Pages

মঙ্গলবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২২

২০ তম পর্ব “চোখে দেখা রাজনীতি”র এ পর্বে আছে ঳ তিন জোটের রূপরেখা

 



তিন জোটের রূপরেখা:-মুক্তিযুদ্ধের পর আবার গোটা জাতি একটি প্লেট ফর্মে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার সুযোগ হয়েছিল। এই ঐক্যের তীব্র তোড়ে ভেসে গিয়েছিল স্বৈরাচারী এরশাদের মসনদ। এআন্দোলনের নপথ্যে ছিল একটি সার্বজনীন ঘোষণা পত্র যার নাম তিন জোটের রূপরেখা। আওয়ামীলীগ নেতৃত্বাধীন১৫ দল, বি এন পি নেতৃত্ত্বাধীন ৭দল, আর জাসদের নেতৃত্বে আরো পাঁচটি বাম দল ১৯৯০ সালের ২১ নভেম্বর যৌথভাবে এ রূপরেখা ঘোষণা করেছিল। জামাত কোন জোটে না থাকলেও আন্দোলনে অংশ গ্রহন করেছিল।

নবব্বয়ের তিন জোটের রূপ রেখা যা একটা যৌথ  ঘোষনার মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছিল। মূলতঃ তাতে দুটি দলিল ছিল,  একটি মূল ঘোষণা একটি আচরন বিধি।

মূল ঘোষনাটি ছিল নিম্নরূপ:-

১) হত্যা ক্যূ চক্রান্তের ও ষড়যন্ত্রের ধারায় প্রতিষ্টিত স্বেরাচারী এরশাদ সরকারের কবল থেকে দেশকে মুক্ত করে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ধারায় দেশে পূর্ণ গনতন্ত্র ও গনতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় প্রতিষ্ঠা কল্পে :-

ক) এক সংবিধানের ধারা অব্যাহত রেখে এরশাদ ও তার সরকারকে পদত্যাগে বাধ্য করে স্বৈরাচার ও সাম্প্রদায়িকতা বিরুধী আন্দোলনরত তিন জোটের নিকট গ্রহনযোগ্য একজন নির্দলীয় এবং নিরপেক্ষ ব্যাক্তিকে উপরাষ্ট্রপতি পদে নিয়োগ করবেন।  বর্ত্তমান সরকার ও সংসদ বাতিল করে রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করে উক্ত উপরাষ্ট্রপতির নিকট ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন।

খ) এই পদ্ধতিতে উক্ত ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির নেতৃত্বে একটি অন্তরবর্তীকালীন তত্বাবদায়ক সরকার প্রতিষ্টিত হবে। যার মূল দায়িত্ব হবে তিন মাসের মধ্যে একটি স্বার্বভৌম জাতীয় সংসদের অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করা।

২) (ক) তত্ত্বাবদায়ক সরকারের প্রধান নির্দলীয় এবং নিরপেক্ষ হবেন। অর্থাৎ তিনি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কোন দলের অনুসারী বা দলের সাথে সম্পৃক্ত হবেন না।

  খ) অন্তর্বতী সরকার শুধু প্রশাসনের দৈনন্দিন নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা সহ অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন পূর্নগঠন ও নির্বাচন কার্যক্রম পূর্নবিন্যাস করবেন।

 গ) গন প্রচার মাধ্যমকে পরিপূর্ণভাবে নিরপেক্ষ রাখার উদ্দেশ্যে রেডিও টেলিভিশন সহ সকল প্রচার মাধ্যমকে স্বাধীন ও স্বায়ত্বশাসিত সংস্থায় পরিনত করতে হবে এবং নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী সকল দলের  প্রচারনার অবাধ সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।

৩)  অবাধ নিরপেক্ষ নির্বচনের মাধ্যমে নির্বাচিত

স্বার্বভৌম সংসদের নিকট অন্তরবর্তী কালীন তত্ত্বাবদায়ক সরকার ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন। এবং এ সংসদের নিকট সরকার জবাবদিহী করতে বাধ্য থাকবে।

৪) (ক) জনগনের সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতির ভিত্তিতে দেশে সাংবিধানিক শাসনের ধারা নিরঙ্কুস ও অব্যাহত  রাখা হবে। এবং অসংবিধানিক কোন পন্তায় ক্ষমতা দখলের প্রচেষ্টা প্রতিরোধ করা হবে। নির্বাচন ব্যতীত অসংবিধানিক বা সংবিধান বর্হিভূত কোন পন্তায় কোন অজুহাতেই নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যূত করা যাবেনা।

খ) জণগনের মৌলিক অধিকার সংরক্ষন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করা হবে।

গ) মৌলিক অধিকারের পরিপন্তী সকল আইন বাতিল করা হবে। (২১/১১/৯০)

তিন জোটের রূপরেখায় মূল ঘোষনার সাথে একটি আচরন বিধিও তৈরী করা হয়েছিল। (সহায়ক সূত্র-,সংকট নিরসনে নব্বয়ের তিন জোটের প্রসঙ্গীকতা,যায় যায় দিন, জুলাই ৪,২০১৩,)

 এরশাদ পতনের পর প্রসিডেন্ট সাহাবুদ্দিন যে উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করেন। তাতে তাদের সততা এবং যোগ্যতা নিয়ে করো কোন প্রশ্ন ছিল না। একটা সুষ্টু অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন যে অনুষ্টিত হবে সবার মাঝে সে প্রত্যয় দেখা দিল।

এদিকে এরশাদকে প্রথমে তার গৃহে আটকে রাখা হয়। বি বি সি'কে দেয়া তার এক সাক্ষাৎকারে উত্তেজনা দেখা দিলে পরে তাকে দূর্নীতির দায়ে গ্রেফতার করা হয়। গুলশানের একটি বাড়ীকে সাব জেল ঘোষনা করে তাকে পরিবার সহ থাকার সুযোগ দেওয়া হয়। পরে জনগনের চাপে তাকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে স্তানান্তর করা হয়। এই নির্বাচনে জাতীয় পার্টিকেও অংশ গ্রহনের সুযোগ দেওয়া হয়।

তত্ত্বাবদায়ক সরকার যখন নির্বাচন নিয়ে তোড়জোর শুরু করে তখন রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সরকার পদ্ধতি নিয়ে শুরু হয় তুমুল বিতর্ক। আওয়ামীলীগ সহ বেশীরভাগ দলই সংসদীয় পদ্ধতির পক্ষে মত দেয়। বি এন পি প্রেসিডেন্ট পদ্ধতির পক্ষে থাকলেও পরে অবশ্য সংসদীয় পদ্ধতির সরকার মেনে নেয়। এভাবে সব দলের অংশ গ্রহনে শুরু হয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন।

 প্রান্তের ভাবনা :-প্রান্ত এখনো ভূলে যায়নি এরশাদ পতনের সেই স্মৃতি। তখন চট্টগ্রামের  রাজপথে নেমেছিল উল্লাসিত জনতার ঢল। জনতার উল্লাস দেখে তার মনে পড়ে গিয়েছিল ১৬ই ডিসেম্বর পাক বাহিনীর আত্মসমর্পণে জনতার সেই ঢেউ জাগা বাঁধ ভাঙ্গা উল্লাসের কথা। সেদিন তারা মুক্তিযুদ্ধারা ছিল সেই বিজয় মঞ্চের নায়ক, আর আজকে প্রান্ত ও তার বান্ধবী  ফরজানা বীথি অন্যান্য সাধারন জনতার মত আজকের বিজয় মঞ্চের দর্শকমাত্র। এসব স্মৃতি জাগানিয়া বিষয় নিয়ে ভাবতে ভাবতে প্রান্ত তার বান্ধবী বীথীকে নিয়ে শহরের সারা রাজপথ অলি গলি ঘুরে ঘুরে দেখেছে স্বৈরাচার পতনে মানুষের স্বতঃস্ফুর্ত আনন্দ উন্মাদনা। তবে তার মনে একটা শঙ্কাবোধও কাজ করছে, এ আনন্দ জানিনা কতদিন স্থায়ী হয়। নাকি স্বাধীনতার পর জনতা যে বিজয় অর্জন করেছিল, সে বিজয়ের অর্জনগুলো যেভাবে প্রতিবিপ্লবীরা ষড়যন্ত্র করে ধংষ করে দিয়েছিল সে রকমভাবে এ বিপ্লবও স্বার্থ, অর্থ, লোভ আর ষড়যন্ত্রের যাঁথা কলে পিষ্ট হয়ে আবার হারিয়ে যায়। এসব ভেবে ভেবে সারা শহর হাঁটতে হাঁটতে প্রান্ত  তার বান্ধবী বীথিকে নিয়ে চট্টগ্রাম রেলওয়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আধার সিআরবিতে শতবর্ষী একটি বৃহৎ বৃক্ষ ছায়া শোভিত একটি ঘন গাছের নীচে বসে অনেক ক্ষণ কথা বলল। সে কথায় আসল শিল্প, সংস্কৃতি, , সমাজনীতি, রাজনীতি। এভাবে রাজনীতির পথ বেয়ে এক সময় এসব বাস্তবতা ছেড়ে তারা দুজন চলে যায় অন্য আর এক জগতে । সে জগৎ স্বপ্নের জগৎ ভালবাসার জগৎ। এ জগতে দুজনা দুজনকে আরো কাছে বলে আবিস্কার করল, এতদিন দুজের মনের অব্যক্ত ভালবাসর কথা, যা দ্বিধা দ্বন্দ্ব আর লাজ লজ্জায় বলতে পারনি তা আজ একে অন্যকে বলছে বাঁধ ভাঙ্গা উচ্ছাসে। যে কঠিন অথচ সহজ কথা ভালবাসি আজ দুজন দুজনকে বলতে পেরেছে নির্ধিদায়। স্বৈরাচার পতনের এ দিবসে দুজনের মধ্যে যে ভালবাসার ভিত রচিত হল। তাতে দুজনে শপথ নিল তারা দুজনে দুজনার আজীবন ভালবাসার মানুষ হয়ে থাকবে। এভাবে এক স্বপ্নীল রোমান্টকতার আবহে তারা যে অনেক সময় পার করে দিয়েছে তা গুনাক্ষরেও বুঝতে পারেনি। এক সময় গাছের ডালের চড়ুই শালিকের কিচির মিচির শব্দে দুজনের শম্বিত ফিরে পায়। তখন সন্ধ্যার জাফরানী রং সারা আকাশ জুড়ে প্রান্ত এবং ফারজানার  জন্য স্বপ্নীল জগৎ তৈরী করে রেখেছে। এ স্বপ্নীল জগতে পয়চারী করতে করতে প্রান্ত এবং তার বাগদত্তা বান্ধবী ফারজানা  ফিরে আসে বাস্তবতায়। আবার চারিদিকে কোলাহল স্বৈরাচারের পতন আনন্দ, শ্লোগান, মানুষের হাঁক ডাক, ব্যস্ততা মুখর পথঘাট রাজ পথ। এ ব্যস্ততার মধ্য দিয়ে তারা ফিরে গেল যার যার গন্তব্যে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

২৬ তম পর্ব ২০০৬ সালে বি এন পি'র তত্ত্বাবধায়ক সরকার নাটক:

 . ২০০৬ সালে বি এন পি'র তত্ত্বাবধায়ক সরকার নাটক:-২০০৬ সলের জোট সরকার মেয়াদ শেষ হলে ক্ষমতা ছাড়ার সময় অাবার দেখা দেয় দুই প্রধান দল তথা জোট...