Pages

সোমবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২২

১২তম পর্ব “চোখে দেখা রাজনীতি”র এ পর্বে আছে ঳ নিষিদ্ধ বঙ্গবন্ধু ঳ বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে নানা মিথ্যা গুজব

                                       

নিষিদ্ধ বঙ্গবন্ধু:-১৫ই আগষ্টের হত্যাকান্ডের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ নামক দেশটির সাথে জনকের সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যায়। রাষ্টীয় পৃষ্টপোষকতায় নিষিদ্ধ করা হয় মুজিবকে। শেখ মুজিবের মৃত্যুর পর মোশতাক তারপর জিয়া তার বিরুদ্ধে মিথ্য অপপ্রচার চালিয়ে যেতে থাকে। শেখ মুজিব যেন বাংলাদেশের এক ঘৃনিত মানুষ। তিনি দেশের সম্পদ বিদেশে পাচার করে  বিদেশী ব্যঙ্কে কৌটি কৌটি টাকা জমা করেছেন, শেখ মুজিবের ছেলে শেখ কামালের বিয়েতে কনের জন্য রাজকীয় মুকুট বানানো হয়েছে। পরিত্যক্ত ৩২ নম্বরে শত শত ভরি স্বর্ণ পাওয়া গেছে ইত্যাদী ইত্যাদী। তিনি ছিলেন নিষিদ্ধ গুন্ধম ফলের মত।  সরকারী প্রচার মাধ্যম দূরে থাক বেসরকারী গণমাধ্যমেও তাঁর কোন সংবাদ প্রচার করা যেত না।  সেই সময় ১৯৭৭ সালে বাংলা একাডেমির ২১শে ফেব্রুয়ারীর এক অনুষ্টানে বঙ্গবন্ধুর নাম প্রথম প্রকাশ্যে উচ্ছারন করার দুঃসাহস দেখিয়েছিলেন কবি নির্মলেন্দ গুন তার একটি কবিতার মাধ্যমে। "আমি আজ করো রক্ত চাইতে আসিনি" নামের কবিতাটি আবৃত্তি করে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে নিয়ে জিয়া সব সময় আতঙ্কিত ছিলেন !  তার বঙ্গবন্ধু নামক উপাধীকেও স্বৈরাশাসক জিয়াউর রহমান ভিষণ ভয় করতেন। পূর্বেই উল্লেখ করেছি আওয়ামীলীগ জিয়ার রাজনৈতিক দলবিধির আওতায় দল গঠনের আবেদন করলে, আবেদনে বঙ্গবন্ধু শব্দটি থাকায় আওয়ামীলীগের সে আবেদনটি বাতিল করে দেওয়া হয়। পরে বঙ্গবন্ধু নাম পরিহার করার পর আওয়ামীলীগকে অনুমোদন দেওয়া হয়। এভাবে বঙ্গবন্ধুকে, মুক্তিযুদ্ধকে লুকিয়ে রেখে, ভূলভাবে শিক্ষা দিয়ে তিনি একটি প্রজন্মকে সম্পূর্ণভাবে বঙ্গবন্ধু এবং মুক্তিযুদ্ধ বিমূখ করে গড়ে তুলেন।  

বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার না কারার জন্য মোশতাক অধ্যাদেশের মাধ্যমে যে আইন জারী করেছেন। মুক্তিযুদ্ধা স্বৈরাচার জিয়া সে  আইনের সাংবিধানিক বৈধতা দান করেই শুধু ক্ষান্ত হননি, তিনি বঙ্গবন্ধুর খুনীদের বিদেশে বিভিন্ন দূতাবাসে লোভনীয় চাকরীর দিয়ে পুরস্কৃত করে পুর্নবাসিত করেছেন।

জিয়ার খালকাটা বিপ্লব:-

জিয়া সামরিক উর্দী ছেড়ে কাউবয় ড্রেস আর মাথায় ক্যাপ পড়ে গ্রামে গঞ্জে রাজকীয় লটবহর নিয়ে খাল কাটার আন্দোলনে নেমেছিলেন। তিনি  চিন্তা করেন নাই দেশের পানির প্রধান উৎস হল নদী, নদী ভারাট রেখে খাল খনন করলে পানি আসবে কোথা থেকে? এভাবে শুধু কাজের নামে, উন্নয়নের নামে, নতুন ধারার নামে, হুজুগে বাঙ্গালীকে মাতিয়ে রেখে সাময়িক জনপ্রিয়তা লাভ করলেও পরে  সেচ্ছাশ্রমে এ খাল কাটা কর্মসূচীতে ভাটা পড়ে যায়।  ফলে তা কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচীর আওতায় আনা হয়। কারণ বিনা পারিশ্রমিকে কেউ এ কাজ করতে আগ্রহ দেখাচ্ছিল না।  আর এভাবে বেশীর ভাগ টাকা চলে যায় বি এন পি কর্মীদের পকেটে। অনেক খাল খনন কাজ অসমাপ্তভাবে পড়ে থাকায় আখেরে সরকারকে কৌটি কৌটি টাকা গচ্ছা দিতে হয়।

প্রান্তের চোখে :-প্রান্ত শিক্ষকতার জন্য চট্টগ্রাম শহরে অবস্থান করলেও ছুটি ছাটায় গ্রামে আসে, আসলে দেখতে পায় গ্রামের হাওয়া বদলে গেছে সবখানে নতুন হাওয়া, হালুয়া রুটির লোভে তরুন থেকে নিয়ে যুব সমাজ, স্বাধীনতা বিরুধী, লোভী স্বাধীনতার পক্ষ সবাই জড়ো হয়েছে জিয়ার সৃষ্ট  বি এন পি নামক জগা খিচুড়ী দলে। একসময় রাজনৈতিক কর্মীরা স্বচ্ছাশ্রমে রাজনৈতিক দলের মিছিল  মিটিংয়ের আয়োজন করত। টাকা পায়সা কোন মুখ্য ভূমিকা পালন করত না, আদর্শই ছিল মূখ্য। কিন্তু এখনে নব গঠিত সেনাশাসকের বিএনপির আদর্শ হলো হালুয়া রুটির ভাগ পাওয়া। একদিন প্রান্ত ছুটিতে বাড়ীতে এসে চারিদিকে মাইকিংএ শুনতে পায় তার এলাকায় আগামী কাল প্রসিডেন্ট জিয়া এসে খাল কাটা উদ্বোধন করবেন। পরের দিন দেখলেন সত্যিই হেলি কপ্টারে করে লট বহর নিয়ে খাল খনন করতে আসলেন প্রেসিডেন্ট জিয়া, তাদের সাথে এলাকায়  চটুকাররাও জুটল। এরপর কিছুক্ষন হৈ হল্লুড় করে খাল কাটার মহড়া দিয়ে হেলিকপ্টারে করে চলে গেলেন জিয়া।

   প্রান্তদের এলাকায় যারা মুক্তি যুদ্ধের বিরুধীতা করেছিল এখন তারা সবাই জিয়ার দলে, প্রান্তের বাবার পাকিস্থান পন্তী বন্ধু যারা এক সময় মুসলিম লীগ করতো যারা স্বাধীনতার পর ইঁদুরের গর্তে ডুকে গিয়েছিল তারা ও তাদের ছেলে মেয়েরা সবাই জিয়ার দলে স্বসম্মানে ডুকে পড়েছে। শুধু প্রান্তদের এলাকায় নয় বাংলাদেশের সব এলাকায় এভাবে বি এন পি নামক আদর্শবিহীন জগা খচুরী দলটিকে সংগঠিত করা হয় স্বাধীনতা বিরুধী এবং কিছু সুবিধাবাদীদের দিয়ে। জিয়া চতুর মানুষ তিনি জানেন আদর্শ নয়, মুক্তি যুদ্ধের চেতনা নয়, হালুয়া রুটির ভাগ দিলে তার দলে সমর্থক ভিড়ানো মোঠেই কষ্ট সাধ্য হবেনা। তাই জিয়া তরুনদের দলে ভিড়ানোর জন্য সারা দেশে কায়দা করে গড়ে তুলেছেন যুব কমপ্লেক্স। যুবকদের টাকা দিয়ে কিনেছিলেন যুব কম্প্লেক্সের নামে। তিনি বুঝতে পেরেছেন নির্বাচনে কাজ করতে এ যুবকদেরী প্রয়োজন। অথচ এই যুব কমপ্লেক্সের আয়ের উৎস ছিল দেশের হাট বাজার এবং মেলা থেকে আদায়কৃত টাকা।এসব টাকা গেছে যুব কমপ্লেক্সের নামে সমবায় সমিতির পান্ডাদের পকেটে। জিয়া দেখে চোখ বুজে ছিলেন, কারন ওরাই ছিল  তার রাজনৈতিক সমর্থক। (সহায়ক সূত্র-সূত্র, এন্টনিঃ বাংলাদেশঃ এ লিগাসি অব ব্লাড) গ্রাম সরকরের নামেও দূর্নীতির আখড়া তৈরী করে  দূর্নীতিকে তৃনমূল পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। তাই প্রতিটি জাতীয় নির্বাচনে এই আদশর্হীন সমর্থকরা রাজনীতিকে করেছে কলুষিত। তারা জিয়ার প্রত্যাশানুযায়ী জাতীয় নির্বাচনে দলকে জিতাতে আওয়ামীলীগের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়েছে। আওয়ামীলীগকে ভোট দিলে বাংলাদেশ ভারত হয়ে যাওয়ার ভয় দেখিয়েছে, মসজিদ বন্ধ হয়ে উলুধ্বনী প্রচার করা হবে বলে বলেছে। আবার ৭৪এর মত দূর্ভিক্ষ শুরু হবে অপপ্রচার চালিয়েছে। শুধু তারা তা করে ক্ষান্ত হয়নি তারা নির্বাচনী এলাকার প্রতিটি মোড়ে মোড়ে মোড়ে তাবা এবং রুটি বেলার বেলোন (Roller)  টঙ্গিয়ে দিয়ে জনগনকে ভয় দেখিয়েছে আওয়ামীলীগকে ভোট দিলে আবার আটার রুটি খেতে হবে। এভাবে তারা জনগনকে বিভ্রান্ত করে আওয়ামীলীগকে কোণঠাসা করেছে। 

প্রান্ত যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে তখন জিয়া প্রথম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিদর্শনে গিয়েছিল, ছাত্ররা তাকে অপমানিত করে ভার্সিটিতে ডুকতে বাঁধা দেয়।  জিয়া তার অপমানের স্মৃতি মনে রেখে বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘাঁটি তৈরী করার পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী তিনি নানা কৌশলে ছাত্রদের কাছে টানতে চেষ্টা করেন। তিনি ঢাকা, চট্টগ্রাম, সহ সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্রদের হিজবুল বাহার নামের এক বিলাসবহুল জাহাজে প্রমোদ ভ্রমনের আয়োজন করে তাদের সাথে সুন্দর সুন্দর কথা বলে তাদের রাজনীতির পঙ্কিল পথে টেনে আনেন। এর ফলেই সৃষ্টি হয় জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। এসব মেধাবী ছাত্র অভি নীরুরা পরে সন্ত্রাস চাঁদাবাজি থেকে শুরু করে টেন্ডারবাজি তদবীর বাজি, হলের সিট ভাড়া সহ বিভিন্ন অপকর্মে লিপ্ত হয়ে সোনালী ভ্যবিষ্যতকে ধংষ করে ফেলেন। জিয়া প্রমোদ ভ্রমনের মধ্য দিয়ে তরুন প্রজন্মকে দূর্নীতি পরায়ন করে জাতির তথা ছাত্র রাজনীতিকে যেভাবে কলুষিত করে গেছেন এ ক্ষত জাতিকে অাজো বয়ে বেড়াতে হচ্ছে। জিয়ার ব্যক্তিগত জীবনে দূর্নীতির প্রমান না থাকলেও জাতীয় চরিত্রে তিনি দূর্নীতি ডুকিয়ে দিয়ে গেছেন। বঙ্গবন্ধুর শাসন আমলে যে দূর্নীতি বঙ্গবন্ধুকে অতিষ্ঠ করে তুলেছিল, তিনি দূর্নীতিবাজদের ক্ষোভে আক্রোসে চোর আর চাটার দল বলে আখ্যায়িত করেছিলেন, আর তিনি(জিয়া) সেই দূর্নীতিবাজদের আশ্রয় প্রশ্রয় দিয়ে দূর্নীতিকে প্রাতিষ্টানিক রূপ দিয়ে গেছেন। 


আন্তর্জাতিক সম্পর্ক :-১৯৭১ সালে স্বাধীন বাংলাদেশ গঠনে যে দুটি রাষ্ট্র বাংলাদেশকে জোড়ালো সমর্থন দিয়েছিল বিশেষ করে ভারত এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন। বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার পর  সঙ্গত কারনেই তাদের সাথে  একটা বিশেষ সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন। বিদেশ নীতির ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধু  উপনিবেশবাদ, সম্রাজ্যবাদ ও বর্ণবাদ বিরুধীতার নীতি গ্রহন করে তা সংবিধানে সন্নিবেসিত করেন, আবার অর্থনৈতিক সাহায্যের প্রয়োজনীয়তার প্রেক্ষিতে পশ্চিমা দেশগুলোর সাথেও সম্পর্ক উন্নয়ন নীতি গ্রহন করেন। কিন্তু পঁচাত্তরের ১৫ ই আগষ্ট, পরবর্তীতে ৭ই নভেম্বরের ঘটনার মধ্যদিয়ে জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় আসলে বৈদেশিক নীতির ক্ষেত্রেও ব্যাপক পরিবর্তন আনেন। তিনি ভারত সোভিয়েট ব্লক থেকে মুখ ফিরিয়ে পশ্চিমা পুঁজিবাদী রাষ্টের দিকে ঝুঁকে পড়েন। ইসলামী উম্মার কথা বলে তিনি স্বাধীনতা য়ুদ্ধের সময় সৌদী আরবসহ বিভিন্ন আরব দেশ বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রামের বিরুধীতা করেছিল তাদের সাথে সম্পর্ক গড়তে সংবিধানে ২৫(২)নতুন ধারা সন্নিবেসিত করে সে সকল মুসলিম দেশের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরুধীতাকারী চীনের সাথেও সম্পর্ক উন্নয়নেও জোড়ালো প্রচেষ্টা চালান এবং সম্পর্কের সোপান উন্মোচন করেন । তাছাড়া ১৯৭৮ সালে তার আমলে জাপানের সাথে প্রতিদন্ডিতা করে বাংলাদেশ জাতি সংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। এটা অনস্বীকার্য যে জিয়া ছিলেন সাত জাতি আন্তর্জাতিক সহযোগিতা পরিষদ সার্কের স্বপ্ন দ্রষ্টা। তার আমলে ১৯৭৭ সালের ডিসেম্বর মাসে পাঁচ বছরের জন্য স্বল্প মেয়াদী ফারাক্ক চুক্তি সাক্ষরিত হয়। তবে তার আমলে পাকিস্থানের সাথে বাংলা দেশের সম্পর্ক যদিও দিন দিন উন্নত হচ্ছিল কিন্তু পাকিস্থানের কাছ থেকে বাংলাদেশের ন্যায্য হিস্সা আদায় ও বাংলাদেশে আটকে পরা পাকিস্থানী নাগরিক বিহারীদের পাকিস্থানে ফেরৎ পাঠাতে তিনি পুরাপুরি ব্যর্থ হন।( Ref, Foreign policy under Zia ur Rahman. The daily star,31May, 2008) (আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও জিয়াউর রহমান,দৈনিক ইনকিলাব,১৮ই অক্টোবর,২০১৭)

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

২৬ তম পর্ব ২০০৬ সালে বি এন পি'র তত্ত্বাবধায়ক সরকার নাটক:

 . ২০০৬ সালে বি এন পি'র তত্ত্বাবধায়ক সরকার নাটক:-২০০৬ সলের জোট সরকার মেয়াদ শেষ হলে ক্ষমতা ছাড়ার সময় অাবার দেখা দেয় দুই প্রধান দল তথা জোট...