না করলে, শুরু হয় বিরুধী দলের রাজ পথের তুমুল আন্দোলন। এ অবস্থায় শুরু হয় দুই দলের তৎকালীন  সাধারন  সম্পাদক আব্দুল জলিল আর আব্দুল মান্নান ভূঁইয়ার বৈঠক। ফলাফল অশ্বডিম্ব। আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয় আরো চরম নৈরাজ্য জনক পরিস্তিতি। ঘটল অনেক প্রাণহানী। বিএনপি এসবকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে তাদের শেষ চালটি চাললেন দলীয় প্রেসিডেন্টকে তত্ত্বাবদায়ক সরকারের প্রধান করলেন।  চারদলীয় জোট  সংবিধানে তত্ত্বাবদায়ক সরকার নিয়োগের যে ছয়টি অপসন আছে তাতে বিচারপতিদের চারটি অপসন এবং প্রসিডেন্টের ষষ্ঠ অপসনটি ছাড়া যে পঞ্চম অপসনটি রয়েছে তাতে প্রধান রাজনৈতিক দলের সাথে আলোচনা করে প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগের বিধান রয়েছে। এক্ষেত্রে জোট সরকার একগুয়েমীর আশ্রয় নিয়ে পঞ্চম ধাপ পার না হয়ে সংবিধান লঙ্ঘন করে সরাসরি ষষ্ঠ ধাপে গিয়ে প্রেসিডেন্টকে প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগ করে দেন। ফলে প্রত্যাখাত হল বিরুধী জোটের দাবী।  এর পরই  দুই দলের বিপরীত মুখী অবস্থান আরো তীব্র হল। আবার শুরু হয় রাজনৈতিক সংকট, নৈরাজ্যকর পরিস্তিতি। বিরুধীদল আওয়ামী লীগ নির্বাচন বর্জনের ঘোষনা দিয়ে লাগাতর কর্মসূচী পালন শুরু করল।   বিএনপি নেত্রীর লুপ্ত গোঁফের ভিতর প্রশান্তির হাসি।

উইকিলিকসের তথ্য অনুযায়ী (যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন রাষ্ট্রদূত পেট্রেসিয়া বিউটনিসের পাঠানো তার বার্তা) খালেদা জিয়া চেয়েছিলেন ৯৬ এর১৫ই ফেব্রুয়ারীর মত আর একটি এক তরফা নির্বাচন করিয়ে নিয়ে বিরুধীদলহীন একটি স্বল্প মেয়াদী সরকার গঠন করতে। পেট্রেসিয়া বিউটেনিস আরো লিখেন, ২০০৭ সালে ২২সে জানুয়ারী একতরফা নির্বাচন হলে সে বিষয়ে প্রশ্ন তুলবেন অনেকে। সে বিষয়েও সচেতন ছিলেন খালেদা। তার যুক্তি ছিল, প্রশ্ন তুললেও তাঁর এ সম্ভাব্য সরকার হবে সাংবিধানিকভাবে বৈধ। (উইকিলিসে প্রকাশিত পেট্রিসিয়ার তার বার্তা) বিউটেনিসের সাথে আলোচনায় বেগম জিয়াকে বিউটেনিস প্রশ্ন রাখেন, 'একতরফা নির্বাচন হলে প্রায় ৪০শতাংশ ভোটার আওয়ামী লীগকে সমর্থন দেবে, বিএনপি তা নিয়ন্ত্রন করতে পারবে কিনা।' চল্লিশ শতাংশ ভোটার আওয়ামীলীগকে সমর্থন দেবে বিউটেনিসের এ প্রশ্ন 'হেসেই উড়িয়ে দেন বেগম জিয়া'। গনআন্দোলনের ব্যপারে আওয়ামীলীগের সামর্থ নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন বেগম জিয়া।  বিউটেনিস তার বার্তায় আরো জানান 'এক তরফা নির্বাচনের সমালোচনা করায় বেগম জিয়া যুক্তরাষ্ট্রের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন বলে তিনি জানতে পেরেছেন। খালেদা জিয়ার ধারনা হয়েছিল আওয়ামী লীগের পিঠ সত্যি সত্যি দেওয়ালে ঠেকে গেছে। এ অবস্থা থেকে তারা আর ফিরে আসতে পারবেনা।'

বিউটেনিস আরো লেখেন, সেনাবাহিনী বিশ্বাস ভঙ্গ করে অভ্যূত্থান করতে পারে, কিংবা দুই নেত্রীকে নির্বাসনে পাঠাতে পারে। এমন কোন আশঙ্খা মনে ঠাঁই দিতেও প্রস্তুত ছিলেন না বেগম জিয়া। শেখ হাসিনাও একিই অবস্থানে ছিলেন, এদুটি গুঞ্জনকে গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছেন (জুলিয়ান এস্যাঞ্জের উইকিলিসে প্রকাশিত, মার্কিন রাষ্ট্রদূত পেট্রিসিয়া বিউটেনিসের প্রেরিত তারবার্তা)

তত্বাবদায়ক সরকার নিয়ে জোট সরকারের টাল বাহানার এক পর্যায়ে ২০০৭ সালে ১১ই জানুয়ারী সামরিক বাহিনীর হস্তক্ষেপে রাষ্ট্রপতি ইয়াজ উদ্দীন আহমেদ দেশে জরুরী অবস্থা জারী করেন, ফখরুদ্দীনের নেতৃত্বে সেনা সমর্থিত তত্বাবদায়ক সরকার দায়িত্ব নেয়। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে  যা ওয়ান ইলাভেন নামে পরিচিত। এই সামরিক তত্ত্বাবদায়ক সরকার সেনা সমর্থনে প্রায় দুই বৎসরাধিকাল দেশ শাসন করেন।

প্রান্তের ভাবনা:- প্রান্ত দম্পতি এখন এক পুত্র সন্তানের জনক।

তারা স্বামী স্ত্রী এখন একটি সুখী দম্পতি। কলেজ শিক্ষকতার ফাঁকে ফাঁকে তারা ছুটির দিনে সন্তানসহ বাংলা দেশের বিভিন্ন দর্শনীয় এবং ঐতিহাসিক স্থানে  ঘুরে  বেড়ান।  অতীতের দুঃখ যাতনা ভূলে সুন্দরভাবে  জীবন কাটাতে চান প্রান্ত।  এর বাইরে তাদের কোন চাওয়া পাওয়া নাই। প্রান্ত সক্রিয় রাজনীতি না করলেও তাদের হাত দিয়ে জন্ম নেয় বাংলাদেশ। তাই এদেশকে খুবই ভালবাসেন, দেশকে নিয়ে ভাবেন। দেশের উন্নতিতে খুশী হন আবার দেশে ক্ষতি দেখলে দুঃখিত হন, কষ্ট পান, হতাস হন। দেশ ভাল থাকুক, দেশের মানুষ ভাল থাকুক, মুক্তি য়ুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়িত হউক এতেই তারা খুশী।

    প্রান্ত লক্ষ করেছে ৯১ সালে বিএনপির শাসনামল থেকে ২০০১ সালের বিএনপি শাসন ছিল সব কিছু দিয়েই বিতর্কিত। ২০০১ সালে বিএনপি  নির্বাচনে জয় লাভ করে ক্ষমতায় বসার প্রাক্কালে এবং ক্ষমতায় বসার পর যে সহিংতার নজির স্থাপন করেছে তা দেশে যেমন ধীকৃত হয়েছেন তেমনি দেশের বাইরেও এই  নেক্কারজনক কাজের জন্য অনেক নিন্দিত হতে হয়েছে।  সাধারন মানুষও  গ্রামে গঞ্জে শহরে বন্দরে বিএনপির মত একটি দলের কাছ থেকে এ রকম অরাজক অবস্থা কখনো কামনা করেনি। বিএনপি জনগণের মেন্ডেট পাওয়ার পর দেশের উন্নয়নে কাজ করবে এটাই ছিল তাদের নিকট জণগনের প্রত্যাশা। প্রতিদ্বন্দ্বী দলকে মেধা ও বুদ্ধির রাজনৈতির মারপ্যাঁচে পরাজিত না করে গ্রেনেড হামলা করে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে দৈহিকভাবে প্রাণে মেরে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়ার বর্বর আচরন মানুষের দীক্ষার কুড়িয়েছে। তার মনে হয়েছিল এটা বিএনপি নেতৃত্বের অপরিনামদর্শী ও মেধা শূন্য রাজনীতির বর্হিপ্রকাশ।

   ২০০১ এক সালে বিএনপিকে মানুষ অনেক প্রত্যাশা নিয়ে ভোট দিয়েছিল একারনে যে, আওয়ামী লীগ ৯৬ সালে নির্বাচনে জিতে ক্ষমতায় আসলেও মেয়াদের শেষের দিকে দূর্নীতিতে নিমর্জিত হয়ে যায়। যার ফলস্রোতিতে ট্রান্সপারেন্সী ইন্টার ন্যাশনাল তাদের মেয়াদের শেষ দিকে সারা বিশ্বে বাংলাদেশকে দূর্নীতিতে এক নম্বর হিসাবে ঘোষনা  করে। এ ভাবমূতি সঙ্কট কাটিয়ে বাংলাদেশ থেকে দূর্নীতিকে দূর করে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে এ চিন্তা মাথায় রেখে বিএনপিকে সেবার মানুষ ভোট দিয়ে ক্ষমতায় বসায়।  কিন্তু জনগনের কথা না ভেবে দেখা গেছে বিএনপি জামাত জোট ক্ষমতায় গিয়ে কিভাবে পয়সা কামায় করে অতি সহসা বড় লোক হওয়া যাবে সেদিকেই বেশী মনোযোগী হয়ে পড়ে। দেশের উন্নয়নে তারা তেমন কোন মাথা ঘামায়নি। সারাদেশে মানুষের মুখে মুখে তারেক জিয়া  আর খোকোর দূর্নীতির কথা। সাধারন মানুষের ভাষ্য হল দূর্নীতি সব সরকারের আমলে কম বেশী হয়ে থাকে। দূর্নীতিকে সমূলে ধংষ করা কোন দিনই সম্ভব নয়,  কিন্তু দূর্নীতি করে উন্নয়ন কাজের সিংহভাগ অর্থ নয় ছয় করা হলে  তাও আবার নেতৃত্বের শীর্ষ পর্যায় থেকে, তা হলে দূর্নীতি যেমন বৈধতা পেয়ে যায়, তেমনি দূর্নীতিবাজরা আস্কারা পেয়ে দ্বিগুন উৎসাহে দূর্নীতিতে আরো ধাবিত হয়। বি এন পি আমলে বিদ্যুৎ নিয়ে দূর্নীতি, গ্যাস ক্ষেত্রের ইজারা নিয়ে দূর্নীতি এসব কিছু তার জলন্ত প্রমান।

শুধু তাই নয়, সার নিয়েও চলেছে তেলেসমাতি কান্ড যাতে প্রাণ হারিয়েছে নিরীহ কৃষক। হাওয়া ভবনের দাপটে সৎ ব্যসায়ীরাও জিম্মি ছিল। হাওয়া ভবনে কমিশন না দিয়ে ব্যসায়ীদের ব্যবসা করা প্রায় অসম্ভব ব্যপার হয়ে পড়েছিল। মানুষ এতসব নিরবে সহ্য করলেও শুধু সময়ের অপেক্ষায় ছিল নির্বাচনের জন্য।

বিএনপি নেতৃত্ব বুঝেছিল তাদের যে আকাশ ছোঁয়া দূর্নীতি তাতে জনগন এবার তাদের রাষ্টীয় ক্ষমতায় বসাবে না। তাই তারা নানা ফন্দী ফিকির করছিল কিভাবে ছল চাতুরী করে ক্ষমতাকে পুর্নবার পাকাপোক্ত করা যায়। যার জন্য এত কারসাজি। ফলে রক্তারক্তি, অরাজকতা। 

       প্রান্ত অনেক ভেবে চিন্তে একটি মূল্যায়ন বের করে কেন ৯১ থেকে তুলনামূলক বিচারে ২০০১ এর বিএনপি সরকার এত বিশৃঙ্খল অদক্ষ, দূর্নীতিতে নিমর্জিত ও অগোছালো ছিল। মূল্যায়নে বেরিয়ে আসে ৯১ সালের শাসনামলের বিএনপি রাজনীতিতে তারেখ জিয়া মূখ্য ভূমিকা পালনকারী নিয়মক শক্তি ছিলনা। তখন বিএনপির  রাজনীতিতে সিদ্ধান্ত গ্রহন প্রক্রিয়ায় ছিল জৈষ্ঠ নেতাদের মতামতের গুরুত্ব । কিন্তু ২০০১ সালে তারেক জিয়া বিএনপি রাজনীতিতে দানবীয় শক্তি রূপে আর্বভূত হলে বিএনপির জৈষ্ঠ্য নেতাদের অভিজ্ঞতা, মেধার মূল্যায়ন না হয়ে কিছু অপরিপক্ষ অল্পবয়সী বন্ধু বান্ধব বেষ্টিত হয়ে 'হাওয়া ভবন' থেকে সব কিছু পরিচালিত করেছেন।  কেন জানিনা বেগম জিয়া মাতৃ স্নেহে আবিষ্ট হয়ে নাকি পুত্রকে ইচ্ছাকৃতভাবে বিভিন্ন অন্যায় বা অনৈিতক কর্মকান্ড থেকে বিরত রাখেননি বা রাখতে সক্ষম হননি। যার মাসুল আজ বিএনপিকে কড়ায় গন্ডায় দিতে হচ্ছে।


  প্রান্ত নিজেকে প্রশ্ন করে এত কিছুর পরও কেন রাজনৈতিক দলগুলার বোধোদয় হয়না ? ক্ষমতায় গেলে মনে করে এ ক্ষমতা তাদের চির দিন থাকবে। তাদের কোন দিনই এর জন্য জবাবদীহি করতে হবেনা। যখন মেয়াদ শেষ হয় তখন আর নিজেদের আস্থার ঘাটতি দেখা দেয়। ভাবে নির্বাচনী বৈতরনী পার হয়ে কিভাবে পুনরায় ক্ষমতায় আসবে। আর ক্ষমতায় আসতে না পারলে তো তাদের দ্বারা সংঘটিত দূর্নীতির জন্য তাদের আবার কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। এজন্য  চলে নানা ইঞ্জিনিয়ারিং, নানা কারসাজি ।

২৫ তম পর্ব, খলেদা জিয়ার সরকার (২০০১-২০০৬):-

 



 ১৯৯১ সালে বি এন পি  ক্ষমতায় এসে যে ভূলগুলি করেছিল, পুনরায়  ২০০১ সালে বিএনপি জামাত জোট জনগনের মেন্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার পর তা শুধরে নিয়ে জনগনের আশা আখাঙ্খার প্রতিফলন ঘটাবে, প্রতিশ্রুত  খলেদা জিয়ার সরকার (২০০১-২০০৬):- ওয়াদা পালন করে দেশ তথা জনগণের উন্নয়নে নিবেদিত হয়ে কাজ করে যাবে এটাই ছিল স্বাভাবিক। কিন্তু মানুষের সে আশায় গুড়ে বালি। তারা জনগনের আখাঙ্খার সিংহ ভাগই পুরন করতে ব্যর্থ হয়েছে। যুদ্ধাপরাধী এবং পাকিস্থানের দালাল মুজাহিদ এবং মতিউর রহমান নিযামীকে মন্ত্রীসভার সদস্য করে প্রথমেই তারা ভূল পথে যাত্রা শুরু করে। এই ভূল পথের যাত্রা দিয়ে শুরু হয় তাদের শাসনের অব্যবস্থা, বিশৃঙ্খলা। এর পর দূর্নীতির মধ্যে বসবাস করে কেটেছে জামাত বিএনপি জোটের পাঁচটি বছর।

বিএনপি জামাত জোট তাদের নির্বাচনী ইসতেহারের ৩২টি সুনির্দিষ্ট বিষয়ের শতাধিক অঙ্গীকারের হাতে গোনা কয়েকটি অঙ্গীকারই মাত্র পুরণ করতে পেরেছিল।

দ্রব্যমূল্যের উর্ধগতি নিয়ন্ত্রন, বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান, আইন শৃঙ্খলা পরিস্তিতির উন্নয়ন, দূর্নীতি দমন, বিচার বিভাগের পৃথকীকরনের মত বিষয়গুলা সরকারী সিদ্ধান্তহীনতায় থেকেছে অবহেলিত। 

দ্রব্যমূল্যের উর্ধগতিতে সীমিত আয়ের মানুষ ছিল দিশেহারা। দেশের উত্তরাঞ্চলে দেখা দিয়েছিল মঙ্গা।  মানুষের আয় যতটুকু বেড়েছিল তার ছেয়ে দ্রব্যমূল্য বেড়েছিল অনেক বেশী। বাজার নিয়ন্ত্রনে জোট সরকারের মন্ত্রীরা সম্পূর্ণ ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছিল,  কার্যতঃ বিভিন্ন মন্ত্রনালয়ের মধ্যে কোন সমন্বয় ছিলনা।

 বিদ্যুতের অবস্থাও ছিল অথৈবচ, বিদ্যুতের অবস্থা এমন পর্যায়ে চলে গিয়েছিল যে ২৪ ঘন্টা সময়ে ৩/৪ঘন্টার বেশী বিদ্যুৎ থাকত না। কল কারখানা, দোকান পাট, আবাস গৃহ কোথাও বিদ্যুৎ পাওয়া যেত না, বিদ্যুতের দাবীতে সাধারন মানুষ রাস্তায় নামলে পুলিশ তাদের  গুলি করে হত্যা করে। বিদ্যুৎ নিয়ে দূর্নীতি এমন পরিহাসের পর্যায়ে গিয়েছিল যে সারা দেশে শুধু বিদ্যুতের খাম্বা পোঁতা হয়েছিল, কিন্তু বিদ্যুতে আলোকিত হতে পারেনি দেশ এবং জনগণ। সার নিয়েও হয়েছিল কেলেঙ্কারী, বিদ্যুতের মত সার চাইতে গেলেও কৃষকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।

  জোট সরকার ক্ষমতা নেওয়ার পর পরই একের পর এত খুন, ডাকাতি, সংখ্যালঘু নির্যাতনের মত ঘটনা ঘটে যা জন মনে ভীতি ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় দিন দিন সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্তিতির চরম অবনতি ঘটে। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে জায়গা করে নিয়েছিল ইসলামী জঙ্গীবাদ ও সন্ত্রাসবাদ।২০০৫ সালের ১৭ই আগষ্ট সারা দেশের ৬৩টি জেলায় একযোগে বোমা বিস্ফোরনের ঘটনা ঘটিয়ে তাদের উত্থানের জানান দেয় জঙ্গী সংগঠন গুলি। এর পর সারা দেশে প্রায়ই চলতে থাকে বোমা ও গ্রেনেড হামলার মত জঙ্গী ঘটনা। ভয়ঙ্খর জঙ্গী বাংলা ভায়ের উত্থান এ আমলেই হয়েছে। অথচ তৎকালীন জামাত নেতা জোট সরকারের মন্ত্রী  মিতিউর রহমান নিজামী বলেছিলেন বাংলা ভাই মিডিয়ার সৃষ্টি।  রাজশাহীর পাঁচটি সিনেমা হলে একযোগে বোমা হামলা, বাঙ্গালী সংস্কৃতির ঐতিহ্যের ধারক রমনার বটমূলের অনুষ্টানে ১লা বৈশাখে বোমা হামলা, পুলিশ, বিচারক, আইনজীবির উপর হামলা, এ সব সে আমলের কলঙ্কিত অধ্যায়। এ সকল হামলায় জীবন দিতে হয়েছে ৯৭টি নিরপরাধ মানব সন্তানকে, আহত হয়েছে আরো শত শত মানুষ। সবছেয়ে অবাক করা বিষয় হলো  বিএনপি জামাত রাষ্টীয় পৃষ্টপোষকতায় ২১শে আগষ্ট আওয়ামীলীগ নেতা নেতৃত্বকে নিশ্চিন্ন করে দেয়ার জন্য গ্রনেড হামলা চালায়। এতে আওয়ামী মহিলা লীগের নেত্রী আইভী রহমানসহ চব্বিশ জন আওয়ামীলীগের নেতা কর্মি নিহত হয়।আহত হয় আরো প্রায় তিন শতাধিক। রাজনীতিকে রাজনৈতিক ভাবে মোকাবেলা না করে সন্ত্রাস ষড়যন্ত্রের পথে হাঁটা বিএনপি তথা জোট সরকারের আদর্শহীন রাজনৈতিক দৈন্যতারই প্রকাশ। এই সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের  উদ্দেশ্য ছিল  প্রতিদ্বন্দী আওয়ামীলীগকে ৭৫ এর মত নেতৃত্বশূন্য করে ধংষ করে দেয়া। যাতে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী বলতে আর কেউ না থাকে। শুধু তাই নয় এই গ্রনেড হামলা ধামাচাপা দিতে গিয়ে তারা আরো এক নেক্কারজনক কাজ করেছিল জর্জমিয়া নামক নিরীহ ব্যক্তিকে এই ঘটনায় জড়িত করে নাটক সাজিয়ে। রাষ্ট্রীয় পৃষ্টপোষকতায় এরকম সন্ত্রাস দেখে  নিরাপত্তাহীনতা বেড়ে গিয়েছিল সাধারন মানুষ, সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ, বিরুধী সাংসাদ সহ সকলের। এর আগেও সন্ত্রাসী ও জঙ্গীদের হাতে প্রাণ দিতে হয়েছে আহসান উল্লাহ মাস্টার, অর্থমন্ত্রী কিবরিয়া, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আফতাব আহাম্মদ, চট্টগ্রামের শিক্ষক গোকূল মোহুরী, ঢাকা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারজন শিক্ষক ও রেজিষ্টারসহ অনেককে। জঙ্গী হামলায় আহত হয়ে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছেন বৃটিস হাই কমিশনার আনোয়ার চৌধূরী, সাবেক সাংসাদ সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত সহ অনেকে। এ আমলে সাংবাদিকরাও নিরাপদ ছিলনা।  বিএনপি জামাত জোট সরকারের সময় খুন করা হয়েছে দৈনিক জন্মভূমি পত্রিকার সাংবাদিক হুমায়ুন কবির বালু সহ প্রায় আটজন সাংবাদিককে।

বি এন পি জামাত জোট সরকার সন্ত্রাস দমনের নামে যৌথ বাহিনী লেলিয়ে দিয়ে অপারেশান ক্লিন হার্ট নাম দিয়ে চালায় বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড। জোট সারকারের আমলে পাঁচ বৎসরে সন্ত্রাস দমনের নামে বিনা বিচারে প্রায় এক হাজার মানুষ নিহত হয়। এর মধ্যে অপারেশান ক্লিন হর্টের সময় যৌথ বাহিনীর হাতে ৫৬ জন,  র্যাব আর পুলিশের হাতে নিহত হয় ৯৫০ জন।

সে সময় সারা দেশজুড়ে সমাআলোচনার ঝড় উঠেছিল চট্টগ্রামের বিএনপি দলীয় এক সাংসদ এর বিরুদ্ধে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল তার প্রতিদন্দ্বী একই দলের আর একজন নেতা চট্টগ্রামের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী জামাল উদ্দীনকে তিনি অপহরন করে হত্যা করার পর লাশ গুম করে ফেলেছেন।  এ জঘন্য অভিযোগের সুষ্টু তদন্ত ও বিচার না করে এ নিয়ে সরকার নানা তালবাহানা ও লুকোচুরি করে। এর পর আসে আর এক আলোড়ন সৃষ্টিকারী ঘটনা ১০ট্রাক অস্ত্র পাচার। এখানেও সরকারী শীর্ষ পর্যায়ের মন্ত্রী থেকে শুরু করে, সরকারী কর্মকর্তা, গোয়েন্দা সংস্থার অনেক বড় বড় রাগব বোয়াল জড়িত ছিল। এর পর বগুড়ার বিভিন্ন স্থান থেকেও ব্যপক পরিমান অবৈধ অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়, পূর্বের ন্যায় এদের সাথেও শাসক দলের মন্ত্রী প্রতি মন্ত্রী, এম পি'র ভাই সহ বিভিন্ন উচ্ছ পদস্ত কর্মকর্তা জড়িত বলে অভিযোগ পাওয়া গিয়েছিল।

বিএনপি জামাত জোট আমলে দূর্নীতি দমন কমিশন গঠিত হয়েছিল বলে দাবী করা হলেও তা ছিল ঢাল তলোয়ার বিহীন নিধিরাম সর্দার। নীচু থেকে সরকারী শীর্ষ পর্যায়ে পর্যন্ত  দূর্নীতির অভিযোগ থাকলেও তা চেয়ে চেয়ে দেখা ছাড়া কমিশনের আর করার কিছুই ছিল না।

সরকারের প্যারালাল আর একটা সরকার চালাত প্রধান মন্ত্রীর পুত্র বনানীতে হাওয়া ভবনের প্রতিষ্টা করে। সেখানে চলত সরকারের বিভিন্ন কাজে হস্তক্ষেপ, দূর্নীতি, ষড়যন্ত্র,  বিরুধী দল নিশ্চিন্ন করার পরিকল্পনা সহ যাবতীয় অবৈধ কাজ। সরকারের  দূর্নীতির সুযোগ নিয়ে বেশ কিছু বড় বড় আমদানীকারক ও খুছরা ব্যবসায়ী নানা সুযোগে দ্রব্যমূল্য বাড়িয়ে দিয়ে এই পাঁচ বছরে বিপুল অর্থ বিত্তের মালিক হয়েছেন। সরকার তাদের বিরুদ্ধে  ব্যবস্থা না নিয়ে বরং পৃষ্টপোষকতা করেছেন। 

শিক্ষা খাতও বিএনপির এ আমলে দূর্নীতিমুক্ত ছিলনা। মাধ্যমিক শিক্ষা সংস্কারের পাঁচশ কৌটি টাকার প্রকল্প, অনিয়ম, দূর্নীতি, অদক্ষতার কারনে সফল হতে পারেনি।

সরকারী কোন কাজ পেতে বিশেষ স্থানে কমিশন দেয়া রেয়াজের মত হয়ে গিয়েছিল। এ এসকল অনৈতিক  কাজের হোতা ছিলেন প্রভাবশালী মন্ত্রী নেতা-নেত্রীর আত্মীয় স্বজন।

নির্বাচনী অঙ্গীকার মত নির্বাচিত জন প্রতিনিধি সহ প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও তাদের সম পর্যায়ের ব্যক্তিদের সম্পদের হিসাব দেয়ার সুনিদিষ্ট প্রতিশ্রুতি থাকলেও  ইচ্ছাকৃতভাবে  তা বাস্তবায়িত করা হয়নি। স্বায়ত্বশাসন দেওয়া হয়নি সরকারী  রেডিও টিভির। 

এশিয়ার বৃহত্তম পাটকল আদমজী বন্ধ করে দিয়ে তার সকল যন্ত্রপাতিসহ সবকিছু হরিলুট করা হয় এ জোট সরকারের আমলে। সে সময় দূর্নীতি এমন এক পর্যায়ে এসে ঠেকেছিল যে ট্রান্সপারেন্সী ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশকে পরপর চারবার দূর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ান হবার বিশ্ব রেকর্ড দিয়েছে।

       শুধু তাই নয় বিএনপি জামাত জোট সরকারের পাঁচ বছরে প্রশাসন জুড়েও ছিল ব্যাপক  অস্তিরতা, চুক্তি ভিত্তিক নিয়োগ, ওএসডি, চাকরিচ্যূতি, গন পদন্নোনতি, গন বঞ্চনা, জৈষ্টতা লঙ্ঘন, দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ বদলী।  এসব নিয়ম বহির্ভূত কারনে প্রশাসনে দেখা দেয় অস্তিরতা। তাছাড়া প্রায় সবকটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়েও ছিল দলীয় নিয়োগ। এ ব্যপারে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ছিল সবার শীর্ষে।

  চার দলীয় জোট সরকারের আমলে গড়ে উঠেছে হঠাৎ ধনী কিছু প্রভাবশালী মানুষের। এদের মধ্যে আছেন মন্ত্রী, সাংসদ, সরকারী দলের নেতা সহ তাদের কিছু ঘনিষ্ট ব্যবসায়ী। গনমাধ্যমে প্রভাব বিস্তারের জন্য তাদের টিভি চ্যানেল, বেতার কেন্দ্র এবং পত্রিকার অনুমোদন দেয়া হয়। আবার কেউ কেউ হয়েছেন বেসরকারি ব্যাঙ্কের চেয়ারম্যান বা পরিচালক।

স্থানীয় পর্যায়েও তৈরী হয়েছিল আরো প্রভাবশালী দূর্নীতিবাজ মানুষ। তারা টেন্ডারবাজি, কাজ ভাগাভাগি, চাঁদাবাজি, দখল এসব করে বিত্ত বৈভবের মালিক হয়েছিলেন।

বিএনপি জামাত জোট সরকারের সফলতা:- বিএনপি জামাত জোট সরকারের ২০০১-২০০৬ পর্যন্ত শাসন কাল অস্তির, অরাজক, অবস্থা থাকলেও তাদের সফলতা কিছু যে নাই তা নয়, বিএনপি অন লাইন প্রচারে বাংলাদেশ জাতিয়তাবাদী দল বিএনপি, সফলতা(২০০১-২০০৬) নিয়ে যে ফিরিস্তি উল্লেখ করেছেন সংক্ষেপে নিম্ন রূপ।

 তাদের সফলতা সম্পর্কে লিখতে গিয়ে বিএনপির লেখেন তারা সন্ত্রাসের লাগাম টেনে ধরার জন্য রেপিড এ্যকসন বেটেলিয়ান গঠন করেন।  দূর্নীতি দমনের জন্য গঠন করেন দূর্নীতি দমন কমিশন , মুক্তিযুদ্ধাদের ্জন্য প্রতিষ্টা করেন মুক্তিযুদ্ধা মন্ত্রনালয়।

 বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী গার্মন্টেস শিল্পকেও প্রদান করা হয় সরকারী সহায়তা। দেশের বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য দেশী বিদেশী এবং প্রবাসী বিনিযোগকারীদের  বিশেষ সুযোগ সুবিধা দিয়ে বিনিয়োগে আকৃষ্ট করেন।  

     যোগাযোগ খাতেও বি এন পি যতেষ্ট উন্নতি সাধন করে। চট্টগ্রামের নিউমোরিং টার্মিনাল নির্মান, বাংলাদেশ রেওয়ের আধুনিকায়ন, ভৈরবে  মেঘনা সেতু নির্মান, মুন্সীগঞ্জে  ধলেশ্বরী সেতু নির্মান, কর্ণফুলী নদীর উপর তৃতীয় সেতু নির্মানে অগ্রগতি, পদ্মা সেতু নির্মানের সম্ভাব্যতা যাচাই করে বিশ্বব্যঙ্ক সহ দাতা সংস্থার কাছ থেকে অর্থ সংস্থান। চট্টগ্রাম সিলেট এয়ার পোর্টে দুটি টার্মিনাল ভবন নির্মান, এসব বিএনপি জোট সরকারের আমলের উন্নয়ন।

নারীদের ক্ষমতায়ন ও মর্যাদা বৃদ্ধির লক্ষে ব্যবসায়ে আগ্রহী এবং আত্ম কর্ম সংস্থানমূলক কর্মে নিয়োজিত নারীদের জন্য সহজ শর্তে ঋনের সুবিধাও তারা প্রদান করেন।

  ২০০১সালে বি এন পি নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী ফাইবার অবটিক সাবমেরিন ক্যাবেল সংযোগের মাধ্যমে বাংলাদেশকে ইনফরমেসন হাই ওয়েতে পৌঁছে দেয়।

  তবে এ কথা বলতেই হবে যে পরিবেশ রক্ষায় চারদলীয় জোট সরকার পলিথিন ব্যাগ ব্যবহার নিষিদ্ধ এবং দুই স্টোক বিশিষ্ট বেবীটেক্সি তুলে দিয়ে পরিবেশ রক্ষায় বিরাট ভূমিকা রেখেছিল। এর ফলে ঢাকা শহর অনেকটা যানবাহনের ধূঁয়ামুক্ত হয়ে পরিবেশ দূষণ হতে অনেকটা মুক্ত হয়েছিল।  সারা দেশে পরিবেশ বান্ধব বৃক্ষ রোপনের ক্ষেত্রে বিএনপি জোট সরকারের যথেষ্ট অবদান ছিল। 

দেশে প্রবাসী শ্রমিকদের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রবাসী কল্যান মন্ত্রনালয় গঠন করে বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাস যাতে  জনসংখ্যা রফতানিতে যথাযথ ভূমিকা পালন করতে পারে সে প্রচেস্টাও এই জোট সরকারের আমলে চালানো হয়।

যুদ্ধাহত ও দুস্থ মুক্তিযুদ্ধা, দরিদ্র, দুস্থ নারী, পুরুষ, শিশু এবং অসহায় প্রবীন নাগরিকদের জন্য পর্যায়ক্রমে একটি কর্যকর সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরী করার লক্ষ্যেও তারা কাজ শুরু করেছিল। (সহায়ক সূত্র-বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি, সাফল্য,২০০১-২০০৬)

২৪তম পর্ব , চার পতি লতিফুর রহমানের তত্ত্বাবধারক সরকার:-



 


বিচার পতি লতিফুর রহমানের তত্ত্বাবধারক সরকার:-শেখ হাসিনা তার শাসনকালের পাঁচ বৎসর মেয়াদ শেষ করলে ত্রয়োদশ সংশোধনী অনুযায়ী সর্বশেষ অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি হিসাবে বিচারপতি লতিফুর রহমান ২০০১ সালের ১৫ই জুলাই তত্ত্বাবধারক সরকারের প্রধান হিসাবে দায়িত্বভার গ্রহন করেন। দায়িত্ব গ্রহনের তিরিশ মিনিটের মধ্যে তিনি ১৩জন সচিবকে ওএসডি করেন। তার অধীনে ২০০১সালের ১লা অক্টোবর অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্টিত হয়। দেশে বিদেশে এ নির্বাচনও ব্যাপক প্রশংসা পায়। বি এন পি এই নির্বাচনে দুই তৃতীয়াংশ আসন পেয়ে জয় লাভ করে। ১০ই অক্টোবর বিএনপি লতিফুর রহমানের কাছ থেকে ক্ষমতা গ্রহন করে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে সরকার গঠন করে। আর আওয়ামীলীগ ৫৮টি আসনে জয়লাভ করে প্রধান রিরুধীদলের মর্যাদা লাভ করে। আওয়ামীলীগ প্রথমে এ নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করে শপথ নিতে অস্বীকার করে। তারা বিচারপতি হাবিবুর রহমান ও তার উপদেষ্টা মন্ডলীর পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে ব্যাপক সমালোচনা করে। অবশ্য পরে আওয়ামীলীগ সাংসদরা শপথ গ্রহন করেন এবং বিরুধী দল হিসাবে সংসদে যোগ দেন। (সহায়ক সূত্র-লতিফুর রহমান,বিচারপতি, উইডিপিডিয়া,(তত্ত্বাবদায়ক সরকার)

  নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা:-২০০১ সালে নির্বাচন পরবর্তী চার দলীয় জোটের ক্যাডারদের সহিংসতায় ৪৩জেলায় ৬২টি স্থানে ৩৪২টি শিশু ধর্ষন, গনধর্ষন, লুটপাট, হামলা, মারপিট, ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ সহ নানা সন্ত্রাসী কর্মকান্ড সংঘটিত হয়েছিল।

এই হামলার প্রধান লক্ষ্যবস্তুু ছিল সংখ্যা লঘু সম্প্রদায় ও আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের বাড়ী ঘর,  এই হামলার টর্গেট ছিল বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে নারী এবং শিশু। দ্বিতীয় টর্গেট ছিল হিন্দু সম্প্রদায় ও আওয়ামীলীগ নেতা কর্মী ও সমর্থকদের জমি জমা, বসত বাড়ী, দোকান, ব্যবসা প্রতিষ্টান দখল।  তৃতীয় টর্গেট ছিল ভদ্র অবস্থাপন্ন পরিবারের উপর চাঁদাবাজী করা। আওয়ামীলীগকে ভোট দেবার কারনে ধর্ষীতা হয়েছে অনেক নারী, শ্লীলতাহানীর শিকার হয়েছে অনেক কিশোরী যুবতী।(২০০১ এর, চার দলীয় জোটের নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা)(সূত্র-Bangladashnews24x7.com)

২০০১সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনোত্তর সহিংসতার ঘটনা তদন্তের জন্য একটি মানবাধীকার সংগঠনের আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০০৯ সালে ৬ই মে ঘটনা তদন্তের জন্য সরকারকে নির্দেশ দেয় হাই কোর্ট। তার পেক্ষিতে যে তদন্ত কমিটি গঠিত হয়। এই কমিটি দীর্ঘ এক বৎসর তদন্ত শেষে তাদের কাছে ৫৫৭১টি অভিযোগ পেয়েছিল, তার মধ্যে ৩৬২৫টির তদন্ত করা হয়। তবে কমিশনের মতে সহিংস ঘটনা ঘটেছে ১৮ হাজারেরও বেশী। তদন্ত প্রতিবেদনে আরো বলা হয় বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ ও অসম্প্রদায়িক চেতনাকে ধংষ করে একটি উগ্র সম্প্রদায়িক দেশ হিসাবে বাংলাদেশকে বর্হিবিশ্বে পরিচিত করাই ছিল তাদের মূল উদ্দেশ্য। এ সহিংস ও নির্যাতনের ঘটনার সাথে বিএনপি জামাতের শীর্ষ কয়েকজন নেতার মদদ ছিল বলে প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছে। (২৫ এপ্রিল, ২০১১,(রেডিও তেহরান)

 

প্রান্তের ভাবনা:- প্রান্তু তার বাগদত্তা বান্ধবীর সাথে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে বেশ সুখেই আছে। বৃক্ষ যেমন ডাল পালা হারিয়ে মৃতবৎ হয়ে যায়, অনেকে মনে করে বৃক্ষটির মৃত্যু হয়েছে। হঠাৎ যখন তার ভিতর থেকে একটি কচি ডগা বের হয়ে দেখা যায় ধীরে ধীরে আবার মহিরুহে পরিনত হতে, তেমনি মুক্তিযুদ্ধে ধূলিস্যাৎ হওয়া প্রান্তের পরিবার আবার প্রান্ত নামের বৃক্ষ ডগা মেলে ফারজানার সাথে জুটি বেঁধে ফলে ফুলে মহিরোহে পরিনত হওয়ার স্বপ্ন দেখছে। অনেক দিন পর সবহারা প্রান্ত আবার একটি পারিবারিক জীবনের প্রবেশ করছে।

      এদিকে আওয়ামী লীগের পাঁচ বছর মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায়, স্বাভাবিকভাবে তত্বাবদায়ক সরকারের নিকট ক্ষমতা ছেড়ে দিয়ে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিতে লাগল আওয়ামীলীগ সহ সকল দল। প্রান্তর বেশ ভাল লাগল এইরূপ নির্বাচন কালীন একটা নিরপেক্ষ ব্যবস্থা হওয়ায়। সাধারন মানুষও এই ব্যবস্থায় অনেক খুশী। এখন থেকে নির্বাচন ঘনিয়ে আসলে দেশে নৈরাজ্যকর অবস্থার সৃষ্টি হবে না।

প্রান্ত যদিও  প্রত্যক্ষ রাজনীতি করেন না, কিন্তু দেশের রাজনীতি নিয়ে পূর্বের মত এখনো ভাবেন। তার স্ত্রী'র সাথে এসব নিয়ে প্রতিদিন সময় সুযোগ পেলে আলাপ আলোচনা-সমালোচনা করেন। রাজাকারের দম্ভ আস্ফালন দেখলে দুঃখিত হন, মক্তিযুদ্ধ শক্তির উত্থান দেখলে খুশী হন।

এবার আওয়ামী লীগকে হারিয়ে বিএনপি জিতেছে, তাতে প্রান্ত তেমন অখুশি হয়নি। কারণ একবার আওয়ামীলীগ একবার বিএনপি এভাবেই তো তারা দেশকে সামনে নিয়ে যাবে। তবে তার আশা ছিল বিএনপি অতীতের ভূল থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার দেশ শাসন করবে। স্বাধীনতার পক্ষের অবস্থানে থেকে রাজনীতি করবেন। মৌলবাদ, সাম্প্রদায়িক শক্তির সাথে গাঁটছাড়া পরিহার করবেন। কিন্তু কি করল তারা? শীর্ষ নেতাদের নির্দেশে নির্বাচনের অব্যবহিত পরেই সারা দেশে হিন্দু সম্প্রদায়, আওয়ামী সমর্থকদের জান মাল, সহায় সম্পত্তির উপর আক্রমন শুরু করে দিল। যুবতী নারী, কিশোরী, এমনকি শিশুদের পর্যন্ত ধর্ষন করে, অত্যাচার করে হত্যা করল। দেশবাসী অবাক বিস্ময়ে এসব দেখল। দেখে দুঃখিত হওয়া ছাড়া প্রান্তের তো আর করার কিছুই নেই, একমাত্র ব্যথিত মনে তার স্ত্রীর সাথে এসব নিয়ে আলোচনা করা ছাড়া।, দেশের জন্য অনেক কষ্ট হয় প্রান্তের। কারন দেশটা তো তারাই অস্ত্র ধরে রক্ত দিয়ে স্বাধীন করেছে।  স্ত্রীকে প্রশ্ন করে বিএনপিতে সুস্থ মাথার কেউ কি নেই?  থাকলে এরকম ত হবার কথা নয়। তাদের মিত্র জামাতের কথা নাইবা বললাম। তাদের ইতিহাস তো সবার জানা। প্রান্তর তখন বিএনপি জন্য দুঃখবোধ হল, তখন তার একজন মনীষীর একটি উক্তির কথা মনে পরে যায়, উক্তিটি হল "ইতিহাসের শিক্ষা হল, ইতিহাসের শিক্ষা থেকে কেউ শিক্ষা নেয় না।"

এ উক্তিটি অওড়াতে অওড়াতে এক সময় উদাস আকাশে অপলক দৃষ্টিতে চেয়ে থাকতে থাকতে নিজেকে হারিয়ে ফেলল এক অনাকাঙ্খিত দুঃখ বোধের গভীরতায়।

২৩তম পর্ব শেখ হাসিনার প্রথম শাসনকাল(৯৬-২০০১-১৯৯৬)



 

  শেখ হাসিনা :-বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠ কন্যা শেখ হাসিনারও রাজনীতিতে আগমন কোন সুখকর বিষয় ছিল না। ১৯৭৫ সালে ১৫ই আগষ্ট বঙ্গবন্ধু স্বপরিবারে নিহত হলে তিনি ভারতে কিছুকাল স্বনির্বাসিত জীবন যাপন করেন। ১৯৮১ সালে ৬ বৎসর নির্বাসিত জীবন যাপনের পর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হয়ে বাংলাদেশে ফিরে আসেন। শেখ হাসিনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রী লাভ করেন। ছাত্র জীবনে তিনি রোকেয়া হল শাখা ছাত্র লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। বরাবরই  ছাত্রাবস্থায় তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের পর বিধ্বস্ত আওয়ামী লীগকে নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও সুসংগঠিত করে দীর্ঘ ২১ বৎসর পর ১৯৯৬ সালে ক্ষমতার বন্দরে এনে ভিড়ান। (সহায়ক সূত্র-বাংলা পিডিয়া,শেখ হসিনা)

শেখ হাসিনার প্রথম শাসনকাল(৯৬-২০০১):-১৯৯৬ সালে ১২ জুন তত্বাবদায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্টিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ১৪৬টি আসন পেয়ে জয়লাভ করে। বি এন পি ১১৬টি আসন পেয়ে ২য় অবস্থান দখল করে বৃহত্তর বিরুধী দলের মর্যাদা লাভ করে। ২৩শে জুন শেখ হসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে।

ক্ষমতা গ্রহনের পরই তার সরকার আইনের শাসন, গণতন্ত্র, আর্থসামাজিক প্রগতিকে একটা ভিতের উপর দাঁড় করানোর প্রয়াস ছিল লক্ষনীয় । রাষ্টপতি ছিল দেশে একটি সর্বোচ্ছ সাংবিধানিক পদ। তিনি এপদকে সকল বিতর্কের উর্ধে রাখতে দলীয় ব্যক্তির পরিবর্তে নিরপেক্ষ ব্যক্তি বিচারপতি সাহাবুদ্দিন আহামদকে প্রসিডেন্ট হিসাবে মনোনয়ন দেন।

তিনি সরকারের সচ্ছতা এবং জবাবদীহিতা নিশ্চিত করতে ৩৫টি রেকর্ড সংখ্যক সংসদীয় কমিটিতে মন্ত্রীর পরিবর্তে সরকার ও বিরুধীদলের সাংসদের সভাপতি করেন। সুশাসন, আইনের সময়োপযুগী পরিবর্তনের জন্য প্রাশাসনিক ও আইন সংস্কার কমিটি গঠন করেন।

দারিদ্র বিমোচন, নারীর ক্ষমতায়ন, মানব সম্পদ উন্নয়নে নেয়া হয় বাস্তব পদক্ষেপ। সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী সম্পসারিত করা হয়। আগামী শতাব্দীর কথা বিবেচনায় রেখে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যনীতি প্রনয়ন করেন।

 সরকার কতৃক গৃহীত উদ্যোগের ফলে ১৯৯৯ সালের ১৭ই নভেম্বর ইউনেস্কো ভাষা দিবস ২১শে ফেব্রুয়ারীকে আন্তর্জাতিক মাতৃ ভাষা দিবস হিসাবে ঘোষনা করে। শেখ হাসিনা সরকারের আমলে গঙ্গার পানি চুক্তি, পার্বত্য শান্তি চুক্তি সাক্ষর ও বাস্তবায়ন প্র্রক্রিয়া শুরু হয়।

 বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবােরর হত্যাকারীদের আইনী সুরক্ষা দিতে যে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারী করা হয়েছিল তা বাতিল করে আইনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় বঙ্গবন্ধুর খুনীদের বিচারে সোপর্দ করে সত্য ও ন্যায়ের প্রতি তিনি তার অঙ্গীকার অক্ষুন্ন রাখেন। বিএনপি আমলে শুরু হওয়া যমুনা সেতুর কাজ ধারাবাহিকতা বজায় রেখে তাঁর আমলে সম্পন্ন হয়। তাঁর শাসন আমলে জিডিপির হার সাড়ে পাঁচ শতাংশে উন্নীত হয়। ২০০০সালে হাসিনা সরকার খাদ্যেও স্বয়ংসপূর্ণতা অর্জন করে। ২০০০-২০০১ সালে খাদ্য উৎপাদন দাঁড়ায় ২৬.৫মিলিয়ন মেট্রিক টনে। তিনি টেলি যোগাযোগ খাতকে ব্যক্তিখাতে উন্মুক্ত করে দিয়ে লেলুলার ফোনের মনোপুলি ব্যবসা ভেঙ্গে দিয়ে তা সাধারনের নাগালের মধ্যে নিয়ে আসেন।

  তিনি সামাজিক নিরাপ্ত্তা বেস্টনীর অংশ হিসাবে সারা দেশে বয়স্ক ভাতার ব্যবস্থা, গৃহহীনদের জন্য আশ্রয়ণ, বেকারদের জন্য কর্মসংস্থান ব্যঙ্ক, প্রতিবন্ধীদের প্রশিক্ষনের জন্য প্রতিবন্ধী ফাউন্ডেশান প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর আর একটি উল্লেখযোগ্য জনকল্যান মূলক প্রকল্প হল একটি বাড়ী একটি খামার।

তিনি নারীর কক্ষমতায়নের লক্ষে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নারীদের জন্য তিনটি আসন সংরক্ষিত রাখার ব্যবস্থা রাখেন। তার প্রনীত জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি নারী পুরুষের সমতা আনয়ন, তাদের আর্ত সামাজিক উন্নয়নের মাধ্যমে, নারীদের উন্নয়নের মূল স্রোত ধারায় আনায়ন নিশ্চিত করার আর একটি শুভ উদ্যোগ।  শিশুদের সুষ্টভাবে বেড়ে উঠার লক্ষেও তিনি শিশুদের জন্য একটি কর্মপরিকল্পনা অনুমোদন করেন।

 শেখ হাসিনার এ সকল উদ্যোগ ও কর্ম পরিকল্পনা পরবর্তীতে জাতীয় উন্নয়নের স্রোতধারাকে অনেক বেগবান করেছে তা নিঃসন্দেহে বলা যায়।

সমালোচকরা বলেন শেখ হাসিনার সরকার ৯৬ সালে ক্ষমতা গ্রহনের পর প্রশাসনের সর্বস্তরে দূর্নীতি, স্বজন প্রীতি, আনুগত্য প্রীতির ভাইরাস আক্রমন করে। ফলে প্রশাসনে নেমে আসে স্থবিরতা । অনেকে অভিযোগ করে বলেন, দলীয় অনুগত কর্মচারী কর্মকর্তার অংশ 'আমরা রাজপথে নামার পর বিএনপি সরকার ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হয়েছে'। এরূপ আলোচনা সমালোচনায় ছয় মাস অতিবাহিত করে। গল্প গুজবের সাথে সাথে তারা আওয়ামী ঘনিষ্টতা বাড়ানোর জন্য প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়। ভাল লোভনীয় পোষ্ট ভাগিয়ে নেয়ার জন্য মন্ত্রীদের বা প্রধানমন্ত্রীর পূর্ব পরিচিত আপন জনদের বাড়ীতে যাতায়াত শুরু করেন। অনেকে সক্ষমও হন এপদ ভাগিয়ে নিতে।

১৯৯৬ সালে সচিবালয়ে কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে এক ভাষনদানকালে প্রধানমন্ত্রী ছয় মাসের মধ্যে নতুন বেতন কাঠামো দেয়ার কথা ঘোষনা করেন। কিন্তুু প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তা বাস্তবায়িত হয়নি। সচিবালয় দেশের সকল প্রশাসনিক কাঠামোর প্রধান অঙ্গ। এই অঙ্গকে নিজের আয়ত্তে রাখতে শেখ হাসিনা সরকার অনুগতদের মধ্য থেকে পছন্দমত সচিব পর্যায়ে রদবদল করেন। বিগত (৯১-৯৬)সরকারের নিয়োগকৃত বা অপ্রকাশ্য দলীয় আনুগত্যদের খুঁজে বের করে আওয়ামী রাজত্ব প্রতিষ্টার জন্য তালিকা অনুশারে এগিয়ে যাওয়া হয়। সারা দেশের জেলা ও থানা পর্যায়ের ডিসি, এডিসি ও টিএনওদের দলীয় দৃষ্টিকোণ থেকে পোষ্টিং দিয়ে মাঠ পর্যায়ে প্রশাসনকে ঢেলে সাজানো হয়। এভাবে প্রশাসনকে তাঁর আমলে দলীয়করন করা হয় বলেও অভিযোগ আছে।

সিভিল প্রশাসনের মত পুলিশ প্রশাসনেও ব্যপক পরিবর্তন আনা হয়। বি এন পি আমলে পোস্টিং প্রাপ্ত অধিকাংশ পুলিশ সুপরকে প্রত্যাহরা করে কম গুরুত্বপূর্ণ ও ক্লারিকেল পদে বসানো হয়। ডিআইজি, এডিশনাল আইজি পদে ৭৩এর ব্যাচ খুঁজে খুঁজে পোষ্টিং দেয়া হয়।

  হাসিনা সরকারের আমলে সর্বাধিক চুক্তি ভিত্তিক নিয়োগ দেয়া হয়।  চুক্তি ভিত্তিক নিয়োগকে কেন্দ্র করে প্রশাসনে ব্যাপক ক্ষোভ দেখা দেয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের অধিনস্ত বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাস সমূহের ৪৮টি মিশন প্রদানের মধ্যে ১৭টিই ছিল চুক্তি ভিত্তিক। এছাড়া অনেক আওয়ামীলীগ নেতাকেও চুক্তি ভিত্তিক রাষ্টদূত বা হাইকমিশনার পদে নিয়োগ দেয়া হয়। (সূত্র,দৈনিক দিনকাল,১৭ই আগষ্ট, ১৯৯৯)

একটি প্রগতিশীল, জবাবদীহি মূলক সংবেদনশীল সুউচ্ছ মানদন্ডের  প্রশাসনিক ব্যবস্থা সকল দেশের জন্য আশির্বাদ হিসাব গন্য হয়ে থাকে। কিন্তু আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে এরূপ প্রশাসনিক কোন ব্যবস্থা দেশে ছিল না বলে অভিযোগ উঠে। 

আরো অভিযোগ উঠে যে আওয়ামী সরকারের তিন বছরের মাথায় সচিবালয়কে মেধাশূন্য করার পাঁয়তারা চলে। সচিবালয়ের ৯৭১টি পদের ৮১৫টি পদ অর্থাৎ ৮৪% পদ বিশেষ ক্যাডারের হাতে চলে যায়। উপ সচিবের ৭০ -৭৫টি পদ রিজার্ভ করে রাখা হয় এ ক্যাডারদের জন্য। (সূত্র, দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা, ২রা ডিসেম্বর) 

 

 

সমালোচনাকারীরা অভিযোগ করেন এভাবে আওয়ামী প্রশাসনের রন্দ্রে রন্দ্রে দূর্নীতি ছড়িয়ে পড়ে। দূর্নীতির গ্রাস থেকে রক্ষা পাবার কোন উপায় ছিল না। একেবারে নিম্ন স্তর থেকে উচ্ছস্তর কোনখানে সহজ এবং স্বাভাবিকভাবে কোন কিছু করার উপায় ছিল না। সাধারন মানুষ দূর্নীতিগ্রস্ত প্রশাসনের নিকট জিম্মি ছিল। তথ্য মাধ্যমের উপরও ছিল সরকরের একাধিপত্য, তাছাড়া বিরুধী দলের উপর নির্যাতনও চলে সমান তালে। এসব কিছু পর্যবেক্ষন করে ২০০০ সালে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যশনাল বাংলাদেশকে বিশ্বের এক নম্বর দূর্নীতিগ্রস্ত দেশের তকমায় ভূষিত করে। (সূত্র,দৈনিক যুগান্তর, ৪ঠা ফেব্রুয়ারী,২০০০, জুন ২০০১,) (সহায়ক সূত্র-প্রশাসনের সর্বস্তরে দূর্নীতি, জিবলু রহমান face book,post)

আওয়ামীলীগের বিরুদ্ধে আর একটি চরম অভিযোগ হচ্ছে ১৯৯৬ সালের শেয়ার বাজার কেলেঙ্কারী। শেখ হাসিনা প্রথমবারের মত ক্ষমতায় আসার পর শেয়ার বাজারে নামে ধস। ফলে ঘটে মহা বিপর্যয়। সে কারনে  অনেক ছোট খাট বিনিয়োগকারী পুঁজি হারিয়ে পথে বসে। দূর্নীতির মাধ্যমে এ ধস নামিয়ে হাজার হাজার কৌটি টাকা লুট পাট করা হয়েছে বিশ্লেষকরা মনে করেন। 

২২ তম পর্ব ”পাকিস্থান থেকে বাংলাদেশ চোখে দেখা রাজনীতি’র”(১৯৪৭--২০১৭) এ পর্বে আছে খালেদা জিয়ার শাসনকাল (১৯৯১-১৯৯৬):





খালেদা জিয়ার শাসনকাল (১৯৯১-১৯৯৬):-১৯৯১সালে পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বি এন পি ১৪০টি আসন লাভ করে। তখন  সরকার গঠনের জন্য তার আরো এগারটি আসনের প্রয়োজন। সে জন্য বি এন পি সংসদে ১৮ আসন পাওয়া মুক্তিযুদ্ধ বিরুধী জামাতের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করে। স্বাধীনতা বিরুধী জামাত সমর্থিত এ সরকারের তিনি প্রথমবারের মত ১৯৯১ সালের ২০শে মার্চ প্রধান মন্ত্রী নিযুক্ত হন। প্রেসিডেন্ট পদ্ধতির সমর্থক বিএনপি  সকল দলের ইচ্ছার প্রতি নমনীয় হয়ে সংসদীয় সরকার পদ্ধতির পক্ষে অবস্থান নেয়। ফলে দেশে পুনরায় সংসদীয় পদ্ধতির সরকার কয়েম হয়। সেজন্য ২রা এপ্রিল তিনি সরকারের পক্ষে সংসদে এই বিল উত্থাপন করেন। একই দিনে তিনি তত্ত্বাবদায়ক সরকরের প্রধান বিচারপতি সাহাবুদ্দিন আহমদকে স্বপদে ফিরে যাবার ব্যবস্থা করে একাদশ সংশোধনী বিলও আনেন।(যার ফলে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনের পর আবার প্রধান বিচার পতির পদে ফিরে যান)  ৬ই আগষ্ট ১৯৯১ সালে এ দুটি বিল সংসদে পাশ হয়।

   বেগম জিয়া তাঁর প্রথম মেয়াদের শাসনামলে বেশ কিছু ভাল পদক্ষেপ নেন। শিক্ষা ক্ষেত্রে তিনি অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা প্রবর্তন করেন, দশম শ্রেনী পর্যন্ত মেয়েদের বিনা বেতনে লেখা পড়ার সুযোগ প্রদান করেন, ছাত্রীদের জন্য উপবৃত্তি, শিক্ষার বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচী চালু করেন। সারা দেশে বনায়নের লক্ষে বৃক্ষ রোপন কর্মসূচী গ্রহন করেন। তখন তার সরকারের সময়ই যমুনা বহুমুখী সেতুর নির্মান কাজ শুরু হয়। দক্ষিন এশিয়া সহযোগিতা পরিষদ সার্ককে গতিশীল করতে তিনি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখেন। ১৯৯১সালে খালেদা জিয়া  ক্ষমতা গ্রহনের ৩৯দিনের মাথায় দেশের দক্ষিনাঞ্চলে স্বরণকালের ভয়াবহতম এক ঘুর্নীঝড় ও জলোচ্ছাস আঘাত হানে। সরকার এ দূর্যোগপূর্ণ পরিস্তিতি মোটামুটি ভালভাবে সামাল দিতে সক্ষম হয়।  খালেদা সরকার পশুসম্পদ খাতকেও পৃষ্টপোষকতা দান করেন। ফলে দেশে অসংখ্য হাঁস মুরগী ও গবাদী পশুর খামার গড়ে উঠে। তার আমলে প্রথম বারের মত উৎপাদন ও আমদানী পর্যায়ে মূল্য সংযোজন কর প্রবর্তন করা হয়। যার মাধ্যমে রাজস্ব আহরনে নতুন দূয়ার উন্মুক্ত হয়। খালেদা জিয়া একটি জাতীয় ও একটি উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি প্রথম সিএনএন এনং বিবিসিকে  সম্পচারের অনুমতি দেয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশে আকাশ  সংস্কৃতির উন্মোচন করেন। তার আরো কিছু ভাল উদ্যোগের মধ্যে চাকুরীতে প্রবেশের ক্ষেত্রে বয়সের সময় সীমা ২৭ থেকে বাড়িয়ে ৩০ এ করা, পেনশন অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজতর করা, সরকারী চাকুরেদের মৃত্যুর ক্ষত্রে বিধবা এবং সন্তানদের আজীবন পেনশনের ব্যবস্থা করা অন্যতম। 

 

শ্রমিকদের জন্যও ১৭টি খাতে নূন্যতম মজুরী নির্ধারন, শেয়ার বাজার তদারকীর জন্য সিকিউরিটি এক্সচেঞ্জ গঠন। ইত্যাদী বেশ কিছু ভাল কাজ করে গেছেন তা অস্বীকার করার যু নেই।(জিয়া, বেগম খালেদা জিয়া বাংলা পিডিয়া)

তার বেশ কিছু ভাল কাজের মধ্যে আবার অনেক কার্যাবলী তার সরকারকে বিতর্কিত এবং তাঁর শাসনকালকে অনেক কলঙ্কিত ও সমালোচিত করেছে।

    ৯১ এর গনজাগরনে সামরিক স্বৈরাচারের পতনের পর গণতন্ত্রের পথে অগ্র যাত্রা হওয়ায় ছিল সবার প্রত্যাশা।  কিন্তু যুদ্ধাপরাধীদের সাথে গোপন আঁতাত করে তারা নির্বাচনী বৈতরনী পার হন। আবার নির্বাচনের পর তাদের সমর্থনে সরকার গঠন করেন। বেগম জিয়াও তাঁর স্বামী স্বৈরশাসক জিয়া এবং স্বৈরশাসক এরশাদের পদাঙ্ক অনুশরন করে স্বাধীনতা বিরুধী সাম্প্রদায়িক মৌলবাদী শক্তির সাথে হাত মিলিয়েছিলেন।  সামরিক স্বৈরাচারের গতানুগতিক পথেই হেঁটে বঙ্গবন্ধুর খুনীদের আশ্রয় প্রশ্রয় দিয়ে স্বৈরশাসকদের কলোষিত  ধারা বজায় বেখেছিলেন। বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের সেই  শোকাবহ ১৫ই আগষ্টকে হঠাৎ করে তাঁর জন্ম দিন হিসাবে পালন করে সারা জাতির নিকট নিন্দর পাত্রও হন। তার এ সকল কর্মকান্ডে  স্বৈরাচার বিরুধী  আন্দোলনে গড়ে উঠা ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক সংস্কৃতির যে একটি সুষ্টু ধারা রাজনৈতিক অঙ্গনে সৃষ্টি হবার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছিল তা অঙ্কুরে বিনষ্ট হয়। তিনিও তাঁর স্বামীর মত আর এক স্বাধীনতা বিরুধী পাকিস্থানী দালাল আব্দুর রহমান বিশ্বাসকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করেছেন। এরশাদের মত বঙ্গবন্ধুর খুনীদের গঠিত ফ্রিডম পার্টিকে রাষ্ট্রীয় পৃষ্টপোষকতা প্রদান করেছিলেন। এমনকি তিনি ১৯৯৬ সালের একতরফা ভোটারবিহীন নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর খুনীদের গঠিত ফ্রিডম পার্টিকে সংসদে প্রধান বিরুধী দলের মর্যাদা প্রদান করেছিলেন। এরশাদের আমলে জন্ম নেয়া হরকাতুল জেহাদ আল ইসলামী বাংলাদেশ (হুজি-বি) খালেদা জিয়ার আমলে ১৯৯২ সালের ৩০শে এপ্রিল দম্ভের সাথে জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে আত্ম প্রকাশ করে। এবং তার এই পাঁচ বৎসরে এটার প্রসার ও বিস্তার ঘটে। উল্লেখ্য পরবর্তীতে এই মৌলবাদী সংগঠনটি যশোরে উদীচি অনুষ্টানে বোমা হামলা, খুলনায় আহমদিয়া মসজিদে বোমা হামলা, গোপালগঞ্জের কোটালী পাড়ায় শেখ হাসিনার জণসভাস্থলে এবং হেলিপেডে বোমা পেতে রাখা, রমনার বটমূলে হামলা, গোপালগঞ্জের বানিয়াচর এ গীর্জায় হামলা, নারয়নগঞ্জে আওয়ামীলীগ অফিসে বোমা হামলা সহ অসংখ্য জঙ্গী হামলার হোতা।

আরো একটি বিষয় লক্ষনীয় যে খালেদাজিয়া যদিও চাপে পরে সংসদীয় পদ্ধতি গ্রহণ করেছিলেন, কিন্তু বাস্তবে তা তিনি মনে প্রাণে মেনে নিতে পারেন নি। সে জন্য তিনি প্রায় সময়ই সংসদে উপস্তিত থাকতেন না। সংসদ কর্যকর থাকা সত্বেও সংসদে বিল উত্থাপন না করে স্বৈরশাসকের মত অধ্যাদেশের মাধ্যমে আইন চালু করতে পছন্দ করতেন। সংসদে বিরুধী দলকে কথা বলার সুয়োগ না দেওয়ার কারনে সংসদ এক হৈ চৈ এবং বিশৃঙ্খলার  আড্ডা খানায় পরিনত হয়েছিল। তিনি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করে এবং জাতির জনককে হেয় করার জন্য জিয়াকে স্বাধীনতার ঘোষক বানিয়ে একটি সংবিধান স্বীকৃত সত্যকে বিতর্কিত করেন এবং জেঃ জিয়াকে স্বাধীনতার ঘোষক হিসাবে রাষ্টীয়ভাবে প্রতিষ্টিত করার চেষ্টা চালিয়েছিলেন।  যদিও জিয়া জীবদ্ধশায় কখনো স্বাধীনতার ঘোষক হিসাবে নিজেকে দাবী করেন নাই। শুধু তাই নয় মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাসকে লুক্কায়িত করে নিজেদের ফরমায়েসী মানুষদের দিয়ে পাঠ্য পুস্তকে মুক্তিযুদ্ধের মেকী ইতিহাস উপস্থাপন করে নতুন প্রজন্মকে ভূল ইতিহাস শিক্ষা দিয়েছেন।

খালেদার আর একটি ব্যর্থতা হল বিরুধী দলকে আস্থায় আনার মাধ্যমে দেশে একটি সুষ্টু রাজনৈতিক ধারা সৃষ্টির বিরল সুযোগ সৃষ্টি হওয়া সত্বেও তার কিছু হটকারী কার্যকলাপ(যেমন, ১৫ আগষ্ট জন্মদিন পালন,ফ্রিডম পার্টিকে রাষ্ট্রীয় পৃষ্টপোষকতা, সংসদে বিরুধীদকে যথাযথ  মর্যাদা না দেওয়া) তা কাজে লাগাতে পারেনি। তার ভার ধারাবাহিকভাবে জাতিকে আজো বয়ে বেড়াতে হচ্ছে।

১৯৯৩ সালে সর্ব প্রথম জামাত, তারপর আওয়ামীলীগ তত্বাবদায়ক সরকার সংক্রান্ত বিল সংসদ সচিবালয়ে পেশ করে। এ বিলে তারা জাতীয় নির্বাচনকে অবাধ ও নিরপেক্ষ  করার লক্ষে নির্বাচনের সামগ্রীক প্রক্রিয়াকে ক্ষমতাসীন দলের প্রভাব মুক্ত করার জন্য  তত্ত্বাবদায়ক সরকারের বিল সংবিধানে সংযোজন করা উচিৎ বলে মত দেন। পরে ১৯৯৪ সালের ২০শে মার্চ মাগুরা উপনির্বাচনে ভোট কারচুপি করে সরকার তাদের প্রার্থীকে জিতিয়ে আনায় সরকারের  মিত্র জামাত, এবং আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টিসহ  সকল রাজনৈতিক দল বি এন পি'র উপর আস্থা হরিয়ে ফেলে। এই আস্থার সংকটের কারনে সকল রিরুধী দল যে তত্ত্বাবদায়ক সরকারের দাবী এতদিন হালকাভাবে করে আসছিল তা আরো জোরালো হয়। সকল বিরুধীদল সিদ্ধান্ত নেয় এ সরকারের অধীনে তারা আর কোন নির্বাচনে অংশ গ্রহন করবেনা। সেই প্রক্ষাপটে ১৯৯৪সালের ২৭জুন আওয়ামীলীগ জামাত যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তত্ত্বাবদায়ক সরকারের রূপরেখা তুলে ধরে।  তৎকালীন প্রধান মন্ত্রী খালেদা জিয়া এ প্রস্তাবের বিরুধীতা করে বলেন 'এ প্রস্তাব অসংবিধানিক এবং অবাস্তব।' তিনি আরো বলেন, 'একমাত্র পাগল আর শিশু ছাড়া কোন মানুষের পক্ষে নিরপেক্ষ হওয়া সম্ভব নয়।'

 এভাবে সরকার ও বিরুধী দলের মধ্যে তত্বাবদায়ক ইস্যু নিয়ে শুরু হয় মতানৈক্য। সরকার, বিরুধী দল এমনকি কমনওয়েলথ মহা সচিব স্যার নিনিয়ান এসেও তত্বাবদায়ক ইস্যুতে সরকার এবং বিরুধী দলকে সমঝোতায় আনতে ব্যর্থ হন। এবং বিফল মনোরতে ফিরে যান। 

এরপর শুরু হয় বিরুধীদল গুলোর তত্বাবদায়ক সরকার প্রবর্তনের জন্য হরতাল, অবরোধ, সংসদ থেকে পদত্যাগ।  এই সকল হরতাল অবরোধের মত চরম কর্মসূচীর মধ্যে সরকার, জোর করে জাতীয় সংসদ নির্বাচন করিয়ে নেয়। বিরুধীদল আওয়ামীলীগ, জাতীয় পার্টি, জামাতে ইসলামী  সহ অন্যান্য আরো বিরুধী দল এ নির্বাচন বর্জন করে চরম পন্তা অবলম্বন করে ডাক দেয়  অসহযোগ আন্দোলনের।  এই অসহযোগ আন্দোলনে শেখ হাসিনার নির্দেশে ঢাকার মেয়র হনিফের তত্থাবধানে প্রেস ক্লাবের সামনে আন্দোলনকে আরো গতিশীল ও চাঙ্গা করার %$#@#$%&%$#@জন্য একটি বিরাট মঞ্চ তৈরী করা হয় , যার নাম দেয়া হয়েছিল জনতার মঞ্চ। এই মঞ্চে শিল্পী, সাহিত্যিক পেশা জীবি, ছাত্র শ্রমিক জনতা সকলে একাত্ব ঘোষনা করে আন্দোলনকে বেগবান করে তুলে। এ মঞ্চকে ঘিরে লাগাতর ধর্মঘট ও জনতার প্রতিবাদ দেশের সকল স্থানে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে এবং আন্দোলনকে আরো দৃড়তর করে তুলে।

এভাবে তত্বাবদায়ক সরকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশের প্রশাসন তথা আমলাতন্ত্রের ভিত ভেঙ্গে পড়ে। সরকারী আধা সরকারী সংস্থার কর্মচারীরা বিভিন্ন ট্রেড ইউনিয়নের সাথে মিলে  আন্দোলনে সমর্থন দিয়ে জনতার মঞ্চে এসে শামিল হতে থাকেন। বেশ কয়েকজন সচিব সহ উচ্চ পর্যায়ের কিছু কর্মকর্তা ২৭শে মার্চ রাষ্ট্রপতির সাথে দেখা করে দেশের আইন শৃঙখলা জনিত ও অর্থনৈতিক পরিস্তিতির উপর তাদের উদ্বেগ প্রকাশ করে ছয় দফা ভিত্তিক একটি প্রস্তাব রাষ্ট্রপতির নিকট হস্তান্তর করে বলেন,  রাষ্ট্রপতি যতক্ষন পর্যন্ত না তত্ত্বাবদায়ক সরকার গঠন না করেন ততক্ষন পর্যন্ত তারা দায়িত্ব পালনে বিরত থাকবেন।

 এদিকে ১৯শে মার্চ খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ৪৭সদস্যের একটি নতুন মন্ত্রী সভার মধ্য দিয়ে নতুন সরকার গঠিত হয়। এক তরফা নির্বাচনে নব গঠিত সংসদে ২৫ শে মার্চ রাতভর  আলোচনা শেষে ২৬ মার্চ ভোররাতে তত্বাবদায়ক সরকরের বিল পাশ করা হয় যা সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী হিসাবে গৃহীত হয়।  চার কার্য দিবস চলার পর ৩০ মার্চ খালেদা জিয়া প্রধান মন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে রাষ্ট্রপতিকে সংসদ ভেঙ্গে দেওয়ার পরামর্শ দেন। এ সংসদের মেয়াদ ছিল ১৯শে মার্চ থেকে ৩০শে মার্চ পর্যন্ত।  এভাবে জনতার দাবীর কাছে নতি স্বীকার করে ক্ষমতা ছাড়েন খালেদা জিয়া।(সহায়ক সূত্র-তত্ত্বাবদায়ক সরকার, অতীত ও ভ্যবিষ্যত, online)

তত্ত্বাবদায়ক সরকারের শপথ গ্রহন:-স্বৈরাচার  এরশাদের পতনের মত আর এক গন অভ্যুত্থান সৃষ্টির  মাধ্যমে বেগম খালেদা জিয়ার একতরফা নির্বাচনে গঠিত ২য় সরকারের  পতন ঘটে। বিরাজমান বিশৃঙ্খলা, অস্তিতিশীলতা, অগনতান্ত্রিক শক্তির উত্থানের আশংকা, এ রকম এক সংকটময় সময়ে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর অধীনে সর্বশেষ অবসর প্রাপ্ত বিচারপতি, বিচারপতি হবিবুর রহমানের নিকট দায়িত্ব এসে পড়ে তত্ত্বাবদায়ক সরকােরর প্রধান উপদেষ্টা হিসাবে দায়িত্ব পালনের। ৩০শে মার্চ তিনি বঙ্গবভনে শপথ গ্রহন করেন।  স্বীয় প্রজ্ঞা এবং সাহসিকতায় সকল সমস্যা মোকাবিলা করে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে ১৯৯৬ সালের সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন করে দেশে গণতন্ত্র সুনিশ্চিত করেন।  এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ১৪৭টি আসন পেয়ে বিজয়ী হয়। বি এন পি ১১৬টি আসন পেয়ে বৃহত্তর বিরুধী দলের এবং জাতীয় পার্টি ৩২টি আসন পেয়ে দ্বিতীয় বৃহত্তর দলের মর্যাদা লাভ করে।

   প্রান্তের ভাবনা:- প্রান্ত এইবার আগে থেকে তার বান্ধবী ফরজানা বীথিকে বলে রেখেছে  আওয়ামীলীগ তার ভূল থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার তাদের ষ্টেটেজি সাজিয়েছে।  জাতিকে যেভাবে বিভ্রান্ত করা হয়েছে তা কিভাবে মোকাবেলা করে জনগনের কাছে যাওয়া যায় সে রকম একটা ষ্টেটিজি নিয়ে আওয়ামী লীগ এগুচ্ছে। ধর্মকে প্রাধান্য দেওয়া, নেত্রীর ধর্মীয় লেবাস ধারন করা, আওয়ামী লীগকে ভোট দিলে যে এদেশ ভারত হবে না, মসজিদে উলু ধ্বনী হবেনা, দূর্ভিক্ষ হবারও কোন আশঙ্কা নেই তা তাঁর দল তথা আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনা মোটামুটি জনগনকে বুঝাচ্ছেন। তিনি জনগনের নিকট ভোট ভিক্ষা চেয়ে অনুরোধ করে বলছেন অন্তত আওয়ামী লীগকে একবার ভোট দিয়ে দেখতে আওয়ামীলীগ দেশকে ভারতের হাতে তুলে দেয় কিনা। জনগন তার কথায় আস্থা রেখে তাকে ভোট দিয়ে জয় এনে দিয়েছে ।


আওয়ামী লীগ যখন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে প্রথমবার ক্ষমতায় আসে প্রান্ত স্মৃতি কতর হয়ে পড়ে। সেই বঙ্গবন্ধুর আমলের কথা তার মনে পড়ে যায়।  দীর্ঘ দুই দশকের অধিক কাল ক্ষমতার বাইরে থেকে ৯৬এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের এ বিজয়ে অনেক দিনের নির্বাসিত বঙ্গবন্ধু যেন আবার কবর থেকে উঠে এসেছে, আওয়ামী লীগ সমর্থকদের রাস্তায় জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু শ্লোগানে মুখরিত ধ্বনী আকাশ বাতাস কাঁপিয়ে তুলছিল। চারিদিকে বাজছিল বঙ্গবন্ধুর সেই ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষন। প্রান্ত তার বাসার ছাদ থেকে এসব স্বতঃস্ফূর্ত মিছিল প্রত্যক্ষ করছিল। আর মনে মনে ভাবছিল টুঙ্গী পাড়ায় শায়িত জনক এ বিজয়ে কতইনা খুশী হয়েছে।

প্রান্ত ঠিক করছে বিজয়ের এই শুভক্ষনে তার বাগদত্তার  সাথে তার শুভ পরিনয়ের কাজ সম্পন্ন করে ফেলবেন।

প্রায় একমাস পর প্রান্ত ফারজানা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে শুরু করেন নতুন জীবন। 

২১ তম পর্ব, বিচারপতি সাহাবুদ্দিনের তত্ত্বাবদায়কসরকার:

 



বিচারপতি সাহাবুদ্দিনের তত্ত্বাবদায়কসরকার:-
১৯৯০ সালের অক্টোবরে এরশাদের পতন যখন সময়ের ব্যপার তখন স্বৈরাচারী আন্দোলনের নেতৃত্ব দানকারী তিন জোট মিলে ২১ অক্টোবর সাংবিধান সমুন্নত রেখে শান্তিপূর্ণভাবে এরশাদের নিকট থেকে ক্ষমতা গ্রহন করে একজন নির্দলীয় নিরপেক্ষ ব্যক্তির মাধ্যমে একটি সুষ্টু নির্বাচন করে নির্বাচিত সার্বভৌম সংসদের নিকট ক্ষমতা হস্তান্তর করা যায় তার একটি রূপরেখা(পূর্বোল্লিখিত চার জোটের রূপরেখা)প্রনয়ন করেন। এই রূপরেখার ভিত্তিতে ১৯৯০ সালে ৬ই ডিসেম্বর এরশাদ বিচারপতি সাহাবুদ্দীনের নিকট ক্ষমতা হস্তান্তর করলে তিনি ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসাবে সরকার প্রধানের দায়িত্ব লাভ করেন। তারপর (তিন জোটের রূপরেখা অনুযায়ী) একটি নিরপেক্ষ অরাজনৈতিক ব্যক্তি বর্গের সমন্বয়ে একটি সরকার গঠন করেন। এ সরকার ১৯৯১ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে  একটি অবাধ ও সুষ্টু নির্বাচন সম্পন্ন করেন। এটা ছিল পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচন।

 রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্ব পালন কালে বিচারপতি সাহাবুদ্দিন  বিশেষ ক্ষমতা আইন সহ বেশকিছু আইন সংশোধন করে সংবাদ পত্রের  স্বাধীনতা ফিরিয়ে দেন। এরপর  রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ও নতুন রাষ্ট্রপতি কার্যভার গ্রহনের পর বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহাম্মদ ১৯৯১সালের ১০ই অক্টোবর পুনরায় প্রধান বিচারপতির দায়িত্বে সুপ্রিম কোর্টে ফিরে যান।  

খালেদা জিয়ার উত্থান:-১৯৮১ সালে চট্টগ্রামে এক ব্যর্থ সামরিক অভ্যূত্থানে প্রসিডেন্ট জিয়া নিহত হলে অনেকটা বাধ্য হয়ে গৃহ বধূ থেকে রাজনীতিতে পদর্পন করেন খােলদা। ১৯৮২ সালের ৩রা জানুয়ারী তিনি বি এন পি'তে যোগ দেন। যতদূর জানা যায় তিনি অষ্টম শ্রেনী পর্যন্ত লেখা পড়া করেছেন। তবে তাঁর স্বামীর সহচরর্যে তিনি অনেক রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। বেগম জিয়া ১৯৮৪ সালের ১লা এপ্রিল বি এন পি'র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব গ্রহন করেন। তারপর ১০ই মে  আনুষ্টানিকভাবে বি এন পি'র চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন। এরপর শুরু বি এন পি এবং খালেদা জিয়ার নতুন অধ্যায়।

এই নতুন অধ্যায়ের রাজনীতিতে সদ্যাগত খালেদা জিয়াকে বিভিন্ন ঝড় ঝাপটা অতিক্রম করতে হয়। এরশাদ বিরুধী আন্দোলনে রাজপথে থেকে বিএনপি'কে সামরিক খোলসের বৃত্ত থেকে বের করে এনে আন্দোলন সংগ্রামের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলে পরিনত করেন বেগম জিয়া। এরশাদের পতনের পর জানুয়ারীতে যে নির্বাচন অনুষ্টিত হয় এ নির্বচনে বি এন পি'র অভাবনীয় জয় রাজনৈতিক অঙ্গনে সবাইকে অবাক করেছে। (খালেদা উইকিপিডিয়া, খালেদার রাজনীতি, সাহদুল হক,১০/০৫/১৬ইং)

প্রান্তের ভাবনা:- সামরিক স্বৈরাচার এরশাদের পতনের পর তত্ত্বাবদায়ক সরকারের প্রধান হিসাবে শাহাবুদ্দীনের ক্ষমতা গ্রহন প্রান্তের মনে হচ্ছে যেন  এ কয়দিন আগের কথা। তার এখনো মনে পড়ে সাহাবুদ্দিন ক্ষমতা গ্রহনের পর পরই সারা দেশে বইতে শুরু করে নির্বাচনী হাওয়া। একদিেক আওয়ামী লীগ অন্যদিকে বি এন পি,। প্রান্ত খেয়াল করল বি এন পি'র নির্বাচনী ষ্টেটিজি থেকে  আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ষ্টেটিজির মধ্যে অনেক অপরিপক্কতার ছাপ বিদ্যমান ছিল। ৭৫ এর পর থেকে আওয়ামীলীগ ক্ষমতার বাইরে, দুই স্বৈরশাসক অনবরত আওয়ামীলীগ এবং বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে এমন সব সত্য মিথ্যা গাল গল্প প্রচার করে একটি প্রজন্মের কাছে আওয়ামী ও বঙ্গবন্ধুকে এমন ভাবে অজনপ্রিয় করে তুলেছিল যে তাদের মতে আওয়ামী লীগ হল ইসলাম বিরুধী ভারত তোষনকারী দল। আর শেখ মুজিব২৫ বৎসরের গোলামীর চুক্তি করে, বেরুবাড়ি আঙ্গুর পোতা, দহগ্রাম ভারতের হাত তুলে দিয়ে, ভারতের সেবাদাসে পরিনত হয়েছিলেন। শেখ মুজিব নাকি  হিন্দুর ছেলে তাই ভারতের প্রতি তার এত দরদ। যদি আওয়ামীলীগকে আবার ক্ষমতায় আনা হয় তাহলে দেশে ইসলাম থাকবেনা, মসজিদে উলু ধ্বনী হবে। আর দেশে দেখা দিবে দুর্ভিক্ষ । তবে একটি বিষয় লক্ষনীয় ছিল যে এবার তারা তত্বাবদায়ক সরকারের কড়া নির্বাচনী বিধি কার্যকর থাকার কারনে পথে ঘাঠে হাটে আওয়ামীলীগকে হেয় করে রাস্থায় রাস্তায় তারা রুটি বানানোর তাবা বেলুন পথে ঘাঠে টাঁঙ্গাতে পারেনি।  কিন্তু তারা স্বাধীনতা বিরুধী জামাতকে নিয়ে তলে তলে মিথ্যা কুৎসা রটিয়েছে সমানে। তখন প্রান্ত দেখেছে ১৫ বৎসরে ধরে জাতিকে কিভাবে বিভ্রান্ত করা হয়েছে। নতুন প্রজন্মকে শিখানো হয়েছে ভূল ইতিহাস। তাদেরকে শিখানো হয়েছে ২৫শে মার্চ রাত্রে পাক বাহিনী গনহত্যা শুরু করলে শেখ সাহেব পাকিস্থানীদের হাতে আত্মসমর্পন করে পাকিস্থানে স্বেচ্ছায় বন্দী জীবন যাপন করেছে, আর জিয়া ২৬শে মার্চ স্বাধীবতার ঘোষনা দিলে বাংলাদেশীরা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং জিয়ার নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধারা যুদ্ধ করে বাংলাদেশকে স্বাধীন করেছে। প্রান্ত নব প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধ, আওয়ামী লীগ, বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে এ রকম ধারনা দেখে যার পর নাই দুঃখি হত, কিন্তু করার কিছুই ছিল না। কিন্তু প্রান্ত দেখল আওয়ামী লীগ সেই ৭৫এর আগের  মুক্তিযুদ্ধ, ধর্মনিরপেক্ষতা, বঙ্গবন্ধুর ইমেজ ইত্যাদী ব্যবহার করে নির্বাচনী ষ্টেটিজি তৈরী করেছে যা এ দেশে মেকিয়াভেলী রাজনীতির জনক জিয়া উর রহমান এবং তার পদাঙ্ক অনুশরনকারী স্বৈরাচারী এরশাদ অনেক আগে ধূলিষ্যাৎ করে দিয়েছেন।  সুতারাং যা হবার তাই হল আওয়ামীলীগকে বিএনপি'র কাছে হারতে হল।

আওয়ামী লীগ একানব্বই নির্বাচনে হারবে প্রান্ত তা আগে থেকে আঁচ করতে পেরেছিল, সে তার বান্ধবী ফারজানা বীথিকে বলেওছিল কিন্তু তার বান্ধবী বীথি তা বিশ্বাস করেনি,  চারিদিকে আওয়ামী লীগের যে জমজমাট জনসসভা,  জনসসভায় যে জনাসমাগম তা দেখে অবশ্য তা মনে হবার কারনও ছিল । কিন্তু বাস্তবে প্রান্তের কথায় সত্যিতে পরিনত  হল। আওয়ামী বি এন পির কাছে অপ্রত্যাশিত ভাবে হেরে গেল।

২৬ তম পর্ব ২০০৬ সালে বি এন পি'র তত্ত্বাবধায়ক সরকার নাটক:

 . ২০০৬ সালে বি এন পি'র তত্ত্বাবধায়ক সরকার নাটক:-২০০৬ সলের জোট সরকার মেয়াদ শেষ হলে ক্ষমতা ছাড়ার সময় অাবার দেখা দেয় দুই প্রধান দল তথা জোট...