Pages

শুক্রবার, ১৮ নভেম্বর, ২০২২

২৪তম পর্ব , চার পতি লতিফুর রহমানের তত্ত্বাবধারক সরকার:-



 


বিচার পতি লতিফুর রহমানের তত্ত্বাবধারক সরকার:-শেখ হাসিনা তার শাসনকালের পাঁচ বৎসর মেয়াদ শেষ করলে ত্রয়োদশ সংশোধনী অনুযায়ী সর্বশেষ অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি হিসাবে বিচারপতি লতিফুর রহমান ২০০১ সালের ১৫ই জুলাই তত্ত্বাবধারক সরকারের প্রধান হিসাবে দায়িত্বভার গ্রহন করেন। দায়িত্ব গ্রহনের তিরিশ মিনিটের মধ্যে তিনি ১৩জন সচিবকে ওএসডি করেন। তার অধীনে ২০০১সালের ১লা অক্টোবর অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্টিত হয়। দেশে বিদেশে এ নির্বাচনও ব্যাপক প্রশংসা পায়। বি এন পি এই নির্বাচনে দুই তৃতীয়াংশ আসন পেয়ে জয় লাভ করে। ১০ই অক্টোবর বিএনপি লতিফুর রহমানের কাছ থেকে ক্ষমতা গ্রহন করে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে সরকার গঠন করে। আর আওয়ামীলীগ ৫৮টি আসনে জয়লাভ করে প্রধান রিরুধীদলের মর্যাদা লাভ করে। আওয়ামীলীগ প্রথমে এ নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করে শপথ নিতে অস্বীকার করে। তারা বিচারপতি হাবিবুর রহমান ও তার উপদেষ্টা মন্ডলীর পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে ব্যাপক সমালোচনা করে। অবশ্য পরে আওয়ামীলীগ সাংসদরা শপথ গ্রহন করেন এবং বিরুধী দল হিসাবে সংসদে যোগ দেন। (সহায়ক সূত্র-লতিফুর রহমান,বিচারপতি, উইডিপিডিয়া,(তত্ত্বাবদায়ক সরকার)

  নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা:-২০০১ সালে নির্বাচন পরবর্তী চার দলীয় জোটের ক্যাডারদের সহিংসতায় ৪৩জেলায় ৬২টি স্থানে ৩৪২টি শিশু ধর্ষন, গনধর্ষন, লুটপাট, হামলা, মারপিট, ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ সহ নানা সন্ত্রাসী কর্মকান্ড সংঘটিত হয়েছিল।

এই হামলার প্রধান লক্ষ্যবস্তুু ছিল সংখ্যা লঘু সম্প্রদায় ও আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের বাড়ী ঘর,  এই হামলার টর্গেট ছিল বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে নারী এবং শিশু। দ্বিতীয় টর্গেট ছিল হিন্দু সম্প্রদায় ও আওয়ামীলীগ নেতা কর্মী ও সমর্থকদের জমি জমা, বসত বাড়ী, দোকান, ব্যবসা প্রতিষ্টান দখল।  তৃতীয় টর্গেট ছিল ভদ্র অবস্থাপন্ন পরিবারের উপর চাঁদাবাজী করা। আওয়ামীলীগকে ভোট দেবার কারনে ধর্ষীতা হয়েছে অনেক নারী, শ্লীলতাহানীর শিকার হয়েছে অনেক কিশোরী যুবতী।(২০০১ এর, চার দলীয় জোটের নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা)(সূত্র-Bangladashnews24x7.com)

২০০১সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনোত্তর সহিংসতার ঘটনা তদন্তের জন্য একটি মানবাধীকার সংগঠনের আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০০৯ সালে ৬ই মে ঘটনা তদন্তের জন্য সরকারকে নির্দেশ দেয় হাই কোর্ট। তার পেক্ষিতে যে তদন্ত কমিটি গঠিত হয়। এই কমিটি দীর্ঘ এক বৎসর তদন্ত শেষে তাদের কাছে ৫৫৭১টি অভিযোগ পেয়েছিল, তার মধ্যে ৩৬২৫টির তদন্ত করা হয়। তবে কমিশনের মতে সহিংস ঘটনা ঘটেছে ১৮ হাজারেরও বেশী। তদন্ত প্রতিবেদনে আরো বলা হয় বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ ও অসম্প্রদায়িক চেতনাকে ধংষ করে একটি উগ্র সম্প্রদায়িক দেশ হিসাবে বাংলাদেশকে বর্হিবিশ্বে পরিচিত করাই ছিল তাদের মূল উদ্দেশ্য। এ সহিংস ও নির্যাতনের ঘটনার সাথে বিএনপি জামাতের শীর্ষ কয়েকজন নেতার মদদ ছিল বলে প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছে। (২৫ এপ্রিল, ২০১১,(রেডিও তেহরান)

 

প্রান্তের ভাবনা:- প্রান্তু তার বাগদত্তা বান্ধবীর সাথে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে বেশ সুখেই আছে। বৃক্ষ যেমন ডাল পালা হারিয়ে মৃতবৎ হয়ে যায়, অনেকে মনে করে বৃক্ষটির মৃত্যু হয়েছে। হঠাৎ যখন তার ভিতর থেকে একটি কচি ডগা বের হয়ে দেখা যায় ধীরে ধীরে আবার মহিরুহে পরিনত হতে, তেমনি মুক্তিযুদ্ধে ধূলিস্যাৎ হওয়া প্রান্তের পরিবার আবার প্রান্ত নামের বৃক্ষ ডগা মেলে ফারজানার সাথে জুটি বেঁধে ফলে ফুলে মহিরোহে পরিনত হওয়ার স্বপ্ন দেখছে। অনেক দিন পর সবহারা প্রান্ত আবার একটি পারিবারিক জীবনের প্রবেশ করছে।

      এদিকে আওয়ামী লীগের পাঁচ বছর মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায়, স্বাভাবিকভাবে তত্বাবদায়ক সরকারের নিকট ক্ষমতা ছেড়ে দিয়ে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিতে লাগল আওয়ামীলীগ সহ সকল দল। প্রান্তর বেশ ভাল লাগল এইরূপ নির্বাচন কালীন একটা নিরপেক্ষ ব্যবস্থা হওয়ায়। সাধারন মানুষও এই ব্যবস্থায় অনেক খুশী। এখন থেকে নির্বাচন ঘনিয়ে আসলে দেশে নৈরাজ্যকর অবস্থার সৃষ্টি হবে না।

প্রান্ত যদিও  প্রত্যক্ষ রাজনীতি করেন না, কিন্তু দেশের রাজনীতি নিয়ে পূর্বের মত এখনো ভাবেন। তার স্ত্রী'র সাথে এসব নিয়ে প্রতিদিন সময় সুযোগ পেলে আলাপ আলোচনা-সমালোচনা করেন। রাজাকারের দম্ভ আস্ফালন দেখলে দুঃখিত হন, মক্তিযুদ্ধ শক্তির উত্থান দেখলে খুশী হন।

এবার আওয়ামী লীগকে হারিয়ে বিএনপি জিতেছে, তাতে প্রান্ত তেমন অখুশি হয়নি। কারণ একবার আওয়ামীলীগ একবার বিএনপি এভাবেই তো তারা দেশকে সামনে নিয়ে যাবে। তবে তার আশা ছিল বিএনপি অতীতের ভূল থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার দেশ শাসন করবে। স্বাধীনতার পক্ষের অবস্থানে থেকে রাজনীতি করবেন। মৌলবাদ, সাম্প্রদায়িক শক্তির সাথে গাঁটছাড়া পরিহার করবেন। কিন্তু কি করল তারা? শীর্ষ নেতাদের নির্দেশে নির্বাচনের অব্যবহিত পরেই সারা দেশে হিন্দু সম্প্রদায়, আওয়ামী সমর্থকদের জান মাল, সহায় সম্পত্তির উপর আক্রমন শুরু করে দিল। যুবতী নারী, কিশোরী, এমনকি শিশুদের পর্যন্ত ধর্ষন করে, অত্যাচার করে হত্যা করল। দেশবাসী অবাক বিস্ময়ে এসব দেখল। দেখে দুঃখিত হওয়া ছাড়া প্রান্তের তো আর করার কিছুই নেই, একমাত্র ব্যথিত মনে তার স্ত্রীর সাথে এসব নিয়ে আলোচনা করা ছাড়া।, দেশের জন্য অনেক কষ্ট হয় প্রান্তের। কারন দেশটা তো তারাই অস্ত্র ধরে রক্ত দিয়ে স্বাধীন করেছে।  স্ত্রীকে প্রশ্ন করে বিএনপিতে সুস্থ মাথার কেউ কি নেই?  থাকলে এরকম ত হবার কথা নয়। তাদের মিত্র জামাতের কথা নাইবা বললাম। তাদের ইতিহাস তো সবার জানা। প্রান্তর তখন বিএনপি জন্য দুঃখবোধ হল, তখন তার একজন মনীষীর একটি উক্তির কথা মনে পরে যায়, উক্তিটি হল "ইতিহাসের শিক্ষা হল, ইতিহাসের শিক্ষা থেকে কেউ শিক্ষা নেয় না।"

এ উক্তিটি অওড়াতে অওড়াতে এক সময় উদাস আকাশে অপলক দৃষ্টিতে চেয়ে থাকতে থাকতে নিজেকে হারিয়ে ফেলল এক অনাকাঙ্খিত দুঃখ বোধের গভীরতায়।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

২৬ তম পর্ব ২০০৬ সালে বি এন পি'র তত্ত্বাবধায়ক সরকার নাটক:

 . ২০০৬ সালে বি এন পি'র তত্ত্বাবধায়ক সরকার নাটক:-২০০৬ সলের জোট সরকার মেয়াদ শেষ হলে ক্ষমতা ছাড়ার সময় অাবার দেখা দেয় দুই প্রধান দল তথা জোট...