Pages

শনিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২২

১০ পর্ব পাকিস্থান থেকে বাংলাদেশ “চোখে দেখা রাজনীতি”র ১০ম পর্বে আছে৤ ঳ জিয়া ক্ষমতায় এসে মোস্তাকের ধারাবাহিকতা বজায় রাখেন

 


জিয়ার শাসন :-বাংলা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে জিয়া একটি বহুল আলোচিত এবং সমালোচিত নাম। ১৯৭৫ সালে অভ্যুত্থান পাল্টা অভ্যূত্থানে মেঃ জেঃ খালেদ মোশাররফের হত্যার মধ্য দিয়ে তার উত্থান ঘটে এবং রাজনীতির কেন্দ্র বিন্দুতে চলে আসেন।

"জিয়া ক্ষমতায় এসে মোশতাকের ধারাবাহিতা অক্ষুন্ন রেখে স্বাধীনতার চেতনায় বিরুদ্ধে অবস্থান নেন।  তিনি মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে তিরিশ লক্ষ শহীদের প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত রাষ্টীয় চার মূলনীতিতে কুঠারাঘাত করেন।

ক্ষমতা দখল করার পর প্রথমে আঘাত করেন রাষ্ট্রিয় মূলনীতির প্রথম স্তম্ভ গনতন্ত্রকে। সামরিক শাসনের পর  জিয়া যে তথাকথিত বহুদলীয় গণতন্ত্রে ফিরে এসেছেন বলে দাবী করা হয় তা ছিল সত্যিকার অর্থে একজন স্বৈরশাসকের শাসন। কারন নির্বাচনের পর যে সংসদ গঠিত হয়েছিল তা ছিল রাবারষ্টাম্পরূপী অকার্যকর সংসদ। এ সংসদ ছিল ফৌজি শাসকের মর্জির উপর নির্ভরশীল। সংসদের কার্যকরী কোন ক্ষমতা ছিল না। পার্লামেন্ট কোন আইন পাশ করলে তিনি তা মেনে নিতে বাধ্য ছিলেন না। যে কোন আইনে তার ভেটো দেয়ার ক্ষমতা ছিল। সেই ভেটোর বিরুদ্ধে নতুন আইন প্রনয়ন করলে তাও মানতে বাধ্য নন তিনি। তাকে এই আইন মানাতে হলে দিতে হবে গণভোট, গণভোটে জনগণ সে আইনের পক্ষে রায় দিলেই তবে তিনি মেনে নেবেন সেই আইন। তাছাড়া তিনি বিধান রাখলেন মন্ত্রী সভার একতৃত্বীয়াংশ তিনি তার ইচ্ছানুযায়ী নিয়োগ দিতে পারবেন। তার নিয়োগকৃত মন্ত্রীদের সংসদ সদস্য হবার কোন প্রয়োজন হবে না। জাতীয় স্বার্থে তিনি সংসদকে না জানিয়ে যে কোন চুক্তি সই করতে পারবেন, পারবেন ইচ্ছামত জাতিয় সংসদ ডাকতে, স্থগিত করতে, এমনকি বাতিলও করতে। এভাবে তিনি জাতীয় সংসদকে ক্ষমতাহীন বিতর্ক সভায় পরিনত করে ক্ষান্ত হলেন তা নয়, এরপরও তিনি নিজের হাতে রেখে দিলেন অনেকগুলো মন্ত্রনালয়।"(সহায়ক সূত্র-এন্টনিঃ বাংলাদেশ, এ লিগেসি অব ব্লাড) (মুক্তিযুদ্ধ ও তারপর,গোলাম মুরশীদ)(ডিক্টেটর মেজর জিয়া,৭১থেকে ৮১ knowledge )

যেহেতু জিয়ার ক্ষমতার উৎস ছিল কেন্টনমেন্ট, সেহেতু সেনাবাহিনীকে ঢেলে সাজিয়ে পাঁচটি ডিভিসনে ভাগ করেছিলেন। যে বার দফাকে কেন্দ্র করে কর্ণেল তাহের ফাঁসীর আসামী হন সে বার দফার কিছু পুরন করে তিনি নীচু তলার সৈন্যদের সন্তুষ্ট করার চেষ্টা করেন। ফলে উন্নয়ন বাজেট কাটছাট করে প্রতিরক্ষা বাজেট প্রায় দ্বিগুন করা করতে হয় তাকে।

জিয়ার দ্বিতীয় হস্তক্ষেপ আসে রাষ্ট্রীয় চার মূল নীতির দ্বিতীয় স্তম্ভ ধর্মনিরপেক্ষতার উপর। মুক্তিযুদ্ধা জিয়া জানতেন মুক্তিযুদ্ধে মুসলমান অমুসলমান সবাই নির্বিশেষে অংশ গ্রহন করেছিল। হিন্দু সম্প্রদায় যে রূপ অত্যাচারিত হয়েছিল তা ছিল অবর্ননীয়।  মুক্তিযুদ্ধে যে গণহত্যা ও অত্যাচার হয়েছিল তাতে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের ছিল বেশী ক্ষতিগ্রস্ত। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তারাও সম মর্যাদায় ধর্ম কর্ম সহ সকল বিষয়ে তাদের সম মর্যাদা ভোগ করার অধিকার ছিল। বঙ্গবন্ধু রাষ্ট্রকে ধর্ম নিরপেক্ষ করে সে লক্ষে অগ্রসরও হয়েছিলেন। জিয়া কলমের এক খোঁছায় সংবিধানের রাষ্ট্রীয় মূল নীতি ধর্মনিরপেক্ষতাকে বিষর্জন দিয়ে, সংবিধানে 'আল্লার উপর পূর্ণ বিশ্বাস রেখে' স্থাপন করে একটি ধর্মের প্রতি বিশেষ প্রাধান্য দিয়েছেন। যা সাংবিধানের  মূলনীতির প্রতি বিরুদ্ধাচারন। এতে অন্য ধর্মীয় সম্প্রদায়ের লোকজন দ্বিতীয় শ্রেনীর নাগরিকে পরিনত হয়ে যায়। তিনি  জানতেন সংবিধানে বিছমিল্লাহ লিখলে ধর্ম কায়েম হয়ে যাবেনা। তবে এটা লিখে সাধারণ মানুষকে ধোঁকা দিয়ে জনপ্রিয় হওয়া যাবে। সত্যিকারের  ধর্ম মানুষের প্রদর্শনের বিষয় নয়, ধর্ম টিকে থাকে কর্মে। ধর্মের প্রতি নিষ্টাবান হলে জিয়ার আমলে বঙ্গবন্ধু কতৃক নিষিদ্ধ ইসলাম বিরুধী ঘোড় দৌড় প্রতিযোগিতা, রাষ্ট্রীয়ভাবে মদের লাইসেন্স প্রদান যা বঙ্গবন্ধু নিষিদ্ধ করেছিলেন তা তিনি কোন দিনই পুনঃ প্রবর্তন করতেন না।

তারপর জিয়া হাত দেন জাতীয়তাবাদে। তিনি বাঙ্গালীকে বাংলাদেশীতে পরিনত করে ধংষ করেন সংবিধানের তৃতীয় স্তম্ভ জাতীয়তাবাদকে। বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল। এ জাতীয়তাবাদ বাঙ্গালীর বাংলা ভাষা ভিত্তিক। জিয়াউর রহমান সাপ্তাহিক বিচিত্রা পত্রিকায় লিখেছিলেন, 'পাকিস্থান সৃষ্টির পর পরই ঐতিহাসিক ঢাকা নগরীতে মিঃ জিন্নাহ নিজেই ঘোষনা করেছিলেন, উর্দূ, একমাত্র উর্দূই হবে পাকিস্থানের রাষ্ট্রভাষা। আমার মতে ঠিক সেদিনই বাঙালীর হৃদয়ে অংকুরিত হয়েছিল বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদ,জন্ম হয়েছিল বাঙালী জাতির।' এ বিশ্বাস লালন করে আসা সেই জিয়াউর রহমান সতের মাস পরে ক্ষমতা লাভ করে তার লালিত বিশ্বাসকে হত্যা করে প্রবর্তন করেন বাংলাদশী জাতীয়তাবাদ। এতে জাতি সুসংহত না হয়ে বিভক্ত হয়ে পড়ে। জিয়ার প্রধানমন্ত্রী পাকিস্তানী দালাল শাহ আজিজুর রহমান বাংলা ভাষাকে বাংলাদশী ভাষা বলে উল্লেখ করেন। শুধু তাই নয় মুক্তি যুদ্ধা জিয়া ১৯৭৮ সালের ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশের পতাকা পরিবর্তন করে লাল বৃত্তের জায়গায় কমলা বৃত্তের প্রবর্তন করতে চেয়েছিলেন। বাংলাদেশ টিভির এক অনুষ্টানে তা প্রচারও করাও হয়।  পরে প্রতিবাদের মুখে শাহ আজিজের বাংলাদেশী ভাষা আর জিয়ার কমলা রং বর্জিত হয়। স্বাধীনতা বিরুধীদের চাপে মুক্তিযুদ্ধা জিয়া 'হিন্দুর রচিত গান' ধূয়া তুলে জাতীয় সঙ্গীতও পরিবর্তন করতে চেয়েছিলেন। তিনি ১৬ই ডিসেম্বরকে স্বাধীনতা দিবস ২৬শে মার্চকে জাতীয় দিবস হিসাবে পালনের চেষ্টাও করেছিলেন। (সহায়ক সূত্র- ডিক্টেটর জিয়া৭১-৮১,knowledge )

'তারপর আসা যাক রাষ্ট্রের চার মূল স্তম্ভের সর্বশেষ স্তম্ভের দিকে। বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রীরা তাদের ঘাড়ে পিঠে  চড়িয়ে তাকে ক্ষমতায় বাসলেও সমাজতন্ত্রের দিকে তিনি এক পাও নড়েন নি। বরং তাদের কাউকে ফাঁসী, কাউকে দেন দীর্ঘমেয়াদী কারাদন্ড ।  আর বঙ্গবন্ধু আমলে জাতীয়করণকৃত অনেক ব্যঙ্ক বীমা ও শিল্প প্রতিষ্টানকে বিরাষ্টিকরন করে সংবিধানের শেষ স্তম্ভটিও ধংষ করে দেন তিনি। '(সূত্র-ডিক্টেটর জিয়া ৭১-৮১)

 এবার আসি প্রান্তের কাছে, প্রান্ত অনেক বৈরী পরিবেশ অতিক্রম করে ঢাকা বিশ্বালয় থেকে সর্বোচ্ছ ডিগ্রী  গ্রহন করেন। এরপর অনেক ইন্টারভিউ, অনেক পরীক্ষা দেওয়ার পর অবশেষে একটা বেসরকারী কলেজে প্রভাষক হিসাবে যোগদান করেন। সেখানও তিনি মুক্তিযুদ্ধার পরিচয় গোপন রেখেছেন পাছে আবার কোন ঝামেলায় পড়ে। যেখানে একজন মুক্তিযুদ্ধা রাষ্টীয় ক্ষমতায়, সেখানে মুক্তিযুদ্ধারা রাষ্ট্রীয় পৃষ্টপোষকতা পাওয়াটা ছিল প্রত্যাশিত বিষয়।  কিন্তু প্রান্তরা দেখতে লাগল উল্টো চিত্র। গ্রামে গঞ্জে অনেক মুক্তি যুদ্ধা অভাব অনটনে মানবেতর জীবন যাপন করছে ক্ষিধের জ্বালায় আত্মহত্ম্যা করছে। অন্যদিকে পুরানো মুসলিম লীগার, জামাত, এন ডি পি সহ ডান পন্তী স্বাধীনতা বিরুধী শক্তি সমূহ জিয়া সৃষ্ট বি এন পি নামক নতুন রাজনৈতিক দলে ভিড়ে স্বাধীনতার স্বপক্ষ শক্তিকে একেবারে কোণঠাসা করে  ফেলেছে। ব্যবসা বানিজ্য, ব্যঙ্ক বীমাসহ বিভিন্ন বিভিন্ন প্রতিষ্টানের মালিক হয়ে শৈন্য শৈন উন্নতি করতে লাগল তারা।

দেশের স্বাধারণ মানুষ এত রাজনীতি বুঝেনা, গনতন্ত্র  সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা, জাতীয়তাবাদ বুঝে না তারা যখন দেখল মুক্তিযুদ্ধা জিয়া সংবিধানে বিসমিল্লাহ সংযোজন করেছে, জিন্দাবাদ উচ্ছারন করছে, তারা স্বস্তি পেল এই ভেবে যে অন্তঃত ইসলাম ধর্ম প্রতিষ্টিত হয়েছে।

জিয়ার রাজাকার পুনর্বাসন :-

যদিও জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধা ছিলেন স্বাধীনতা বিরুধীদের রাজনীতিতে পুনর্বাসনের কাজটি সূচারুভাবে করেন জিয়া উর রহমান। তার ধূর্ত রাজনৈতিক দূর্বৃত্যায়নের জন্য তাকে রাজনীতি বিজ্ঞানের ভাষায় বাংলাদেশের মেকিয়াভেলী রাজনীিতর জনক বললে যথাযথ বলা হবে। তিনি মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শক্তি, মুক্তযুদ্ধও স্বাধীনতা বিরুধী শক্তি, পাকিস্থান পন্তী, ভারত বিরুধী, বঙ্গবন্ধু বিদ্বেষী ও আদর্শচ্যূত চাটুকারদের নিয়ে বি এন পি নামক দলটি গঠন করেন। যে দালালরা ৭১ এ তার সহযুদ্ধা মুক্তিযুদ্ধাদের হত্যা করেছিল তিনি তার সেই মুক্তিযুদ্ধাদের রক্তের সাথে বেইমানী করে ১৯৭৫ সালে ৩১শে ডিসেম্বর  (প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক এবং পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতি হয়ে) দালাল আইন ১৯৭২ বাতিল করেন। ফলে যুদ্ধাপরাধের বিচারের জন্য গঠিত সারাদেশের ৬৩টি ট্রাইবুন্যাল বিলুপ্ত হয়ে যায়। দালাল আইন বাতিলের ফলে ট্রাইবুন্যালে বিচারাধীন সকল মামলা বাতিল হয়ে যায়। এ সকল মামলায় বিচারাধীন প্রায় ১১ হাজার অভিয়ুক্ত দালাল রাজাকার আল বদর আল সমস মুক্তি পেয়ে যায়। এর মধ্যে ২০ মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত, ৬২ জন জাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত সহ বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রাপ্ত ৭৫২ জন যুদ্ধাপরাধী মুক্তি পেয়ে বীর দর্পে বেরিয়ে আসে। আর মুক্তিযুদ্ধা এবং স্বাধীনতার স্বপক্ষ শক্তি কারান্তরীণ হতে থাকে।  এসব বেরিয়ে আসা যুদ্ধাপরাধীদের মুক্তিযুদ্ধা জিয়া তার আমলে কাউকে মন্ত্রী  কাউকে প্রধান মন্ত্রী বানিয়ে তাদের গাড়ীতে তিরিশ লক্ষ শহীদের রক্তে অর্জিত জাতীয় পতাকা তুলে দিয়েছেন, জাতীয় স্মৃতি সৌধে ফুল দেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন।

জিয়ার মন্ত্রী সভায় ছয়জন রাজাকারকে ঠাঁয় দিয়েছিলেন, তারা হলেন,

১) শাহ আজিজুর রহমান, তিনি একাত্তর সালে পাকিস্তানের পক্ষে জাতি সংঘে গিয়ে বলেছিলেন- "পাকিস্তানী সৈন্যরা পূর্ব পাকিস্থানে গিয়ে হামলা চালিয়ে অন্যায় কিছু করেনি। স্বাধীনতার নামে সেখানে যা চলছে সেটা হচ্ছে ভারতের মদদ পুষ্ট বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন। বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্রের উচিৎ সেটাকে পাকিস্থানের ঘরোয়া ব্যপার হিসাবে গ্রহন করা।" আর এ কুলাঙ্গারকে মুক্তিযূদ্ধা জিয়া করেছিলেন প্রধান মন্ত্রী।

২)মশিয়ুর রহমান ছিলেন পাক সরকারের ঠিকাদার।প্রথমে মুক্তি যুদ্ধে যান, আবার ফিরে এসে পাকিস্তানীদের কাছে আত্মসমর্পণ করেন।

৩) সামশুল হুদা ছিলেন পাকিস্তান বেতারের একজন প্রযোজক। সে সময় তিনি পাক বেতার থেকে মুক্তি যুদ্ধের বিরুধীতা করে বিভিন্ন অনুষ্টান প্রচার করতেন।

৪)মীর্জা গোলাম হাফিজ, তিনি পাকিস্থান চীন মৈত্রী সমিতির সভাপতি। তিনি বুদ্ধিজীবিদের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধ বিরুধী প্রচারনা চালাতেন। তিনি এক বিবৃতিতে বলেছিলেন "এ তথাকথিত মুক্তিযুদ্ধ আসলে একটি ভারতীয় ষড়যন্ত্র।"

৫)অাব্দুল আলিম মুসলীম লীগের নেতা হিসাবে ৭১ সালে জয়দেবপুর হাটে রাজাকার বাহিনীকে নিয়ে ব্যাপক নিধন যজ্ঞ চালান, উল্লেখ্য মানবতা বিরুধী অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এ অপরাধের জন্য তাকে ৮৩বৎসর বয়সে আমৃত্যু কারাদন্ড দিয়েছে। (bdnews24.com,date-09/10/13)

৬) মওলানা মান্নান, ১৯৭১ সালে তিনি শান্তি কমিটির একজন অন্যতম নেতা ছিলেন।, তিনি ৭১সালের ২৭শে এপ্রিল সংবাদ পত্রে এক বিবৃতিতে বলেছেন, পূর্ব পাকিস্থানের দেশ প্রেমিক জনগণ শসস্ত্র বিদ্রোহীদের উপড়ে ফেলতে ধর্মীয় চেতনা নিয়ে সামনে এগিয়ে এসেছে। জনগনের সক্রিয় সহযোগিতা নিয়ে দেশ প্রেমিক সেনা বাহিনী দেশের সমস্ত এলাকার নিয়ন্ত্রন গ্রহন করেছে। (killers and colobraters of 1971' An account of therewhereabout.page-77)এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, স্বাধীনতার পর শাহ আজিজুর রহমান, আব্দুল আলিম, মুশিয়ুর রহমানকে দালাল আইনে জেলে পাঠানো হয়েছিল।

মুক্তিযূদ্ধা জিয়া যখন সারা দেশে রাজাকারদের পৃষ্টপোষকতা করছেন জিয়ার আস্কারা পেয়ে বিদেশে পালিয়ে যাওয়া রাজাকাররাও দেশে ফিরে আসতে শুরু করল, ১৯৭৮ সালে ১১ই জুলাই তথাকথিত পূর্ব পাকিস্থান পুনরুদ্ধার আন্দোলনের নেতা রাজাকার শিরোমনি গোলাম আজম (পূর্ব পাকিস্থান পূনরুদ্ধার কমিটির নেতা)তার সে পূর্ব পাকিস্থান পুনরুদ্ধার আন্োলন বাতিল না করার পরও তিন মাসের ভিসা দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয় । তিন মাসের ভিসার মেয়াদ শেষ হলে তিনি বাংলাদেশ তো ত্যাগ করেননি বরং সরকারের আশ্রয় প্রশ্রয় পেয়ে তিনি ভিতরে ভিতরে জামাত পুর্নগঠন কাজ চালিয়ে যেতে থাকেন। এক সময়  জামাত তাকে আমির হিসাবে ঘোষনা দেয়। {( সহায়ক সূত্র -আমার ব্লগ, জিয়াউর রহমান,দালাল আইন (বিশেষ ট্রাইব্যুনাল) যুদ্ধাপরাধের বিচার, রাজাকার পুর্নবাসন।)}

১৯৯১ এর ২৯শে ডিসেম্বর জামাতে ইসলামী পকিস্থানী নাগরিক  মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম প্রধান যুদ্ধাপরাধী গোলাম আজমকে জামাতের আমীর ঘোষনা করলে সারা দেশে এর তীব্র বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। এর ধারাবাহিতায় ১৯৯২ সালে ১০১ সদস্য বিশিষ্ট একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি গঠন করা হয়। শহীদ জননী জাহানারা ইমাম এর আহ্বায়ক নির্বাচিত হন। 

১৯৯২ সালের ২৬শে মার্চ তৎকালীন বিএনপি সরকারের শত বাঁধা অতিক্রম করে তাঁর নেতৃত্বে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাহানারা ইমামকে চ্যেয়ারম্যান করে ১২ সদস্যের গনআদালত গঠন করা হয়।  সেখানে যুদ্ধাপরাধী গোলামকে ১৩টি অপরাধের জন্য প্রতীকী বিচার সম্পন্ন করে মৃত্যুদন্ড দেয়া হয়। এই রায় বাস্তবায়নের জন্য তিনি সরকারের নিকট আহ্বান জানান। কিন্তু সরকার উল্টো এই গণআাদালতে সাথে জড়িত জাহানারা ইমাম সহ ২৪জন বিশিষ্ট নাগরিকের বিরুদ্ধে রাষ্ট্টদ্রোহিতার অজামিনযোগ্য মামলা দায়ের করেন। পরে হাই কোর্ট তাদের জামিন মঞ্জুর করেন। ১৯৯২ সালে জাহানারা ইমাম লাখো জনতার পদযাত্রার মাধ্যমে তৎকালীন প্রধান মন্ত্রী, বিরুধী দলীয় নেত্রী এবং স্পিকরের নিকট স্বারক লিপি পেশ করেন। দেশ বিদেশে তার আন্দোলন ব্যাপক সমর্থন পায়। তার এ আন্দোলন ইউরোপীয় পর্লামেন্ট ৭১ র যুদ্ধাপরাধের বিচারকে ব্যাপক সমর্থন দেয়। (সূত্র-জাহানার ইমাম দেশ যাকে মা বলে ডাকে, মীর মাসরুর জামান,৪ঠা মে২০১৭, চেনেল আই, অন লাইন,২৭শে নভেম্বর ২০১৭)

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

২৬ তম পর্ব ২০০৬ সালে বি এন পি'র তত্ত্বাবধায়ক সরকার নাটক:

 . ২০০৬ সালে বি এন পি'র তত্ত্বাবধায়ক সরকার নাটক:-২০০৬ সলের জোট সরকার মেয়াদ শেষ হলে ক্ষমতা ছাড়ার সময় অাবার দেখা দেয় দুই প্রধান দল তথা জোট...