Pages

শুক্রবার, ১৮ নভেম্বর, ২০২২

২১ তম পর্ব, বিচারপতি সাহাবুদ্দিনের তত্ত্বাবদায়কসরকার:

 



বিচারপতি সাহাবুদ্দিনের তত্ত্বাবদায়কসরকার:-
১৯৯০ সালের অক্টোবরে এরশাদের পতন যখন সময়ের ব্যপার তখন স্বৈরাচারী আন্দোলনের নেতৃত্ব দানকারী তিন জোট মিলে ২১ অক্টোবর সাংবিধান সমুন্নত রেখে শান্তিপূর্ণভাবে এরশাদের নিকট থেকে ক্ষমতা গ্রহন করে একজন নির্দলীয় নিরপেক্ষ ব্যক্তির মাধ্যমে একটি সুষ্টু নির্বাচন করে নির্বাচিত সার্বভৌম সংসদের নিকট ক্ষমতা হস্তান্তর করা যায় তার একটি রূপরেখা(পূর্বোল্লিখিত চার জোটের রূপরেখা)প্রনয়ন করেন। এই রূপরেখার ভিত্তিতে ১৯৯০ সালে ৬ই ডিসেম্বর এরশাদ বিচারপতি সাহাবুদ্দীনের নিকট ক্ষমতা হস্তান্তর করলে তিনি ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসাবে সরকার প্রধানের দায়িত্ব লাভ করেন। তারপর (তিন জোটের রূপরেখা অনুযায়ী) একটি নিরপেক্ষ অরাজনৈতিক ব্যক্তি বর্গের সমন্বয়ে একটি সরকার গঠন করেন। এ সরকার ১৯৯১ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে  একটি অবাধ ও সুষ্টু নির্বাচন সম্পন্ন করেন। এটা ছিল পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচন।

 রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্ব পালন কালে বিচারপতি সাহাবুদ্দিন  বিশেষ ক্ষমতা আইন সহ বেশকিছু আইন সংশোধন করে সংবাদ পত্রের  স্বাধীনতা ফিরিয়ে দেন। এরপর  রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ও নতুন রাষ্ট্রপতি কার্যভার গ্রহনের পর বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহাম্মদ ১৯৯১সালের ১০ই অক্টোবর পুনরায় প্রধান বিচারপতির দায়িত্বে সুপ্রিম কোর্টে ফিরে যান।  

খালেদা জিয়ার উত্থান:-১৯৮১ সালে চট্টগ্রামে এক ব্যর্থ সামরিক অভ্যূত্থানে প্রসিডেন্ট জিয়া নিহত হলে অনেকটা বাধ্য হয়ে গৃহ বধূ থেকে রাজনীতিতে পদর্পন করেন খােলদা। ১৯৮২ সালের ৩রা জানুয়ারী তিনি বি এন পি'তে যোগ দেন। যতদূর জানা যায় তিনি অষ্টম শ্রেনী পর্যন্ত লেখা পড়া করেছেন। তবে তাঁর স্বামীর সহচরর্যে তিনি অনেক রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। বেগম জিয়া ১৯৮৪ সালের ১লা এপ্রিল বি এন পি'র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব গ্রহন করেন। তারপর ১০ই মে  আনুষ্টানিকভাবে বি এন পি'র চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন। এরপর শুরু বি এন পি এবং খালেদা জিয়ার নতুন অধ্যায়।

এই নতুন অধ্যায়ের রাজনীতিতে সদ্যাগত খালেদা জিয়াকে বিভিন্ন ঝড় ঝাপটা অতিক্রম করতে হয়। এরশাদ বিরুধী আন্দোলনে রাজপথে থেকে বিএনপি'কে সামরিক খোলসের বৃত্ত থেকে বের করে এনে আন্দোলন সংগ্রামের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলে পরিনত করেন বেগম জিয়া। এরশাদের পতনের পর জানুয়ারীতে যে নির্বাচন অনুষ্টিত হয় এ নির্বচনে বি এন পি'র অভাবনীয় জয় রাজনৈতিক অঙ্গনে সবাইকে অবাক করেছে। (খালেদা উইকিপিডিয়া, খালেদার রাজনীতি, সাহদুল হক,১০/০৫/১৬ইং)

প্রান্তের ভাবনা:- সামরিক স্বৈরাচার এরশাদের পতনের পর তত্ত্বাবদায়ক সরকারের প্রধান হিসাবে শাহাবুদ্দীনের ক্ষমতা গ্রহন প্রান্তের মনে হচ্ছে যেন  এ কয়দিন আগের কথা। তার এখনো মনে পড়ে সাহাবুদ্দিন ক্ষমতা গ্রহনের পর পরই সারা দেশে বইতে শুরু করে নির্বাচনী হাওয়া। একদিেক আওয়ামী লীগ অন্যদিকে বি এন পি,। প্রান্ত খেয়াল করল বি এন পি'র নির্বাচনী ষ্টেটিজি থেকে  আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ষ্টেটিজির মধ্যে অনেক অপরিপক্কতার ছাপ বিদ্যমান ছিল। ৭৫ এর পর থেকে আওয়ামীলীগ ক্ষমতার বাইরে, দুই স্বৈরশাসক অনবরত আওয়ামীলীগ এবং বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে এমন সব সত্য মিথ্যা গাল গল্প প্রচার করে একটি প্রজন্মের কাছে আওয়ামী ও বঙ্গবন্ধুকে এমন ভাবে অজনপ্রিয় করে তুলেছিল যে তাদের মতে আওয়ামী লীগ হল ইসলাম বিরুধী ভারত তোষনকারী দল। আর শেখ মুজিব২৫ বৎসরের গোলামীর চুক্তি করে, বেরুবাড়ি আঙ্গুর পোতা, দহগ্রাম ভারতের হাত তুলে দিয়ে, ভারতের সেবাদাসে পরিনত হয়েছিলেন। শেখ মুজিব নাকি  হিন্দুর ছেলে তাই ভারতের প্রতি তার এত দরদ। যদি আওয়ামীলীগকে আবার ক্ষমতায় আনা হয় তাহলে দেশে ইসলাম থাকবেনা, মসজিদে উলু ধ্বনী হবে। আর দেশে দেখা দিবে দুর্ভিক্ষ । তবে একটি বিষয় লক্ষনীয় ছিল যে এবার তারা তত্বাবদায়ক সরকারের কড়া নির্বাচনী বিধি কার্যকর থাকার কারনে পথে ঘাঠে হাটে আওয়ামীলীগকে হেয় করে রাস্থায় রাস্তায় তারা রুটি বানানোর তাবা বেলুন পথে ঘাঠে টাঁঙ্গাতে পারেনি।  কিন্তু তারা স্বাধীনতা বিরুধী জামাতকে নিয়ে তলে তলে মিথ্যা কুৎসা রটিয়েছে সমানে। তখন প্রান্ত দেখেছে ১৫ বৎসরে ধরে জাতিকে কিভাবে বিভ্রান্ত করা হয়েছে। নতুন প্রজন্মকে শিখানো হয়েছে ভূল ইতিহাস। তাদেরকে শিখানো হয়েছে ২৫শে মার্চ রাত্রে পাক বাহিনী গনহত্যা শুরু করলে শেখ সাহেব পাকিস্থানীদের হাতে আত্মসমর্পন করে পাকিস্থানে স্বেচ্ছায় বন্দী জীবন যাপন করেছে, আর জিয়া ২৬শে মার্চ স্বাধীবতার ঘোষনা দিলে বাংলাদেশীরা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং জিয়ার নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধারা যুদ্ধ করে বাংলাদেশকে স্বাধীন করেছে। প্রান্ত নব প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধ, আওয়ামী লীগ, বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে এ রকম ধারনা দেখে যার পর নাই দুঃখি হত, কিন্তু করার কিছুই ছিল না। কিন্তু প্রান্ত দেখল আওয়ামী লীগ সেই ৭৫এর আগের  মুক্তিযুদ্ধ, ধর্মনিরপেক্ষতা, বঙ্গবন্ধুর ইমেজ ইত্যাদী ব্যবহার করে নির্বাচনী ষ্টেটিজি তৈরী করেছে যা এ দেশে মেকিয়াভেলী রাজনীতির জনক জিয়া উর রহমান এবং তার পদাঙ্ক অনুশরনকারী স্বৈরাচারী এরশাদ অনেক আগে ধূলিষ্যাৎ করে দিয়েছেন।  সুতারাং যা হবার তাই হল আওয়ামীলীগকে বিএনপি'র কাছে হারতে হল।

আওয়ামী লীগ একানব্বই নির্বাচনে হারবে প্রান্ত তা আগে থেকে আঁচ করতে পেরেছিল, সে তার বান্ধবী ফারজানা বীথিকে বলেওছিল কিন্তু তার বান্ধবী বীথি তা বিশ্বাস করেনি,  চারিদিকে আওয়ামী লীগের যে জমজমাট জনসসভা,  জনসসভায় যে জনাসমাগম তা দেখে অবশ্য তা মনে হবার কারনও ছিল । কিন্তু বাস্তবে প্রান্তের কথায় সত্যিতে পরিনত  হল। আওয়ামী বি এন পির কাছে অপ্রত্যাশিত ভাবে হেরে গেল।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

২৬ তম পর্ব ২০০৬ সালে বি এন পি'র তত্ত্বাবধায়ক সরকার নাটক:

 . ২০০৬ সালে বি এন পি'র তত্ত্বাবধায়ক সরকার নাটক:-২০০৬ সলের জোট সরকার মেয়াদ শেষ হলে ক্ষমতা ছাড়ার সময় অাবার দেখা দেয় দুই প্রধান দল তথা জোট...