Pages

বৃহস্পতিবার, ১৮ আগস্ট, ২০২২

৪র্থ পর্ব/ পাকিস্থান থেকে বাংলাদেশ “চোখে দেখা রাজনীতি”র ৪র্থ পর্বে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন থেকে ১৫ই আগষ্ট পর্যন্ত


 স্বাধীন বাংলাদেশ পর্ব

১৯৭১ সালের ১৬ ই ডিসেম্বর।  বাংলা দেশ আজ থেকে একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশ, এখন আর কোন বিদেশীকে শাসক মেনে ভৃত্যের মত নত শিরে চলতে হবেনা। নিজেদের দেশ নিজেরা গড়ে তুলবে নিজেদের নেতা নিজেরা নির্বাচিত করবে, নিজেদের ভাগ্য নিজেরাই পরিবর্তন করবে।

  ১৬ই ডিসেম্বর সেই মাহেন্দ্রক্ষণ এই ১৬ ই ডিসেম্বর মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় বাহিনীর যৌথ কামান্ডের নিকট  ঢাকায় আত্ম সমর্পন করেছিল নিয়াজীর নেতৃত্বে পাক বাহিনী। তারপর ২২শে ডিসেম্বর পর্যন্ত সারা দেশে পর্যায়ক্রমে পািকস্থানী সৈন্যরা  আত্ম সমর্পন করতে থাকে।

   এদিকে ১৯৭১ সলের ২২শে ডিসেম্বর বাংলাদেশ সরকার স্তানান্তরিত হয়ে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজ উদ্দীন সহ সকল মন্ত্রী এক যোগে ঢাকায় ফিরে আসেন। ২৩শে ডিসেম্বর বাংলাদেশের প্রথম মন্ত্রীসভার বৈঠক অনুষ্টিত হয়।

ঢাকায় এসে মন্ত্রী পরিষদের প্রদান কাজ হল আইন শৃঙ্খলা পরিস্তিতির উন্নতি, বেসামরিক প্রশাসন পুনঃপ্রতিষ্টা এবং পাকিস্তানী কারাগার থেকে বঙ্গবন্ধুকে মুক্ত করে আনা।

নয় মাস যুদ্ধের পর এখন মুক্তি যুদ্ধের শেষ, প্রত্যাশা ছিল উদ্বাস্তু হয়ে যে এক কৌটি শরনার্থী ভারতে যেতে বাধ্য হয়েছিল তারা আবার দেশে ফিরে আসবে, যে কৃষকেরা মুক্তি যুদ্ধে অংশগ্রহন করেছিল তারা আবার তাদের কৃষি কাজে ফিরে যাবে। যে শ্রমিকেরা মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন করেছিল তারা কলকারখানায় কাজে যোগদান করবে, যে ছাত্র-শিক্ষক মুক্তি যুদ্ধে অংশ নিয়েছিল তারা তাদের লেখা পড়া আর শিক্ষকতার কাজে নিয়োজিত হবে। 

          তেমনি মুক্তিযুদ্ধা প্রান্ত ও তার বন্ধু বান্ধব যারা  মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন করেছিল তাদেরও প্রত্যাশা ছিল তাদের অস্ত্র জমা দিয়ে আবার লেখা পড়ায় ফিরে গিয়ে পাঠে মনযোগী হবে।

কিন্তু দীর্ঘ নয় মাসের যুদ্ধে সারা দেশ আজ বিরান ভূমিতে পরিনত হয়েছে। ঘর বাড়ী, কল কারখানা, দোকান পাট, রাস্তাঘাট সব বিধ্বস্ত। চারিদিকে ধংষস্তুপ আর ধংষস্তুপ।  কি করে তারা স্ব স্ব কাজে ফিরে যাবে?  কি করে এক কৌটি স্বরনার্থী তাদের জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ধংষ করে দেওয়া বসত বাড়ীতে আশ্রয় নেবে? সঙ্কট আর সঙ্কট। দেশের অর্থনীতি পুরোপুরি ধংষ। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পুরোপুরি শূন্য।   খাদ্য গুদাম গুলো একেবারেই খালি। এত সব পর্ব্বত প্রমান সমস্যা আর সঙ্কট মাথায় নিয়ে বাংলাদেশের নতুন সরকারের যাত্রা শুরু। তার উপর সদ্য প্রসূত বাংলাদেশকে নিয়ে দেশীয় পরাজিত শত্রু  আর পাক-মার্কিন আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র। যা দেশের স্তিতিশীলতার প্রতি হুমকী হয়ে দাঁড়ায়।

এ রকম এক পরিস্তিতির মধ্যে ১০ই জানুয়ারী ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধু পাকিস্থান থেকে মুক্তি পেয়ে বাংলাদেশে ফিরে আসল। বাংলা মা আবার ফিরে পেল তার হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ সন্তানকে।

বঙ্গবন্ধু দেশে ফিরে এসে সম্পূর্ণভাবে দেশ পূর্নগঠন কাজে আত্ম নিয়োগ করলেন। তিনি স্বল্প সময়ে বিধ্বস্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা সহ চট্টগ্রাম ও চালনা বন্দরের কার্যক্রম পুনরুদ্ধার করেন।  এক কৌটি স্বরনার্থীকে পুনর্বাসিত করেন।  শহীদ পরিবারকে আর্থিক সহায়তা, তিন লক্ষ বীরঙ্গনা নারীর পুনর্বাসন, পঙ্গু মুক্তিযুদ্ধাদের বিদেশে চিকিৎসা, তিন মাসের মধ্য ভারতীয় বাহিনীর প্রত্যাবর্তন, দশ মাসের মধ্যে জাতিকে একটি সংবিধান এবং ১৯৭৩ সালে একটি সাধারন নির্বাচন দেন। কিন্তু এতসব সফলতার মধ্যেও অদক্ষ ও দূর্নীতিগ্রস্ত প্রশাসন, চারিদিকে চুরি ডাকাতি হত্যা রাহাজানি, আইন শৃঙ্ক্খলার অবনতি, ইত্যাদী বঙ্গবন্ধুর জনপ্রিয়তাকে অনেকটা ম্লান করে দেয়। তার সাথে যোগ হয় বন্যায় ফসলহানি। ফলে দেখা দেয় খাদ্য ঘাটতি, হু হু করে বাড়তে থাকে চালের দাম। সে সময় বাংলাদেশের মত নতুন রাষ্টের ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামোয় এত সব মোকাবেলা করে বাজার ব্যবস্থা নিয়ন্তন করা ছিল এক দূঃসাধ্য ব্যপার। এ জন্য মোটেই প্রস্তুত ছিল না  নব্য নিয়োগপ্রাপ্ত সরকারী কর্মকর্তারা। তার উপর ছিল পুরানো দূর্নীতিগ্রস্ত প্রশাসন। ফলে দেখা দিতে থাকে দুর্ভিক্ষ। একসময় এ দুর্ভিক্ষ চরম আকার ধারন করে হাজার হাজার মানুষ নাখেয়ে মরতে থাকে। সারাদেশে খোলা হয় লঙ্গর খানা। এর ফলে তাঁর অর্জিত সব সফলতা ম্লান হয়ে য়ায়। পাক মার্কিন ষড়যন্ত্র চলতে তাকে বঙ্গবন্ধুকে উৎখাতের জন্য। তার সাথে যোগ দেয় দলীয় ষড়যন্ত্রকারীরাও। এ ষড়য়ন্ত্রকারীদের নেতা ছিলেন খোন্দকার মুশতাক আহমেদ। মুশতাকের সাথে শেখ সাহেবের নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব সেই পাকিস্থান আমল থেকে। কিন্তু শেখ সাহেবের বিশাল ব্যক্তিত্বের কাছে তাকে বার বার হার মানতে হয়েছে।  মুক্তি যুদ্ধের সময় শেখ সাহেবের অনুপস্তিতিতে মুশতাক এবং তার চরম ডান পন্তীরা তাজ উদ্দীনের নেতৃত্ব সহজে মেনে নিতে পারেন নি। তিনি নিজে এবং শেখ মনিকে দিয়ে বার বার তাজউদ্দীনকে অপদস্ত করার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধু জানতেন তাজুদ্দিনের মত লিবারেল ঘরনার নেতৃত্বই পারবেন তাঁর অবর্তমানে স্বাধীনতা সংগ্রামের নেতৃত্ব দিতে। সেজন্য তিনি তার উপরই আস্থা রেখেছিলেন। সে কারনে মুশতাক বঙ্গবন্ধুর উপর ভিতরে ভিতরে রুষ্ট ছিলেন। কিন্তু তিনি  তা কোন দিনই বাইরে প্রকাশ করেন নি। তবে সারা মুক্তিযুদ্ধ ব্যাপী তিনি তাজ উদ্দীনের উৎখাতেই লেগে ছিলেন।  '১৯৭১ সালে বিশ্ব জনমত গঠনের উদ্দ্যেশ্যে ইন্দিরা গান্ধী যখন যুক্তরাষ্ট্র সফরে গিয়েছিলেন তখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নিক্সন তাকে নাকি জানিয়েছিলেন মুজিবকে বাঁচাতে চাইলে বাঙ্গালীদের স্বাধীনতার দাবী ছাড়তে হবে। এরকম একটা গুজব চারিদিকে ছড়িয়েছিল। উল্লেখ্য তিনি বিভিন্ন দেশ ঘুরে দেশে ফিরে এলে ভারতে অবস্থানরত প্রবাসী সরকারের প্রধান মন্ত্রী তাজ উদ্দীন সহ (মোশতাক ছাড়া) আওয়ামী লীগের নেতৃস্থানীয়দের দিল্লীতে ডেকে পাঠান। ফলে এ গুজব আরো ডালপালা মেলে।(পরে জানা যায় এ গুজবের জনক ছিল আওয়ামীলীগ নেতা নুরুল ইসলাম ও ওসমানী সাহেবের পিআরও নজরুল ইসলাম) মোশতাক যখন এ খবর শুনেন (মুশতাকও এ গুজবে জড়িত ছিল কিনা কে জানে) তিনি তখন হু হু করে কাঁদতে শুরু করলেন। --------এর পর পুরা সিনেমা ষ্টাইলে চিৎকার করে বলতে থাকেন, "না না এটা কিছুতেই হতে দিতে পারিনা আমরা।" ( অর্থাৎ মুজিবের জীবন রক্ষার জন্য স্বাধীনতার ব্যপারে তিনি আপোষ করতেও রাজি)  তার এ অভিনয় দেখে মনে হয়েছিল তিনি মুজিব প্রেমে উছলে  পড়ছেন। কিন্তু বাস্তবতা ছিল ভিন্ন।  এর আড়ালে ছিল এক ভয়াবহ চক্রান্ত। মোশতাজ তার কর্মকান্ড ও চক্রান্তকে জাস্টিফাইড করার জন্য এ সব ব্যবহার করছিলেন মাত্র।' এখানে উল্লেখ্য যে এর কিছুদিন পর মুশতাক তার পররাষ্ট্র সচীব মাহ্বুবল আলম চাষীকে দিল্লীর মার্কিন দূতাবাসে পাঠান। সেখানে তার যুক্তরাষ্ট্রে গমনের ইচ্ছা এবং ভিষা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। পরে মাসের শেষের দিকে কুমিল্লার সংসদ সদস্য জহিরুল কাইয়ুম মোশতাকের প্রতিনিধি হিসাবে কলকাতায় মার্কীন দুতাবাসে যোগাযোগ করে ইংগীত দেয় যে প্রবাসী সরকার মুজিবের মুক্তির বিনিময়ে প্রয়োজনে স্বাধীনতার প্রশ্নে ছাড় দিতে রাজী আছে।  এটা ছিল স্বাধীনতা অর্জনের পথে চরম কুঠারাঘাত। কিন্তু প্রধান মন্ত্রী তাজ উদ্দীনের চরম দৃড়তায় তার  এদূরভিসন্ধি ভন্ডুল হয়ে যায়। তিনি শিলি গুড়িতে আওয়ামীলীগের কনফারেন্সে দৃড় কন্ঠ বলেন " আমার স্তির বিশ্বাস বাঙ্গালী জাতির গলায় গোলামীর জিঞ্জির পরিয়ে দেবার পরিবর্তে তিনি(বঙ্গবন্ধু) বরং ফাঁসীর রজ্জু গলায় তুলে নেবেন হাসি মুখে।  এই মূহুুর্তে আমাদের স্বাধীনতা ছাড়া আর কোন বিকল্প নাই। বাঙ্গালীকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য বঙ্গবন্ধুকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য আমরা স্বাধীনতা চাই। স্বাধীনতা ছাড়া বঙ্গবন্ধুর আর কোন অস্তিত্ব নেই। আর পরিচয় নেই। স্বাধীন বাংলাদেশ মানে বঙ্গবন্ধু,  গোলামীর পরিচয় নিয়ে বঙ্গবন্ধু কোন দিন পরাধীন পূর্ব পাকিস্থানে ফিরে আসাবেনা। ( মুক্তি যুদ্ধের অন্তর্ঘাত পর্ব, জন্ম যুদ্ধ-৭১) স্বাধীনতার পর তাজ উদ্দীন এবং বঙ্গবন্ধু তাকে ক্ষমা করে দিলেও তার ষড়যন্ত্র থেমে থাকেনি। বরং চলতেই থাকে সেই মাহাবুব উল আলম চাষী এবং তাহের উদ্দীন ঠাকুরদের নিয়েই। অন্যদিকে মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতিকালীন সময়ে ছাত্রলীগের বাঙালীরাষ্ট্র প্রতিষ্টার অগ্রগামী চিন্তার ধারক একটি গ্রুপ এবং ছাত্রলীগের অভ্যন্তরে সমাজতন্ত্রের আদর্শে অনুপ্রানিত আর একটি গ্রুপ মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী বাংলাদেশে ১৯৭২ সালে ছাত্রলীগের কাউন্সিলকে কেন্দ্র করে দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়ে। এরপর সমাজতন্ত্রে বিশ্বাসী  ছাত্রলীগের অনুশারীরা ১৯৭২ সালের ৩১ অক্টোবর জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ গঠন করে। ৯নং সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার মুক্তিযুদ্ধা মেজর জলিলকে সভাপতি এবং ডাকসূর সাবেক ভিপি ও ছাত্র নেতা আ স ম আব্দুর রবকে সাধারন সম্পাদক করে দলটির প্রথম কমিটি গঠন করা হয়।এ রকম এক জটিল রাজনৈতিক আবর্ত, তার উপর বিধ্বস্ত অর্থনীতি, স্বাধীনতা বিরুধীদের তৎপরতা, সিরাজ শিকদারদের মত অতি বিপ্লবীদের অন্তর্ঘাত মূলক কার্যকলাপ। তাজ উদ্দীনের সাথে বঙ্গবন্ধুর ভূল বুঝাবুঝি। তাছাড়া উচ্ছাঙ্খাকী জিয়াউর রহমানের পরিবর্তে  শফিউল্লাকে সেনা প্রধাণ হিসাবে নিয়োগ দেয়ায় অসন্তুষ্ট জিয়া ষড়যন্ত্রকারী ফারুক রশীদের সাথে হাত মিলিয়ে প্রাসাদ ষড়যন্ত্রে মেতে উঠে নেপথ্যে থেকে  কলকাঠি নাড়ানো।  এত সব জঠিল পরিস্তিতিতে কে শত্রু কে মিত্র তা বুঝে উঠতে সক্ষম হননি বঙ্গবন্ধু, এরকম ঘোলাটে অবস্থায় তিনি তার নিজের দলের মধ্যে ঘাপটি মেরে থাকা শর্শের ভূত দেরও চিহ্নিত করে তাড়াতে অবহেলা করেছেন। বুঝে উঠতে পারেননি তার চরম শত্রুদের।  তাহার সরলতার সুযোগে তার একান্ত ঘনিষ্ট জনেরা পাকিয়েছেন ষড়যন্ত্র।

তার সাথে যুক্ত হয়েছে দেশে তখন হঠাৎ গজিয়ে উঠা অতি বিপ্লবী কিছু সংবাদ পত্রের সরকার বিরোধী  গোয়েবেলসীয় প্রচারনা। এ সকল সংবাদ পত্রে তারা প্রচার করতে থাকে বিদেশ থেকে আসা সব সাহায্য আওয়ামীলীগের লোকেরা খেয়ে ফেলছে, রিলিফের সব মাল ভারতে পাচার হচ্ছে, আওয়ামীলীগের ছেলেরা ছিনতাই ডাকাতি করে সম্পদের পাহাড় করছে। শেখ মুজিবের ছেলে ব্যাঙ্ক ডাকাতি করে পালানোর সময় আহত হয়েছে, সেনা বাহিনীকে ধংষ করা করার জন্য রক্ষী বাহিনী সৃষ্টি করা হয়েছে, সেখানে প্রচুর ভারতীয়কে নিয়োগ দয়া হয়েছে, ৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর যে সকল হিন্দুরা চলে গিয়েছিল তারা অচিরেই ফিরে আসবে আর বাড়ী ঘর দখল করে নেবে। আশ্চর্য মনে হলেও সত্য যে এসকল তথ্য জাসদের মুখপত্র 'গণকন্ঠ', ভাসানী ন্যাপের 'হক কথা' চীন পন্তীদের মুখপাত্র এনায়েত উল্লা খানের 'হলি ডে' পত্রিকাতে প্রকাশ হতে থাকে। তৎকালীন সি আই এর এজেন্ট বারিষ্টার মইনুল হোসেনও একিই প্রচারনায় অবতীর্ণ হয়েছিল।

এই সকল কারনে আওয়ামীলীগ তথা শেখ মুজিবের জন প্রিয়তায় চরম ধষ নামে, মানুষের সকল দূর্গতির জন্য আওয়ামীলীগই দায়ী বলে ভাবতে থাকে মানুষ। অনেকে এমন সিদ্ধান্তেও পৌছে যায় যে এর চেয়ে পাকিস্তানই ভাল ছিল। কেউ কেউ এও ভাবতে লাগল পাকিস্থান নামক শক্তিশালী মুসলীম দেশটিকে ভারতই বিছিন্ন করে দিল। এ সকল বিরূপ প্রচরনার মধ্যে বঙ্গবন্ধুর জন প্রিয়তা খুবই নিম্নগামী, সেই সময়ে ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারী বঙ্গবন্ধু দ্বিতীয় বিপ্লব তথা বাকশালের কথা বলেন। এবং চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে  সংসদীয় পদ্ধতির পরিবর্তে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার পদ্ধতি চালু ও বহুদলীয় রাজনীতির পরিবর্তে এক দলীয় রাজনীতি তথা বাকশাল প্রবর্তন করেন। তখন দেশের কৃষক শ্রমিক মেহনতি মানুষকে বাঁচাতে, দেশকে এক প্লেট ফর্মে ঐক্যবদ্ধ করে সামনে এগিয়ে চলা ছাড়া তার কাছে আর কোন বিকল্প পথ ছিলনা। তাই রাজনীতিতে মেহনতি মানুষের প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব  করার জন্য সমাজতান্ত্রিক ধাঁছের বাকশালের প্রবর্তন করেন।  বাকশাল গঠনের কারনে মুক্তি যুদ্ধের পরাজিত শত্রু, তাদের এদেশীয় দোষরসহ নিজ দল এবং দেশী বিদেশী শক্তির সূদূর প্রসারী ষড়যন্ত্রে সেনা বাহিনীর কিছু বিপদগামী কনিষ্ট সেনা কর্মকর্তার পৈচাসিকতায় ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগষ্ট স্বপরিবারে নির্মমভাবে নিহত হন বঙ্গবন্ধু।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

২৬ তম পর্ব ২০০৬ সালে বি এন পি'র তত্ত্বাবধায়ক সরকার নাটক:

 . ২০০৬ সালে বি এন পি'র তত্ত্বাবধায়ক সরকার নাটক:-২০০৬ সলের জোট সরকার মেয়াদ শেষ হলে ক্ষমতা ছাড়ার সময় অাবার দেখা দেয় দুই প্রধান দল তথা জোট...