খালেদা জিয়ার শাসনকাল (১৯৯১-১৯৯৬):-১৯৯১সালে পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বি এন পি ১৪০টি আসন লাভ করে। তখন সরকার গঠনের জন্য তার আরো এগারটি আসনের প্রয়োজন। সে জন্য বি এন পি সংসদে ১৮ আসন পাওয়া মুক্তিযুদ্ধ বিরুধী জামাতের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করে। স্বাধীনতা বিরুধী জামাত সমর্থিত এ সরকারের তিনি প্রথমবারের মত ১৯৯১ সালের ২০শে মার্চ প্রধান মন্ত্রী নিযুক্ত হন। প্রেসিডেন্ট পদ্ধতির সমর্থক বিএনপি সকল দলের ইচ্ছার প্রতি নমনীয় হয়ে সংসদীয় সরকার পদ্ধতির পক্ষে অবস্থান নেয়। ফলে দেশে পুনরায় সংসদীয় পদ্ধতির সরকার কয়েম হয়। সেজন্য ২রা এপ্রিল তিনি সরকারের পক্ষে সংসদে এই বিল উত্থাপন করেন। একই দিনে তিনি তত্ত্বাবদায়ক সরকরের প্রধান বিচারপতি সাহাবুদ্দিন আহমদকে স্বপদে ফিরে যাবার ব্যবস্থা করে একাদশ সংশোধনী বিলও আনেন।(যার ফলে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনের পর আবার প্রধান বিচার পতির পদে ফিরে যান) ৬ই আগষ্ট ১৯৯১ সালে এ দুটি বিল সংসদে পাশ হয়।
বেগম জিয়া তাঁর প্রথম মেয়াদের শাসনামলে বেশ কিছু ভাল পদক্ষেপ নেন। শিক্ষা ক্ষেত্রে তিনি অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা প্রবর্তন করেন, দশম শ্রেনী পর্যন্ত মেয়েদের বিনা বেতনে লেখা পড়ার সুযোগ প্রদান করেন, ছাত্রীদের জন্য উপবৃত্তি, শিক্ষার বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচী চালু করেন। সারা দেশে বনায়নের লক্ষে বৃক্ষ রোপন কর্মসূচী গ্রহন করেন। তখন তার সরকারের সময়ই যমুনা বহুমুখী সেতুর নির্মান কাজ শুরু হয়। দক্ষিন এশিয়া সহযোগিতা পরিষদ সার্ককে গতিশীল করতে তিনি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখেন। ১৯৯১সালে খালেদা জিয়া ক্ষমতা গ্রহনের ৩৯দিনের মাথায় দেশের দক্ষিনাঞ্চলে স্বরণকালের ভয়াবহতম এক ঘুর্নীঝড় ও জলোচ্ছাস আঘাত হানে। সরকার এ দূর্যোগপূর্ণ পরিস্তিতি মোটামুটি ভালভাবে সামাল দিতে সক্ষম হয়। খালেদা সরকার পশুসম্পদ খাতকেও পৃষ্টপোষকতা দান করেন। ফলে দেশে অসংখ্য হাঁস মুরগী ও গবাদী পশুর খামার গড়ে উঠে। তার আমলে প্রথম বারের মত উৎপাদন ও আমদানী পর্যায়ে মূল্য সংযোজন কর প্রবর্তন করা হয়। যার মাধ্যমে রাজস্ব আহরনে নতুন দূয়ার উন্মুক্ত হয়। খালেদা জিয়া একটি জাতীয় ও একটি উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি প্রথম সিএনএন এনং বিবিসিকে সম্পচারের অনুমতি দেয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশে আকাশ সংস্কৃতির উন্মোচন করেন। তার আরো কিছু ভাল উদ্যোগের মধ্যে চাকুরীতে প্রবেশের ক্ষেত্রে বয়সের সময় সীমা ২৭ থেকে বাড়িয়ে ৩০ এ করা, পেনশন অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজতর করা, সরকারী চাকুরেদের মৃত্যুর ক্ষত্রে বিধবা এবং সন্তানদের আজীবন পেনশনের ব্যবস্থা করা অন্যতম।
শ্রমিকদের জন্যও ১৭টি খাতে নূন্যতম মজুরী নির্ধারন, শেয়ার বাজার তদারকীর জন্য সিকিউরিটি এক্সচেঞ্জ গঠন। ইত্যাদী বেশ কিছু ভাল কাজ করে গেছেন তা অস্বীকার করার যু নেই।(জিয়া, বেগম খালেদা জিয়া বাংলা পিডিয়া)
তার বেশ কিছু ভাল কাজের মধ্যে আবার অনেক কার্যাবলী তার সরকারকে বিতর্কিত এবং তাঁর শাসনকালকে অনেক কলঙ্কিত ও সমালোচিত করেছে।
৯১ এর গনজাগরনে সামরিক স্বৈরাচারের পতনের পর গণতন্ত্রের পথে অগ্র যাত্রা হওয়ায় ছিল সবার প্রত্যাশা। কিন্তু যুদ্ধাপরাধীদের সাথে গোপন আঁতাত করে তারা নির্বাচনী বৈতরনী পার হন। আবার নির্বাচনের পর তাদের সমর্থনে সরকার গঠন করেন। বেগম জিয়াও তাঁর স্বামী স্বৈরশাসক জিয়া এবং স্বৈরশাসক এরশাদের পদাঙ্ক অনুশরন করে স্বাধীনতা বিরুধী সাম্প্রদায়িক মৌলবাদী শক্তির সাথে হাত মিলিয়েছিলেন। সামরিক স্বৈরাচারের গতানুগতিক পথেই হেঁটে বঙ্গবন্ধুর খুনীদের আশ্রয় প্রশ্রয় দিয়ে স্বৈরশাসকদের কলোষিত ধারা বজায় বেখেছিলেন। বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের সেই শোকাবহ ১৫ই আগষ্টকে হঠাৎ করে তাঁর জন্ম দিন হিসাবে পালন করে সারা জাতির নিকট নিন্দর পাত্রও হন। তার এ সকল কর্মকান্ডে স্বৈরাচার বিরুধী আন্দোলনে গড়ে উঠা ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক সংস্কৃতির যে একটি সুষ্টু ধারা রাজনৈতিক অঙ্গনে সৃষ্টি হবার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছিল তা অঙ্কুরে বিনষ্ট হয়। তিনিও তাঁর স্বামীর মত আর এক স্বাধীনতা বিরুধী পাকিস্থানী দালাল আব্দুর রহমান বিশ্বাসকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করেছেন। এরশাদের মত বঙ্গবন্ধুর খুনীদের গঠিত ফ্রিডম পার্টিকে রাষ্ট্রীয় পৃষ্টপোষকতা প্রদান করেছিলেন। এমনকি তিনি ১৯৯৬ সালের একতরফা ভোটারবিহীন নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর খুনীদের গঠিত ফ্রিডম পার্টিকে সংসদে প্রধান বিরুধী দলের মর্যাদা প্রদান করেছিলেন। এরশাদের আমলে জন্ম নেয়া হরকাতুল জেহাদ আল ইসলামী বাংলাদেশ (হুজি-বি) খালেদা জিয়ার আমলে ১৯৯২ সালের ৩০শে এপ্রিল দম্ভের সাথে জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে আত্ম প্রকাশ করে। এবং তার এই পাঁচ বৎসরে এটার প্রসার ও বিস্তার ঘটে। উল্লেখ্য পরবর্তীতে এই মৌলবাদী সংগঠনটি যশোরে উদীচি অনুষ্টানে বোমা হামলা, খুলনায় আহমদিয়া মসজিদে বোমা হামলা, গোপালগঞ্জের কোটালী পাড়ায় শেখ হাসিনার জণসভাস্থলে এবং হেলিপেডে বোমা পেতে রাখা, রমনার বটমূলে হামলা, গোপালগঞ্জের বানিয়াচর এ গীর্জায় হামলা, নারয়নগঞ্জে আওয়ামীলীগ অফিসে বোমা হামলা সহ অসংখ্য জঙ্গী হামলার হোতা।
আরো একটি বিষয় লক্ষনীয় যে খালেদাজিয়া যদিও চাপে পরে সংসদীয় পদ্ধতি গ্রহণ করেছিলেন, কিন্তু বাস্তবে তা তিনি মনে প্রাণে মেনে নিতে পারেন নি। সে জন্য তিনি প্রায় সময়ই সংসদে উপস্তিত থাকতেন না। সংসদ কর্যকর থাকা সত্বেও সংসদে বিল উত্থাপন না করে স্বৈরশাসকের মত অধ্যাদেশের মাধ্যমে আইন চালু করতে পছন্দ করতেন। সংসদে বিরুধী দলকে কথা বলার সুয়োগ না দেওয়ার কারনে সংসদ এক হৈ চৈ এবং বিশৃঙ্খলার আড্ডা খানায় পরিনত হয়েছিল। তিনি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করে এবং জাতির জনককে হেয় করার জন্য জিয়াকে স্বাধীনতার ঘোষক বানিয়ে একটি সংবিধান স্বীকৃত সত্যকে বিতর্কিত করেন এবং জেঃ জিয়াকে স্বাধীনতার ঘোষক হিসাবে রাষ্টীয়ভাবে প্রতিষ্টিত করার চেষ্টা চালিয়েছিলেন। যদিও জিয়া জীবদ্ধশায় কখনো স্বাধীনতার ঘোষক হিসাবে নিজেকে দাবী করেন নাই। শুধু তাই নয় মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাসকে লুক্কায়িত করে নিজেদের ফরমায়েসী মানুষদের দিয়ে পাঠ্য পুস্তকে মুক্তিযুদ্ধের মেকী ইতিহাস উপস্থাপন করে নতুন প্রজন্মকে ভূল ইতিহাস শিক্ষা দিয়েছেন।
খালেদার আর একটি ব্যর্থতা হল বিরুধী দলকে আস্থায় আনার মাধ্যমে দেশে একটি সুষ্টু রাজনৈতিক ধারা সৃষ্টির বিরল সুযোগ সৃষ্টি হওয়া সত্বেও তার কিছু হটকারী কার্যকলাপ(যেমন, ১৫ আগষ্ট জন্মদিন পালন,ফ্রিডম পার্টিকে রাষ্ট্রীয় পৃষ্টপোষকতা, সংসদে বিরুধীদকে যথাযথ মর্যাদা না দেওয়া) তা কাজে লাগাতে পারেনি। তার ভার ধারাবাহিকভাবে জাতিকে আজো বয়ে বেড়াতে হচ্ছে।
১৯৯৩ সালে সর্ব প্রথম জামাত, তারপর আওয়ামীলীগ তত্বাবদায়ক সরকার সংক্রান্ত বিল সংসদ সচিবালয়ে পেশ করে। এ বিলে তারা জাতীয় নির্বাচনকে অবাধ ও নিরপেক্ষ করার লক্ষে নির্বাচনের সামগ্রীক প্রক্রিয়াকে ক্ষমতাসীন দলের প্রভাব মুক্ত করার জন্য তত্ত্বাবদায়ক সরকারের বিল সংবিধানে সংযোজন করা উচিৎ বলে মত দেন। পরে ১৯৯৪ সালের ২০শে মার্চ মাগুরা উপনির্বাচনে ভোট কারচুপি করে সরকার তাদের প্রার্থীকে জিতিয়ে আনায় সরকারের মিত্র জামাত, এবং আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টিসহ সকল রাজনৈতিক দল বি এন পি'র উপর আস্থা হরিয়ে ফেলে। এই আস্থার সংকটের কারনে সকল রিরুধী দল যে তত্ত্বাবদায়ক সরকারের দাবী এতদিন হালকাভাবে করে আসছিল তা আরো জোরালো হয়। সকল বিরুধীদল সিদ্ধান্ত নেয় এ সরকারের অধীনে তারা আর কোন নির্বাচনে অংশ গ্রহন করবেনা। সেই প্রক্ষাপটে ১৯৯৪সালের ২৭জুন আওয়ামীলীগ জামাত যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তত্ত্বাবদায়ক সরকারের রূপরেখা তুলে ধরে। তৎকালীন প্রধান মন্ত্রী খালেদা জিয়া এ প্রস্তাবের বিরুধীতা করে বলেন 'এ প্রস্তাব অসংবিধানিক এবং অবাস্তব।' তিনি আরো বলেন, 'একমাত্র পাগল আর শিশু ছাড়া কোন মানুষের পক্ষে নিরপেক্ষ হওয়া সম্ভব নয়।'
এভাবে সরকার ও বিরুধী দলের মধ্যে তত্বাবদায়ক ইস্যু নিয়ে শুরু হয় মতানৈক্য। সরকার, বিরুধী দল এমনকি কমনওয়েলথ মহা সচিব স্যার নিনিয়ান এসেও তত্বাবদায়ক ইস্যুতে সরকার এবং বিরুধী দলকে সমঝোতায় আনতে ব্যর্থ হন। এবং বিফল মনোরতে ফিরে যান।
এরপর শুরু হয় বিরুধীদল গুলোর তত্বাবদায়ক সরকার প্রবর্তনের জন্য হরতাল, অবরোধ, সংসদ থেকে পদত্যাগ। এই সকল হরতাল অবরোধের মত চরম কর্মসূচীর মধ্যে সরকার, জোর করে জাতীয় সংসদ নির্বাচন করিয়ে নেয়। বিরুধীদল আওয়ামীলীগ, জাতীয় পার্টি, জামাতে ইসলামী সহ অন্যান্য আরো বিরুধী দল এ নির্বাচন বর্জন করে চরম পন্তা অবলম্বন করে ডাক দেয় অসহযোগ আন্দোলনের। এই অসহযোগ আন্দোলনে শেখ হাসিনার নির্দেশে ঢাকার মেয়র হনিফের তত্থাবধানে প্রেস ক্লাবের সামনে আন্দোলনকে আরো গতিশীল ও চাঙ্গা করার %$#@#$%&%$#@জন্য একটি বিরাট মঞ্চ তৈরী করা হয় , যার নাম দেয়া হয়েছিল জনতার মঞ্চ। এই মঞ্চে শিল্পী, সাহিত্যিক পেশা জীবি, ছাত্র শ্রমিক জনতা সকলে একাত্ব ঘোষনা করে আন্দোলনকে বেগবান করে তুলে। এ মঞ্চকে ঘিরে লাগাতর ধর্মঘট ও জনতার প্রতিবাদ দেশের সকল স্থানে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে এবং আন্দোলনকে আরো দৃড়তর করে তুলে।
এভাবে তত্বাবদায়ক সরকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশের প্রশাসন তথা আমলাতন্ত্রের ভিত ভেঙ্গে পড়ে। সরকারী আধা সরকারী সংস্থার কর্মচারীরা বিভিন্ন ট্রেড ইউনিয়নের সাথে মিলে আন্দোলনে সমর্থন দিয়ে জনতার মঞ্চে এসে শামিল হতে থাকেন। বেশ কয়েকজন সচিব সহ উচ্চ পর্যায়ের কিছু কর্মকর্তা ২৭শে মার্চ রাষ্ট্রপতির সাথে দেখা করে দেশের আইন শৃঙখলা জনিত ও অর্থনৈতিক পরিস্তিতির উপর তাদের উদ্বেগ প্রকাশ করে ছয় দফা ভিত্তিক একটি প্রস্তাব রাষ্ট্রপতির নিকট হস্তান্তর করে বলেন, রাষ্ট্রপতি যতক্ষন পর্যন্ত না তত্ত্বাবদায়ক সরকার গঠন না করেন ততক্ষন পর্যন্ত তারা দায়িত্ব পালনে বিরত থাকবেন।
এদিকে ১৯শে মার্চ খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ৪৭সদস্যের একটি নতুন মন্ত্রী সভার মধ্য দিয়ে নতুন সরকার গঠিত হয়। এক তরফা নির্বাচনে নব গঠিত সংসদে ২৫ শে মার্চ রাতভর আলোচনা শেষে ২৬ মার্চ ভোররাতে তত্বাবদায়ক সরকরের বিল পাশ করা হয় যা সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী হিসাবে গৃহীত হয়। চার কার্য দিবস চলার পর ৩০ মার্চ খালেদা জিয়া প্রধান মন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে রাষ্ট্রপতিকে সংসদ ভেঙ্গে দেওয়ার পরামর্শ দেন। এ সংসদের মেয়াদ ছিল ১৯শে মার্চ থেকে ৩০শে মার্চ পর্যন্ত। এভাবে জনতার দাবীর কাছে নতি স্বীকার করে ক্ষমতা ছাড়েন খালেদা জিয়া।(সহায়ক সূত্র-তত্ত্বাবদায়ক সরকার, অতীত ও ভ্যবিষ্যত, online)
তত্ত্বাবদায়ক সরকারের শপথ গ্রহন:-স্বৈরাচার এরশাদের পতনের মত আর এক গন অভ্যুত্থান সৃষ্টির মাধ্যমে বেগম খালেদা জিয়ার একতরফা নির্বাচনে গঠিত ২য় সরকারের পতন ঘটে। বিরাজমান বিশৃঙ্খলা, অস্তিতিশীলতা, অগনতান্ত্রিক শক্তির উত্থানের আশংকা, এ রকম এক সংকটময় সময়ে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর অধীনে সর্বশেষ অবসর প্রাপ্ত বিচারপতি, বিচারপতি হবিবুর রহমানের নিকট দায়িত্ব এসে পড়ে তত্ত্বাবদায়ক সরকােরর প্রধান উপদেষ্টা হিসাবে দায়িত্ব পালনের। ৩০শে মার্চ তিনি বঙ্গবভনে শপথ গ্রহন করেন। স্বীয় প্রজ্ঞা এবং সাহসিকতায় সকল সমস্যা মোকাবিলা করে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে ১৯৯৬ সালের সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন করে দেশে গণতন্ত্র সুনিশ্চিত করেন। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ১৪৭টি আসন পেয়ে বিজয়ী হয়। বি এন পি ১১৬টি আসন পেয়ে বৃহত্তর বিরুধী দলের এবং জাতীয় পার্টি ৩২টি আসন পেয়ে দ্বিতীয় বৃহত্তর দলের মর্যাদা লাভ করে।
প্রান্তের ভাবনা:- প্রান্ত এইবার আগে থেকে তার বান্ধবী ফরজানা বীথিকে বলে রেখেছে আওয়ামীলীগ তার ভূল থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার তাদের ষ্টেটেজি সাজিয়েছে। জাতিকে যেভাবে বিভ্রান্ত করা হয়েছে তা কিভাবে মোকাবেলা করে জনগনের কাছে যাওয়া যায় সে রকম একটা ষ্টেটিজি নিয়ে আওয়ামী লীগ এগুচ্ছে। ধর্মকে প্রাধান্য দেওয়া, নেত্রীর ধর্মীয় লেবাস ধারন করা, আওয়ামী লীগকে ভোট দিলে যে এদেশ ভারত হবে না, মসজিদে উলু ধ্বনী হবেনা, দূর্ভিক্ষ হবারও কোন আশঙ্কা নেই তা তাঁর দল তথা আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনা মোটামুটি জনগনকে বুঝাচ্ছেন। তিনি জনগনের নিকট ভোট ভিক্ষা চেয়ে অনুরোধ করে বলছেন অন্তত আওয়ামী লীগকে একবার ভোট দিয়ে দেখতে আওয়ামীলীগ দেশকে ভারতের হাতে তুলে দেয় কিনা। জনগন তার কথায় আস্থা রেখে তাকে ভোট দিয়ে জয় এনে দিয়েছে ।
আওয়ামী লীগ যখন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে প্রথমবার ক্ষমতায় আসে প্রান্ত স্মৃতি কতর হয়ে পড়ে। সেই বঙ্গবন্ধুর আমলের কথা তার মনে পড়ে যায়। দীর্ঘ দুই দশকের অধিক কাল ক্ষমতার বাইরে থেকে ৯৬এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের এ বিজয়ে অনেক দিনের নির্বাসিত বঙ্গবন্ধু যেন আবার কবর থেকে উঠে এসেছে, আওয়ামী লীগ সমর্থকদের রাস্তায় জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু শ্লোগানে মুখরিত ধ্বনী আকাশ বাতাস কাঁপিয়ে তুলছিল। চারিদিকে বাজছিল বঙ্গবন্ধুর সেই ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষন। প্রান্ত তার বাসার ছাদ থেকে এসব স্বতঃস্ফূর্ত মিছিল প্রত্যক্ষ করছিল। আর মনে মনে ভাবছিল টুঙ্গী পাড়ায় শায়িত জনক এ বিজয়ে কতইনা খুশী হয়েছে।
প্রান্ত ঠিক করছে বিজয়ের এই শুভক্ষনে তার বাগদত্তার সাথে তার শুভ পরিনয়ের কাজ সম্পন্ন করে ফেলবেন।
প্রায় একমাস পর প্রান্ত ফারজানা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে শুরু করেন নতুন জীবন।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন