Pages

মঙ্গলবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২২

১৯তম পর্ব “চোখে দেখা রাজনীতি”র এ পর্বে আছে নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থান এবং এরশাদের পতন

 




৯০এর গনঅভ্যুত্থান এবং স্বৈরশাসক এরশাদের পতন:-২৪শে মার্চ লেঃ জেনারেল হোসেন মোহাম্মদ এরশাদ ক্ষমতা দখল করেই সামরিক আইন জারী করেন। সেই সামরিক আইনের বিরুদ্ধে প্রথম প্রতিবাদ করে ছাত্ররা।  ১৯৮৩/৮৪সালে  বেশ কয়েকটি ছাত্র সংগঠনের সমন্বয়ে গঠে উঠা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের মিছিলে সেনাবাহিনীর হামলায় জাফর, জয়নাল, কাঞ্চন, দীপালী সাহা সহ অনেক ছাত্রছাত্রী নিহত হয়। তখন থেকে এরশাদের বিরুদ্ধে লাগাতার আন্দোলন শুরু হয়। এই আন্দোলনকে গন অভ্যুত্থানে রূপ দিতে জাতিকে অনেক চড়ায় উৎরায় পার হতে হয়েছে। দীর্ঘ নয় বৎসর কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র জনতাকে লড়াই করতে হয়েছে। অসংখ্য ছাত্র শ্রমিক জনতাকে প্রাণ দিতে হয়েছে। ছাত্র জনতার এই জানবাজি লড়ায়ের শুরুতেই ৮৩ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারী ড. কামাল হোসেনের বাড়ীতে বৈঠকরত জাতিয় নেতাদের গ্রেফতার করে চোখ বেঁধে কেন্টনমেন্টে নিয়ে নির্যাতন করা হয়। সেই সাথে সারা দেশে হাজার হাজার নেতা কর্মীদের গ্রেফতার করা হয়।

১৯৮৭ সালে  সময়ের সাহসী সন্তান নূর হোসেন রাজ পথে স্বৈরাচারের ভীত কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন। "স্বৈরাচার নিপাত যাক, গনতন্ত্র মুক্তি পাক" শ্লোগান বুকে পিঠে লাগিয়ে  ১৯৮৭ সালের ১০ই নভেম্বর স্বৈরাচারী এরশাদ সরকারের পদত্যাগ ও নিরর্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধারক সরকারের অধীনে সংসদ নির্বাচনের দাবীতে ৫,৭,৮দলের অবরোধ কর্মসূচী পালনকালে মিছিলে যোগদান করেন।  সেই সময় "স্বৈরাচার নিপাত যাক, গনতন্ত্র মুক্তি পাক" বুকে লেখা এই অগ্নি স্ফুলিঙ্গের মত টকবগে তরুনকে দেখে পুলিশ গুলি চালালে  জি পি ও'র সামনে জিরো পয়েন্টে নূর হোসেন নিহত হন। তার সাথে আরো নিহত হন  নুরুল হুদা বাবুল এবং ক্ষেত মজুর নেতা আমিনুল হুদা টিটু । নুর হোসেন সহ এসকল শহীদের আত্মত্যাগে স্বৈরাচার বিরুধী আন্দোলন আরো বেগবান হয় এবং তিন জোটের আন্দোলন অপ্রতিরোধ্য গতি লাভ করে।

এক সময় মনে হয়েছিল  এই বুঝি স্বৈরাচারী এরশাদের পতন হবে। কিন্তু পতন থেকে রক্ষা পান এরশাদ।

 ১৯৮৮ সালে আ স ম আব্দুর রবদের মত দালাল জুটিয়ে এরশাদ ভোটারবিহীন নির্বাচন করে আরো কিছু দিন স্বৈরাচারী শাসন দীর্ঘায়িত করলেও এ নির্বাচনে জন রোষ এমনভাবে ফোঁসে উঠেছিল যে  এই জন রোষে এরশাদ বিরুধী আন্দোলন আবারো নতুন মাত্রা পায়। ১৯৮৮ সালে ২৪শে জানুয়ারী চট্টগ্রামে কোর্ট বিল্ডিং এর সামনে এরশাদের পুলিশ বাহিনী শেখ হাসিনাকে লক্ষ্য করে গুলি বর্ষন করলে শেখ হাসিনা প্রানে রক্ষা পেলেও  এ ঘটনায় ৩০ জন আওয়ামীলীগ নেতা কর্মী শহীদ হন।  সে সময় এরশাদ বিরুধী আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী তিন জোট, ৮,৭,৫, দল এক খাট্টা হয়ে কোমর বেঁধে আন্দোলনে নামে। নব্বই সালে এসে এই আন্দোলন আরো বেগবান ও তীব্রতা লাভ করে। এরপর স্বৈরাচারী এরশাদ বিরোধী ধারাবাহিক আন্দোলনের এক পর্যায়ে ১৯৯০ এর ১৯ অক্টোবর  তিন জোটের রূপরেখা ঘোষনা করা হয়। এ ঘোষনার পর সারাদেশে বিক্ষোভ ও গণ আন্দোলন ক্রমান্বয়ে তীব্র থেকে তীব্রতর হতে থাকে। ২৭শে অক্টোবর এরশাদের গুন্ডাবাহিনী বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশনের যুগ্ম মহাসচিব ডা: শামশুল আলম খান মিলনকে হত্যা করলে সারা দেশে বিক্ষোভের আগুন দাউ দাউ করে জ্বলে উঠে। অবস্থা বেগতিক দেখে এরশাদ দেশে জরুরী অবস্থা জারী করেন। আওয়ামীলীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে গৃহবন্দী করেন, বি এন পি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া গ্রেফতার এরিয়ে আত্ম গোপনে চলে যান । সংবাদ পত্রের উপর সেন্সারশীপ আরোপ করা হয়।  এর প্রতিবাদে ডি এফ ইউ জে এবং ডি ইউ জের ডাকে সাংবাদিকরা এরশাদের পতন না হওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট পালনের ঘোষনা দেন। ফলে সারা দেশে সব সংবাদপত্রের প্রকাশনা বন্ধ থাকে। সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্য, তিন দলীয় ঐক্য জোটের মিলিত আন্দোলনে জনগণ সম্পৃক্ত হলে এরশাদের সেনা সমর্থিত সরকার  একেবারে কোণঠাসা হয়ে পড়ে।  সরকার ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে ঢাকা শহরে কার্ফিউ জারী করে। কর্ফিউ ভঙ্গ করে হাজার হাজার জনতা ঢাকার রাজপথে নেমে আসে।

অবশেষে ১৯৯০সালের ৪ঠা ডিসেম্বর গণ আন্দোলনের মুখে এরশাদ পদত্যাগের ঘোষনা দেন। দীর্ঘ নয় বৎসর ধরে পরিচালিত গন অন্দোলন গনঅভ্যূত্থানে রূপ নিলে ১৯৯০ সালের ৬ই ডিসেম্বর স্বরাচারী এরশাদ পদত্যাগে বাধ্য হন।

এরশাদ পদত্যাগ করে তিন দলীয় জোটের গ্রহনযোগ্য ব্যক্তি বিচারপতি শাহাবুদিনের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে গেলে কিছুটা সাংবিধানিক জঠিলতার সৃষ্টি হয়। সে কারনে (তিন জোটের রূপরেখা অনুযায়ী)এরশাদ তাঁর তৎকালীন ভাইস প্রেসিডেন্ট বারিষ্টার মওদূদ আহাম্দকে ভাইস প্রেসিডেন্ট পদ থেকে পদত্যাগ করিয়ে সে জায়গায় বিচারপতি সাহাবুদ্দিনকে ভাইস প্রসিডেন্ট হিসাবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তারপর ৬ই ডিসেম্বর এরশাদ পদত্যাগ করলে তার শূন্য পদে সংবিধান অনুযায়ী ভাইস প্রেসিডেন্ট সাহাবুদ্দিন প্রেসিডেন্ট হিসাবে অধিষ্টিত হন।(সহায়ক সূত্র-.তিন জোটের রূপ রেখা এবং নব্বই এর গণ অভ্যূত্থান, মাহবুব আলম, ভোরের ডাক,২৮শে অক্টোবর,২০১৫)

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

২৬ তম পর্ব ২০০৬ সালে বি এন পি'র তত্ত্বাবধায়ক সরকার নাটক:

 . ২০০৬ সালে বি এন পি'র তত্ত্বাবধায়ক সরকার নাটক:-২০০৬ সলের জোট সরকার মেয়াদ শেষ হলে ক্ষমতা ছাড়ার সময় অাবার দেখা দেয় দুই প্রধান দল তথা জোট...