Pages

শুক্রবার, ১৮ নভেম্বর, ২০২২

২৬ তম পর্ব ২০০৬ সালে বি এন পি'র তত্ত্বাবধায়ক সরকার নাটক:

 .



২০০৬ সালে বি এন পি'র তত্ত্বাবধায়ক সরকার নাটক:-২০০৬ সলের জোট সরকার মেয়াদ শেষ হলে ক্ষমতা ছাড়ার সময় অাবার দেখা দেয় দুই প্রধান দল তথা জোটের মধ্যে তত্বাবদায়ক সরকারের প্রধান নিয়ে মতদৈদ্বতা। জোট সরকারের সময় বিচারপতিদের বয়স হঠাৎ দুই বৎসর বাড়িয়ে দিয়ে ৬৭ বৎসর করাকে কেন্দ্র করে শুরু হয় জটিলতা। আওয়ামীলীগ মনে করল বিচারপতি কে এম হাসানকে তত্বাবদায়ক সরকারের প্রধান হওয়ার পথ সুগম করে দেওয়ার জন্যই এই কাজটি করেছে জোট সরকার। যেহেতু হাসান সাহেব ছিলেন বি এন পি'র প্রতিষ্টাতা সদস্য, এক সময়কার বি এন পি'র আন্তর্জাতিক বিষয়ক  সম্পাদক, তদুপরি বঙ্গবন্ধুর দুই খুনীর ঘনিষ্ট আত্মীয়, সেহেতু আওয়ামীলীগের সন্দেহটা আরো বেড়ে যায়। তারা মনে করল এটা বিএনপির ইলেকসান ইঞ্জিনিয়ারিং এর নীল নকসা। এছাড়া মাগুরা ও মিরপুর উপ নির্বাচনের পর তখনকার নির্বাচন কমিশন নিয়েও আপত্তি ছিল আওয়ামী লীগ সহ বিরুধী জোটের। তাদের দাবী ছিল নির্বাচন কমিশন সংস্কার করা আর হাসান সাহেবকে প্রধান উপদেষ্টা না করা। সরকার এদাবীতে কর্ণপাত না করলে, শুরু হয় বিরুধী দলের রাজ পথের তুমুল আন্দোলন। এ অবস্থায় শুরু হয় দুই দলের তৎকালীন  সাধারন  সম্পাদক আব্দুল জলিল আর আব্দুল মান্নান ভূঁইয়ার বৈঠক। ফলাফল অশ্বডিম্ব। আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয় আরো চরম নৈরাজ্য জনক পরিস্তিতি। ঘটল অনেক প্রাণহানী। বিএনপি এসবকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে তাদের শেষ চালটি চাললেন দলীয় প্রেসিডেন্টকে তত্ত্বাবদায়ক সরকারের প্রধান করলেন।  চারদলীয় জোট  সংবিধানে তত্ত্বাবদায়ক সরকার নিয়োগের যে ছয়টি অপসন আছে তাতে বিচারপতিদের চারটি অপসন এবং প্রসিডেন্টের ষষ্ঠ অপসনটি ছাড়া যে পঞ্চম অপসনটি রয়েছে তাতে প্রধান রাজনৈতিক দলের সাথে আলোচনা করে প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগের বিধান রয়েছে। এক্ষেত্রে জোট সরকার একগুয়েমীর আশ্রয় নিয়ে পঞ্চম ধাপ পার না হয়ে সংবিধান লঙ্ঘন করে সরাসরি ষষ্ঠ ধাপে গিয়ে প্রেসিডেন্টকে প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগ করে দেন। ফলে প্রত্যাখাত হল বিরুধী জোটের দাবী।  এর পরই  দুই দলের বিপরীত মুখী অবস্থান আরো তীব্র হল। আবার শুরু হয় রাজনৈতিক সংকট, নৈরাজ্যকর পরিস্তিতি। বিরুধীদল আওয়ামী লীগ নির্বাচন বর্জনের ঘোষনা দিয়ে লাগাতর কর্মসূচী পালন শুরু করল।   বিএনপি নেত্রীর লুপ্ত গোঁফের ভিতর প্রশান্তির হাসি।

উইকিলিকসের তথ্য অনুযায়ী (যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন রাষ্ট্রদূত পেট্রেসিয়া বিউটনিসের পাঠানো তার বার্তা) খালেদা জিয়া চেয়েছিলেন ৯৬ এর১৫ই ফেব্রুয়ারীর মত আর একটি এক তরফা নির্বাচন করিয়ে নিয়ে বিরুধীদলহীন একটি স্বল্প মেয়াদী সরকার গঠন করতে। পেট্রেসিয়া বিউটেনিস আরো লিখেন, ২০০৭ সালে ২২সে জানুয়ারী একতরফা নির্বাচন হলে সে বিষয়ে প্রশ্ন তুলবেন অনেকে। সে বিষয়েও সচেতন ছিলেন খালেদা। তার যুক্তি ছিল, প্রশ্ন তুললেও তাঁর এ সম্ভাব্য সরকার হবে সাংবিধানিকভাবে বৈধ। (উইকিলিসে প্রকাশিত পেট্রিসিয়ার তার বার্তা) বিউটেনিসের সাথে আলোচনায় বেগম জিয়াকে বিউটেনিস প্রশ্ন রাখেন, 'একতরফা নির্বাচন হলে প্রায় ৪০শতাংশ ভোটার আওয়ামী লীগকে সমর্থন দেবে, বিএনপি তা নিয়ন্ত্রন করতে পারবে কিনা।' চল্লিশ শতাংশ ভোটার আওয়ামীলীগকে সমর্থন দেবে বিউটেনিসের এ প্রশ্ন 'হেসেই উড়িয়ে দেন বেগম জিয়া'। গনআন্দোলনের ব্যপারে আওয়ামীলীগের সামর্থ নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন বেগম জিয়া।  বিউটেনিস তার বার্তায় আরো জানান 'এক তরফা নির্বাচনের সমালোচনা করায় বেগম জিয়া যুক্তরাষ্ট্রের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন বলে তিনি জানতে পেরেছেন। খালেদা জিয়ার ধারনা হয়েছিল আওয়ামী লীগের পিঠ সত্যি সত্যি দেওয়ালে ঠেকে গেছে। এ অবস্থা থেকে তারা আর ফিরে আসতে পারবেনা।'

বিউটেনিস আরো লেখেন, সেনাবাহিনী বিশ্বাস ভঙ্গ করে অভ্যূত্থান করতে পারে, কিংবা দুই নেত্রীকে নির্বাসনে পাঠাতে পারে। এমন কোন আশঙ্খা মনে ঠাঁই দিতেও প্রস্তুত ছিলেন না বেগম জিয়া। শেখ হাসিনাও একিই অবস্থানে ছিলেন, এদুটি গুঞ্জনকে গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছেন (জুলিয়ান এস্যাঞ্জের উইকিলিসে প্রকাশিত, মার্কিন রাষ্ট্রদূত পেট্রিসিয়া বিউটেনিসের প্রেরিত তারবার্তা)

তত্বাবদায়ক সরকার নিয়ে জোট সরকারের টাল বাহানার এক পর্যায়ে ২০০৭ সালে ১১ই জানুয়ারী সামরিক বাহিনীর হস্তক্ষেপে রাষ্ট্রপতি ইয়াজ উদ্দীন আহমেদ দেশে জরুরী অবস্থা জারী করেন, ফখরুদ্দীনের নেতৃত্বে সেনা সমর্থিত তত্বাবদায়ক সরকার দায়িত্ব নেয়। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে  যা ওয়ান ইলাভেন নামে পরিচিত। এই সামরিক তত্ত্বাবদায়ক সরকার সেনা সমর্থনে প্রায় দুই বৎসরাধিকাল দেশ শাসন করেন।

প্রান্তের ভাবনা:- প্রান্ত দম্পতি এখন এক পুত্র সন্তানের জনক।

তারা স্বামী স্ত্রী এখন একটি সুখী দম্পতি। কলেজ শিক্ষকতার ফাঁকে ফাঁকে তারা ছুটির দিনে সন্তানসহ বাংলা দেশের বিভিন্ন দর্শনীয় এবং ঐতিহাসিক স্থানে  ঘুরে  বেড়ান।  অতীতের দুঃখ যাতনা ভূলে সুন্দরভাবে  জীবন কাটাতে চান প্রান্ত।  এর বাইরে তাদের কোন চাওয়া পাওয়া নাই। প্রান্ত সক্রিয় রাজনীতি না করলেও তাদের হাত দিয়ে জন্ম নেয় বাংলাদেশ। তাই এদেশকে খুবই ভালবাসেন, দেশকে নিয়ে ভাবেন। দেশের উন্নতিতে খুশী হন আবার দেশে ক্ষতি দেখলে দুঃখিত হন, কষ্ট পান, হতাস হন। দেশ ভাল থাকুক, দেশের মানুষ ভাল থাকুক, মুক্তি য়ুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়িত হউক এতেই তারা খুশী।

    প্রান্ত লক্ষ করেছে ৯১ সালে বিএনপির শাসনামল থেকে ২০০১ সালের বিএনপি শাসন ছিল সব কিছু দিয়েই বিতর্কিত। ২০০১ সালে বিএনপি  নির্বাচনে জয় লাভ করে ক্ষমতায় বসার প্রাক্কালে এবং ক্ষমতায় বসার পর যে সহিংতার নজির স্থাপন করেছে তা দেশে যেমন ধীকৃত হয়েছেন তেমনি দেশের বাইরেও এই  নেক্কারজনক কাজের জন্য অনেক নিন্দিত হতে হয়েছে।  সাধারন মানুষও  গ্রামে গঞ্জে শহরে বন্দরে বিএনপির মত একটি দলের কাছ থেকে এ রকম অরাজক অবস্থা কখনো কামনা করেনি। বিএনপি জনগণের মেন্ডেট পাওয়ার পর দেশের উন্নয়নে কাজ করবে এটাই ছিল তাদের নিকট জণগনের প্রত্যাশা। প্রতিদ্বন্দ্বী দলকে মেধা ও বুদ্ধির রাজনৈতির মারপ্যাঁচে পরাজিত না করে গ্রেনেড হামলা করে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে দৈহিকভাবে প্রাণে মেরে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়ার বর্বর আচরন মানুষের দীক্ষার কুড়িয়েছে। তার মনে হয়েছিল এটা বিএনপি নেতৃত্বের অপরিনামদর্শী ও মেধা শূন্য রাজনীতির বর্হিপ্রকাশ।

   ২০০১ এক সালে বিএনপিকে মানুষ অনেক প্রত্যাশা নিয়ে ভোট দিয়েছিল একারনে যে, আওয়ামী লীগ ৯৬ সালে নির্বাচনে জিতে ক্ষমতায় আসলেও মেয়াদের শেষের দিকে দূর্নীতিতে নিমর্জিত হয়ে যায়। যার ফলস্রোতিতে ট্রান্সপারেন্সী ইন্টার ন্যাশনাল তাদের মেয়াদের শেষ দিকে সারা বিশ্বে বাংলাদেশকে দূর্নীতিতে এক নম্বর হিসাবে ঘোষনা  করে। এ ভাবমূতি সঙ্কট কাটিয়ে বাংলাদেশ থেকে দূর্নীতিকে দূর করে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে এ চিন্তা মাথায় রেখে বিএনপিকে সেবার মানুষ ভোট দিয়ে ক্ষমতায় বসায়।  কিন্তু জনগনের কথা না ভেবে দেখা গেছে বিএনপি জামাত জোট ক্ষমতায় গিয়ে কিভাবে পয়সা কামায় করে অতি সহসা বড় লোক হওয়া যাবে সেদিকেই বেশী মনোযোগী হয়ে পড়ে। দেশের উন্নয়নে তারা তেমন কোন মাথা ঘামায়নি। সারাদেশে মানুষের মুখে মুখে তারেক জিয়া  আর খোকোর দূর্নীতির কথা। সাধারন মানুষের ভাষ্য হল দূর্নীতি সব সরকারের আমলে কম বেশী হয়ে থাকে। দূর্নীতিকে সমূলে ধংষ করা কোন দিনই সম্ভব নয়,  কিন্তু দূর্নীতি করে উন্নয়ন কাজের সিংহভাগ অর্থ নয় ছয় করা হলে  তাও আবার নেতৃত্বের শীর্ষ পর্যায় থেকে, তা হলে দূর্নীতি যেমন বৈধতা পেয়ে যায়, তেমনি দূর্নীতিবাজরা আস্কারা পেয়ে দ্বিগুন উৎসাহে দূর্নীতিতে আরো ধাবিত হয়। বি এন পি আমলে বিদ্যুৎ নিয়ে দূর্নীতি, গ্যাস ক্ষেত্রের ইজারা নিয়ে দূর্নীতি এসব কিছু তার জলন্ত প্রমান।

শুধু তাই নয়, সার নিয়েও চলেছে তেলেসমাতি কান্ড যাতে প্রাণ হারিয়েছে নিরীহ কৃষক। হাওয়া ভবনের দাপটে সৎ ব্যসায়ীরাও জিম্মি ছিল। হাওয়া ভবনে কমিশন না দিয়ে ব্যসায়ীদের ব্যবসা করা প্রায় অসম্ভব ব্যপার হয়ে পড়েছিল। মানুষ এতসব নিরবে সহ্য করলেও শুধু সময়ের অপেক্ষায় ছিল নির্বাচনের জন্য।

বিএনপি নেতৃত্ব বুঝেছিল তাদের যে আকাশ ছোঁয়া দূর্নীতি তাতে জনগন এবার তাদের রাষ্টীয় ক্ষমতায় বসাবে না। তাই তারা নানা ফন্দী ফিকির করছিল কিভাবে ছল চাতুরী করে ক্ষমতাকে পুর্নবার পাকাপোক্ত করা যায়। যার জন্য এত কারসাজি। ফলে রক্তারক্তি, অরাজকতা। 

       প্রান্ত অনেক ভেবে চিন্তে একটি মূল্যায়ন বের করে কেন ৯১ থেকে তুলনামূলক বিচারে ২০০১ এর বিএনপি সরকার এত বিশৃঙ্খল অদক্ষ, দূর্নীতিতে নিমর্জিত ও অগোছালো ছিল। মূল্যায়নে বেরিয়ে আসে ৯১ সালের শাসনামলের বিএনপি রাজনীতিতে তারেখ জিয়া মূখ্য ভূমিকা পালনকারী নিয়মক শক্তি ছিলনা। তখন বিএনপির  রাজনীতিতে সিদ্ধান্ত গ্রহন প্রক্রিয়ায় ছিল জৈষ্ঠ নেতাদের মতামতের গুরুত্ব । কিন্তু ২০০১ সালে তারেক জিয়া বিএনপি রাজনীতিতে দানবীয় শক্তি রূপে আর্বভূত হলে বিএনপির জৈষ্ঠ্য নেতাদের অভিজ্ঞতা, মেধার মূল্যায়ন না হয়ে কিছু অপরিপক্ষ অল্পবয়সী বন্ধু বান্ধব বেষ্টিত হয়ে 'হাওয়া ভবন' থেকে সব কিছু পরিচালিত করেছেন।  কেন জানিনা বেগম জিয়া মাতৃ স্নেহে আবিষ্ট হয়ে নাকি পুত্রকে ইচ্ছাকৃতভাবে বিভিন্ন অন্যায় বা অনৈিতক কর্মকান্ড থেকে বিরত রাখেননি বা রাখতে সক্ষম হননি। যার মাসুল আজ বিএনপিকে কড়ায় গন্ডায় দিতে হচ্ছে।


  প্রান্ত নিজেকে প্রশ্ন করে এত কিছুর পরও কেন রাজনৈতিক দলগুলার বোধোদয় হয়না ? ক্ষমতায় গেলে মনে করে এ ক্ষমতা তাদের চির দিন থাকবে। তাদের কোন দিনই এর জন্য জবাবদীহি করতে হবেনা। যখন মেয়াদ শেষ হয় তখন আর নিজেদের আস্থার ঘাটতি দেখা দেয়। ভাবে নির্বাচনী বৈতরনী পার হয়ে কিভাবে পুনরায় ক্ষমতায় আসবে। আর ক্ষমতায় আসতে না পারলে তো তাদের দ্বারা সংঘটিত দূর্নীতির জন্য তাদের আবার কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। এজন্য  চলে নানা ইঞ্জিনিয়ারিং, নানা কারসাজি ।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

২৬ তম পর্ব ২০০৬ সালে বি এন পি'র তত্ত্বাবধায়ক সরকার নাটক:

 . ২০০৬ সালে বি এন পি'র তত্ত্বাবধায়ক সরকার নাটক:-২০০৬ সলের জোট সরকার মেয়াদ শেষ হলে ক্ষমতা ছাড়ার সময় অাবার দেখা দেয় দুই প্রধান দল তথা জোট...