Pages

মঙ্গলবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২২

#১৮তম পর্ব “চোখে দেখা রাজনীতি”র এ পর্বে আছে ঳ এরশাদের শাসনকাল

 




এরশাদের শাসনকাল:-
১৯৮২ সালের ২৪শে মার্চ আব্দুস সাত্তারের নির্বাচিত সরকারকে হটিয়ে ক্ষমতা দখলের পর ২৭ শে মার্চ বিচারপতি আহসান উদ্দীন চৌধূরীকে প্রেসিডেন্ট হিসাবে নিয়োগ করেন। তবে ঘোষিত সামরিক আইনে প্রেসিডেন্টের কোন ক্ষমতা ছিলনা। সব ক্ষমতা ছিল  (Chif marshal law admistator)সি এম এল এর উপর। সি এম এল এর অনুমোদন ব্যতীত তিনি কোন ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারতেন না। এই নখ দন্তহীন প্রসিডেন্টও বেশীদিন ঠিকতে পারেননি। ১৯৮৩ সালের ১১ই ডিসেম্বর প্রেসিডেন্ট আহসান উদ্দীন চৌধূরীকে অপসারন করে জেঃ এরশাদ নিজেই প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহন করেন।

  ১৯৮৪ সালে এরশাদ স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় উপজেলা পদ্ধতি চালু করেন। উপজেলা সমূহের প্রথম নির্বাচন অনুষ্টিত হয় ১৯৮৫ সালের মে মাসে। তারপর ১৯৮৬ সালের মে মাসে এরশাদ সংসদীয় নির্বাচন দেন। এ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ প্রথমে নির্বাচনে অংশ গ্রহন না করার ঘোষনা দিলেও পরে নির্বাচনে অংশ গ্রহন করে। বিএনপি নির্বাচন বর্জন করে। এ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের বিজয় দেখে এরশাদ মিডিয়া ক্যূর মাধ্যমে ব্যাপক কারচুপি করে ফলাফল তার পক্ষে নিয়ে আসেন। কারচুপির মাধ্যমে এ নির্বাচনে এরশাদের জাতীয় পার্টি সংসদে নিরঙ্কুস সংখ্যগরিষ্টতা অর্জন করে। এর পর একিই বৎসর অক্টোবর মাসে প্রধান বিরুধীদল গুলোর নির্বাচন বর্জনের মধ্য দিয়ে আয়োজিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এরশাদ তার জাতীয় পার্টির মনোনয়নে পাঁচ বছরের জন্য প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবার পর ১৯৮৬ সালের ১০ই নভেম্বর তৃতীয় জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধীবেসন আহ্বাণ করেন। সংবিধানের সপ্তম সংশোধনী আইন পাশ করে সেদিন জাতীয় সংসদ সংবিধান পুর্নবহাল করেন। এর মাধ্যমে ১৯৮২ সালের ২৪শে মার্চ তার ক্ষমতা দখল সহ সামরিক আইন বা বিধি বিধান দ্বারা সম্পাদিত সকল কাজ ও পদক্ষেপকে বৈধতা দেওয়া হয়। তবে বিরুধী দলের প্রবল আন্দোলনের মুখে ১৯৮৭সালের ৭ই ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতি এরশাদ তৃতীয় জাতীয় সংসদ বিলুপ্ত ঘোষনা করতে বাধ্য হন। প্রধান বিরুধীদলগুলো এরশাদের দেয়া ১৯৮৮সালের ৩রা মর্চের সাধারন নির্বাচনও বর্জন করেন। এইভাবে এরশাদের অপশাসনের বিরুদ্ধে বিরুধী দলগুলোর আন্দোলন অবিরাম চলতে থাকে। অবশেষে প্রবল গণআন্দোলনের মুখে ১৯৯০ সালে এরশাদ পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।

এরশাদও স্বাধীনতা বিরুধী, সাম্প্রদায়িক শক্তি, ও বঙ্গবন্ধুর খুনীদের পুর্নবাসন করেন :-এরশাদও জিয়ার মত ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করছেন, ১৯৮৮সালে ৮ জুন  সংসদে অষ্টম সংশোধনী বিল পাশ করার মধ্য দিয়ে ইসলামকে রাষ্ট্র ধর্ম করা হয়। এতে মুক্তিযুদ্ধের অসাম্প্রদায়িক চেতনা বিশেষভাবে রাষ্ট্র কতৃক ধর্মকে প্রধান্য না দেওয়ার অঙ্গীকার দারুন ভাবে ভূলুন্ঠিত হয়। তিনি তার পূর্বসূরীর পদাঙ্ক অনুশরন করে সাম্প্রদায়িক রাজনীতি, স্বাধীনতা বিরুধীদের পুনর্বাসন, বঙ্গবন্ধুর খুনীদের পৃষ্টপোষকতার ধারবাহিতা অব্যাহত রেখেছিলেন। পাকিস্থানের আইএসআই, লিবিয়া সরকার এবং মধ্যপ্রচ্যের জঙ্গী সংগঠন ব্রাদারহুডের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় ১৯৮৬সালে বাংলাদেশে ফ্রিডম পার্টির যাত্রা শুরু হয়। বাংলাদেশে ধর্মীয় জঙ্গীবাদেরও প্রত্যক্ষ তৎপরতা শুরু হয় এরশাদ আমলে বঙ্গবন্ধুর খুনীদের গঠিত ফ্রীডম পার্টির হাত ধরেই।  ১৯৮৮সালের নির্বাচনে ফ্রিডম পার্টি ১১১টি আসনে প্রার্থী দেয় এবং দুইটি আসনে জয়লাভ করে।  (বি এন পির আস্তিনের নীচে জঙ্গীবাদের ফনা,রায়হান কবির,২৯শে আগষ্ট,২০১৬, চেনেল আই অন লাইন, ২৮শেঅক্টোবর,২০১৭)

 

এরশাদের দূর্নীতি :-এরশাদ ক্ষমতায় এসেছিলেন দূর্নীতির বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষনা করে।  কিন্তু দেশে বিদেশে তিনিই চিহ্নিত হয়েছেন দূর্নীতি পরায়ন রাষ্টপতি হিসাবে। দরিদ্র দেশের ধনী রাষ্ট্রপতি এমন একটা কথা আন্তর্জাতিক মহলে এরশাদ সম্পর্কে প্রচলিত ছিল। নয় বছর দেশ শাসনে তাঁর বিরুদ্ধে ছিল সীমাহীন দূর্নীতি স্বজনপ্রীতি বিদেশে অর্থপাচার সহ নানা অভিযোগ। ১৯৮৬ সালে লন্ডনের অবজারভার পত্রিকার ৩১ আগষ্ট সংখ্যার এক প্রতিবাদনে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি এরশাদ ক্ষমতা গ্রহনের পর তিনি আর তার স্ত্রী সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন। তাঁর স্ত্রী সে সময় দেশের রাজনীতি এবং অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে এমনভাবে শংশ্লিষ্ট ছিলেন যে তাকে তখন ক্ষুদে ইমেলদা হিসবে আখ্যায়িত করা হত। সানডে করেসপনডেন্টের রিপোর্টে বলা হয় রাষ্ট্রপতি এরশাদ বৈদেশিক সাহায্যের  লাখ লাখ ডলার আত্মসাৎ করে জমা করেছেন লন্ডন, সুইজারলেন্ড, হংকং সহ মধ্য প্রাচ্যের বিভিন্ন ব্যাঙ্কে। ৮৬ সালে লন্ডন অবজারভার পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়, এরশাদ তার কিছু মন্ত্রী ও ঢাকার কিছু ব্যবসায়ীর সহযোগিতায় সীমসহীন দূর্নীতি চালিয়েছেন। বিভিন্ন ব্যবসা থেকে বিপুল অংকের পার্সেন্টইজ গ্রহন করেছেন। আমদানী, বিমান ক্রয়, বিমান বন্দর নির্মান, গ্যাস ও রাসায়নিক খাত এমন কোন খাত নেই যে খাত থেকে তিনি এবং তার স্ত্রী লাভবান হননি।

এরশাদের কিছু ভাল উদ্যোগ:-

এরশাদের আমল মূলত দেশব্যাপী উপজেলা স্থানীয় সরকার পদ্ধতি প্রবর্তনের জন্য স্বরনীয় হয়ে থাকবে। প্রেসিডেন্ট এরশাদ  স্থানীয় তৃণমূল পর্যায়ে জনগণের অনুকূলে সদ্ধান্ত গ্রহনের ক্ষমতা কার্যকরভাবে বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে প্রশাসন ও পরিকল্পনায় তাদের অংশগ্রহনের উপর গুরুত্বারোপ করেছিলেন। তাই উপজেলা গুলোকে উন্নয়ন প্রশাসনের কেন্দ্র বিন্দু হিসাবে উন্নীত করার মাধ্যমে বিকেন্দ্রীকরণের এই ধারনাকে বাস্তবে রূপ দেয়ার চেষ্টা করেছেন।

এরশাদের আর একটি সাফল্য হল দক্ষিণ এশিয়া সহযোগিতা সংস্থা সার্ক গঠনে প্রায়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্যোগকে সামনে এগিয়ে নেওয়া। ১৯৮৫ সালের ৭ই ডিসেম্বর এরশাদের আমন্ত্রণে এ অঞ্চলের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানরা ঢাকায় একটি শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেয়। এই প্রথম শীর্ষ সম্মেলনেই দক্ষিন এশিয়ার নেতারা সার্ক গঠনের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত গ্রহন করে। যাতে অন্তর্ভূক্ত হয় ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্থান,নেপাল, ভূটান, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ।

এছাড়া ভূমি সংস্কার, ভূমিহীন ও প্রান্তিক চাষীদের মধ্যে খাস জমি বিতরন। অপারেশান ঠিকানা নামে ভূমিহীনদের জন্য খাস জমিতে গুচ্ছ গ্রাম প্রতিষ্টা, বর্গাচাষীদের আইনগত অধিকার প্রদান ইত্যাদী জন কল্যামূলক কাজ তিনি হাতে নিয়েছিলেন। যার বেশীর ভাগই ব্যর্থতায় বর্যবসিতঃ হয় আমলাতান্ত্রিক অদক্ষতা এবং দূর্নীতির কারনে।

(Ref.বাংলা পিডিয়া, বাংলাদেশ জাতীয় জ্ঞানকোষ/এরশাদ, লেঃ জেঃ হোসেন মোহাম্মদ এরশাদ)

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

২৬ তম পর্ব ২০০৬ সালে বি এন পি'র তত্ত্বাবধায়ক সরকার নাটক:

 . ২০০৬ সালে বি এন পি'র তত্ত্বাবধায়ক সরকার নাটক:-২০০৬ সলের জোট সরকার মেয়াদ শেষ হলে ক্ষমতা ছাড়ার সময় অাবার দেখা দেয় দুই প্রধান দল তথা জোট...