আমি মোহাম্মদ জসীম উদ্দীন। ১৯৫৪সালে ২১জানুয়ারী ফৌজদার হাটের ঐতিহ্যবাহী পীর বাড়ীতে জন্ম গ্রহন করি। আমার পিতার নাম সূলতান আহাং, এবং মাতার নাম নূর জাহান বেগম। আমার শিক্ষাজীবনের শুরু ফৌজদার হাট প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে। তারপর ১৯৭২ সালে ফৌজদার হাট কে এম হাই স্কুল থেকে এস এস সি পাশ করি। ১৯৭৫ সালে চট্টগ্রাম সিটি কলেজ থেকে এইচ এস সি পাশ করে একিই কলেজ থেকে ১৯৭৮ সালে স্নাতক ডিগ্রী , ১৯৮২ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্র বিজ্ঞানের উপর স্নাতকোত্তর ডিগ্রী লাভ করি।
Pages
বুধবার, ৩১ আগস্ট, ২০২২
১১ তম পর্বে আছে/ (চোখে দেখা রাজনীতি”র )রাজনৈতিক দলবিধির মাধ্যমে সাম্প্রদ..
ধর্ম ভিত্তিক রাজনীতির পুনঃ প্রতিষ্টা:-১১তম পর্ব
১৯৭২ সালে সংবিধানের ৩৮ নম্বর অনুচ্ছেদে ধর্ম ভিত্তিক রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ ছিল, "এতে বলা ছিল কোন নাগরিক ধর্মীয় চেতনা বা ধর্মকে রাজনীতির উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে কোন সংগঠন করতে, সংগঠনের সদস্য হতে বা অনুরূপ কোন তৎপরতায় অংশ নিতে পারবেনা। (সহায়ক সূত্র- গনতন্ত্র ও উন্নয়নের চেলেঞ্জ,মওদূদ আহাম্মদ)
১৯৭৬ সালে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক জিয়া এক অধ্যাদেশের মাধ্যমে অভিনব এক আইন 'রাজনৈতিক দলবিধি' জারি করেন, এতে বলা হয় যে কোন দল রাজনীতি করতে চাইলে, কিছু শর্ত পুরন সাপেক্ষে সরকারী অনুমোদন নিতে পারবে। শর্ত পুরন করে রাজনীতির বৈধ লাইসেন্স নিতে তখন দালালরা বিশেষভাবে তৎপর হয়। জামাতে ইসলামের ঘাতকরা ইসলামিক ডেমক্রেট্রিক লীগে, অন্যান্য দালালরা মুসলীম লীগ, নেজামে ইসলাম, কৃষক শ্রমিক পার্টি সহ আরো ডজন খানিক পার্টিতে সংগঠিত হয়। এভাবে বাংলাদেশে জিয়া উর রহমান আবার মৃতপ্রায় মৌলবাদী রাজনীতিতে প্রাণ সঞ্চার করেন। (ড.আনোয়ার হোসেন,সাপ্তাহিক বিচিত্রা ৩০শে নভেম্বর ১৯৮৪)
এর ফলে স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব স্বাধীনতার বিরুধীতাকারী যে সকল ধর্মভিত্তিক সাম্প্রদায়িক দলসমূহকে নিষিদ্ধ করেছিলেন তারা আবার রাজনীতি করার সুযোগ পেয়ে গেল। জিয়া চাইলে তথাকথিত বহুদলীয় গনতন্ত্র প্রতিষ্টার সময়, ধর্মভিত্তিক রাজনীতির উপর পূর্বের নিষাধাজ্ঞা বলবৎ রাখতে পারতেন। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধা হয়েও তিনি তা না করে মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষ শক্তিকে ক্ষমতাশালী করেছেন। সুতরাং তাকে আমরা বহুদলীয় গঠনতন্ত্রের প্রবক্তা না বলে বলতে পারি বহুদলীয় সম্প্রদায়িক রাজনীতির প্রবক্তা।
তার সম্প্রদায়িকতার আর একটি দৃষ্টান্ত তুলে না ধরলে তার আসল রূপ জনগন বুঝতে পারবেনা। পূর্বেই উল্লেখ করেছি জিয়ার আমলে জিয়ার আস্কারা পেয়ে স্বাধীনতা বিরুধীরা হিন্দুর রচিত জাতীয় সঙ্গীত এ ধূঁয়া তুলে তা পরিবর্তনের চেষ্টা করেছিল। এ ব্যপারে জিয়া কি বলেন, তা বিশিষ্ট সাংবাদিক আজিজুল ইসলাম ভূঁইয়া তার "বি এন পি ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতি" গ্রন্তে লেখেছেন -"চট্টগ্রামে একটি অনুষ্টান শেষে সার্কিট হাউসে জিয়াকে তার দলের এক নেতা বলছিলেন, "স্যার আমাদের পতাকায় ইসলামী রং নেই, এটা আমাদের ভালো লাগেনা। এটা ইসলামী তাহাজ্জীব ও তমুদ্দীনের সাথে মিলছেনা," তার কথার প্রত্যুত্তরে জিয়াউর রহমান বলেন "হবে হবে সবকিছুই হবে, আগে হিন্দুর লেখা জাতীয় সঙ্গীত বদলানো হউক, তারপর জাতীয় পতাকা নিয়ে ভাববো।" এইভাবে তিনি সাম্প্রদায়িকতাকে উস্কে দিয়েছেন, পৃষ্টপোষকতা করেছেন।
এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে বিগত ৪২ বৎসর সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বীজ থেকে জঙ্গীবাদের জন্ম নিয়ে তা আজ এত ডাল পালা বিস্তার করে মহিরুহে পরিনত হয়ে যে বিষমাখা ছোবল মারছে তার সব দায় ভার রাজাকার ও সম্প্রদায়িক রাজনীতির তোষনকারী মুক্তিযুদ্ধা জিয়াকেই বহন করতে হবে।
প্রশাসনকে সামরিকায়ন:-
মন্ত্রী পরিষদসহ সমস্ত প্রশাসন সামরিকায়ন শুরু জিয়ার আমলে। ১৯৭৫ সালে দশ সদস্য বিশিষ্ট পরামর্শক পরিষদের সাতজনই ছিলেন সামরিক আমলা। ১৯৮১ সালে পূর্ণ মন্ত্রী নিয়ে যে কবিনেট গঠিত হয় তার মধে্য ছয়জনই ছিল সামরিক বাহিনী থেকে আগত। বেসামরিক #@$%$@#$প্রসাশনেও সামরিক বাহিনীর নিয়োগ বৃদ্ধি পায় জিয়ার আমলে। সামরিক বাহিনীর সদস্যরা সচীবালয়ের বিভিন্ন পদসহ পুলিশ প্রশাসন এবং রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত গুরুত্বপূর্ণ পদগুলি দখল করে। জেলা পর্যায়ের পুলিশ প্রশাসনকেও সামরিকায়ন করা করা হয়। একটি নির্দিষ্ট সময়ে ৬৪টি জেলার ৫৩জন পুলিশ সুপারেনটেনডেন্ট ছিলেন সামরিক অফিসার। বিদেশে কুটনৈতিক মিশনেও সিনিয়র আর্মি অফিসারদের নিয়োগ দেওয়া হয়। পেশাজীবী আমলা ও কুটনীতিকগন এ ধরনের নিয়োগকে তাদের পেশাগত জগতের বাইরে চুড়ান্ত হস্তক্ষেপ বলে মনে করতেন। সম্ভবত নির্যাতন ও হয়রানীর ভয়ে এই পেশাজীবী আমলা ও কুটনীতিকগন তাদের পেশায় সামরিক আমলাদের নিয়োগকে চলেঞ্জ করা থেকে বিরত থাকতেন।
তিনি জাতীয় সংসদেও সামরিক সদস্যদের নিয়ে আসেন। সামরিক বাহিনীকে জনসম্পৃক্ত কারার ফলে একদিকে গণতন্ত্র ব্যাহত হয়েছে। অন্যদিকে সামরিক বাহিনীকে ঠেলে দেয়া হয়েছে দূর্নীতিতে।
তিনি সেনা বাহিনীকে সন্তুষ্ট রাখতে মুজিব আমলের সামরিক বাজেট ১৩%থেকে বাড়িয়ে৩২% করেন ফলে সেনা বাহিনীর এ অধিক ব্যয় মেটাতে উন্নয়ন খাতের টাকা প্রতিরক্ষা খাতে টেনে আনতে হয়। অথচ তখনো দেশের ৮০%লোক দারিদ্রতার মধ্যে জীবন যাপন করছে।
এভাবে তিনি সেনাবাহিনীর চাপ জনগনের ঘাঁড়ের উপর রেখে গনতন্ত্রের স্বাস রুদ্ধ করে সামরিকায়নের মাধ্যমে একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্টা করেন।
অস্থির সেনা বাহিনী :-জিয়াউর রহমানের শাসন কালটা সামরিক বাহিনীর ভীষণ অস্তিরতার মধ্য দিয়ে গেছে। একের পর এক অভ্যূত্থান, নজিরবিহীন হত্যাযজ্ঞ ভয়াবহ নৃষংশতা ছিল তার শাসনামলের অনালোচিত কালো অধ্যায়। ১৯৭৭সালের সেপ্টেম্বর মাসের শেষে জাপানী সন্ত্রাসবাদী সংগঠন 'রেড আর্মী' জাপানী একটি বিমান ছিনতাই করে ঢাকা পুরাতন বিমান বন্দরে এনে নামায়। ঠিক একিই সময়ে অর্থাৎ ২রা অক্টোবর বিমানবাহিনীতে এক ব্যর্থ সেনা অভ্যূত্থান সংগঠিত হয়। এ ব্যর্থ সেনা অভ্যূত্থানে বলি হয়েছিল মোট এক হাজার একশত তেতাল্লিস জন সেনা ও বিমান সেনা। তার মধ্য কর্মকর্তা ছাড়া শুধু ৫৬১জন বিমান সেনাই নিহত হয়েছিল। এদের সবাইকে গোপনে বিচারের নামে প্রহসন করে ফাঁসী দেয়া হয়েছিল।(মুক্তিযুদ্ধ ও তারপর)। বিমান বাহিনীর অবস্থা এমন দাঁড়ায় যে বিমান বাহিনীতে মাত্র ১১জন কর্মকর্তা থাকেন। এ অভ্যূত্থান কেন হয়েছিল এ অভ্যূত্থানে বিমান বা সেনা বাহিনীর কারা জড়িত ছিল এসব এখনো রহস্যই রয়ে গেছে। ঠিক এর আগে ৩০শে সেপ্টেম্বর ১৯৭৭সালে বগুড়ায় ২২ ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের একটি সেনা অভ্যূত্থানও ব্যর্থ হয়েছিল। জিয়ার আমলে প্রায় বিশটির বেশী সামরিক অভ্যূত্থান সংগঠিত হয়েছিল। এতে প্রায় আড়াই হাজার সেনা সদস্যকে হত্যা করেছিল জিয়াউর রহমান। এসব ভাবলে শিউরে উঠতে হয়, অবাক লাগে তিনি ক্ষমতা পাকা পোক্ত করতে কিরকম হিংস্রতার আশ্রয় নিয়েছিলেন। (প্রতিবেদন, 'প্রথম আলো'৩রা অক্টোবর ২০১১সাল) তাই সাংবাদিক মাসকারেনহাস লিখেছেন, "সামরিক বাহিনীর লোকদের হত্যার হিসাবে জিয়াউর রহমান উপমহাদেশের যে কোন জেনারেলকে ছাড়িয়ে গেছেন"।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন