Pages

সোমবার, ২২ আগস্ট, ২০২২

৫ম পর্ব /পাকিস্থান থেকে বাংলাদেশ “চোখে দেখা রাজনীতি”র ৫ম পর্বে বাকশাল কি ও ১৫ই আগষ্ট অভ্যূত্থানের কুশিলবরা


 

বাকশাল(বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ):- ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে হত্যার পর থেকেই অবিরাম চলে আসছে যে বঙ্গবন্ধু আজীবন গনতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করে একদলীয় শাসন বাকশাল কায়েম করে গণতন্ত্রকে হত্যা করেছেন। কিন্তু কি সেই বাকশাল? বাকশাল এমন এক পদ্ধতি বঙ্গবন্ধু বাকশাল প্রতিষ্টার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে কৃষক শ্রমিক মেহনতি মানুষের প্রতিনিধিত্ব সৃষ্টি করে শোষিতের গনতন্ত্র কায়েম করতে চেয়েছিলেন।  বাকশাল সৃষ্টির মধ্য দিয়ে তিনি করতে চেয়েছিলেন বাংলাদেশের ৮০% মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন। তার এই উদ্যোগ পুঁজিবাদী স্বার্থে আঘাত লাগার কারনে তাঁর বিরুদ্ধে(এমনকি তাঁর দলের ভিতরেও) পুঁজিবাদী শক্তি ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। পরিনতিতে স্বপরিবারে করুনভাবে প্রাণ দিতে হয় বঙ্গবন্ধুকে।

 বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর পর থেকে  আজ পর্য়ন্ত আমরা যে প্রচলিত গনতন্ত্র দেখছি সে গণতন্ত্রে কি সাধারণ মানুষের কোন প্রতিনিধিত্ব দেখছি?  বিশাল সম্পদ এবং কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা যার আছে তিনিই শুধু নির্বাচনে অংশ গ্রহন করতে পারেন। তারাই স্থান করে নিয়েছে জাতীয় সংসদে। তারা কিন্তু কেউ এদেশের স্বাধারন মেহনতি মানুষ নয়। তারা হলেন সমাজের ধনিক শ্রেনী। যার ফলে অর্থ বিত্তশালীরা এ দেশের রাজনীতির কর্ণধার। উপরিউক্ত সিষ্টেমকে পরিবর্তন করার জন্যই বঙ্গবন্ধু বাকশাল গঠন করেছিলেন। এই পদ্ধতিতে সমবায়ের আওতায় কৃষি জমি চাষবাস এবং সকল নির্বাচনী ব্যয় রাষ্ট্রের উপর নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়।

বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, এ সিষ্টেম আমি বেশীদিন রাখবনা মেহনতি মানুষের প্রতিনিধিত্ব আসলেই আমি আবার বহুদলীয় গণতন্ত্রে ফিরে যাব। সব চেয়ে দুঃখের বিষয় হল আজ আমরা কেউ বাকশাল সম্পর্কে ভালভাবে না জেনে বঙ্গবন্ধুকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য উঠে পরে লেগে থাকা সেই ৭১ আর ৭৫ সালের খুনিদের সাথে একিই সূরে বলি বঙ্গবন্ধু গণতন্ত্র হত্যা করেছেন। তার বিরুদ্ধে এ অপপ্রচার করাটা কি আমাদের যুক্তিসংগত? আক্ষেপ ! বাংলাদেশের মেহনতি মানুষ আজো বুঝতে পারেনি এ বাকশালই ছিল তাদের মুক্তির সনদ।

 যুব সমাজের নৈতিক অবক্ষয় :- তখনো তখনো শোকাবহ  ১৫ আগষ্ট আসেনি। প্রান্ত  বিয়োগান্ত এক ট্রেজেডির মাধ্যমে তার বোন রুশনীকে হারানোর পর খুবই শোকাহত হয়ে পড়ে। গ্রামের সব ফেলে চলে আসে ঢাকায়। সেখানে এসে সে ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়। @#%$#@%$#@বিশ্ব বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে দেখে সমাজের সব জায়গায় যে মূল্যবোধের ধষ নেমেছে এখানেও তার কোন ব্যতিক্রম নেই। যে ছাত্র সমাজ এক সময় আদর্শের জন্য জীবন দিয়েছে সেই ছাত্র সমাজের বিরাট একটি অংশ আজ ভোগ বিলাসে গা ভাসিয়ে দিয়ে চুরি ডাকতি রাহাজানী, ব্যাঙ্ক ডাকাতির মত ঘৃন্য কার্য কলাপে লিপ্ত হচ্ছে। মদ গাঁজা ভাং চরশ সহ বিভিন্ন নেশা জাতিয় দ্রব্যে আসক্ত হয়ে সোনালী ভবিষ্যতকে নষ্ট করে দিচ্ছে। অনেক ছাত্র হাই কোর্টের মাজারের পাশে অবস্তানরত নেশাগ্রস্ত তথাকথিত দরবেশ নূরা পাগলার আস্তানায় ঠাঁই গাঁড়ে। সেখানে তারা নূরা পাগলাকে নিয়ে রাতভর গাঁজার নেশায় বুদ হয়ে  বাদ্য যন্ত্র বাজিয়ে নানা রকম মারফতি গান করে মাজারের আশে পাশে ঘুমিয়ে পরে। প্রান্তও বন্ধুদের পাল্লায় পরে তার শোকাবহ হতাসাগ্রস্ত জীবনকে ভূলে থাকতে বেশ কয়েকবার সেই নূরা পাগলার আস্তানায় গিয়েছিল। পরে নিজের হিত চিন্তা করে নিজেকে সেসব থেকে দূরে সরিয়ে আনে।   শুধু প্রান্ত নয় স্বাধীনতার পর  যুব সমাজ ভেবেছিল দেশ স্বাধীন হবার পর সব কিছু দিনে দিনে বদলে যাবে। তারা যা চাইবে তাই হাতেট মুঠোয় চলে আসবে।  যেহেতু তারা দেশের জন্য অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছে, যুদ্ধ করছে, রক্ত দিয়েছে প্রাণ দিয়েছে, এখন দেশের তাদেরকে দেয়ার পালা,  এমনি এক অবাস্তব স্বপ্নীলতা তাদেরকে এমনভাবে আশ্চন্ন করে ফেলেছিল যে,  তারা বলতে শুরু করে,

"লক্ষ লক্ষ প্রানের দাম,

অনেক দিয়েছি উজার গ্রাম

সুদ আসলে আজকে তাই

যুদ্ধ শেষের প্রাপ্য চাই।"

স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়ের তাদের যে দেশ প্রেম ছিল  তা দিনে দিনে তিরুহিত হয়ে কেউ ভোগবাদে, কেউ কেউ হতাসায়, কেউ কেউ উশৃঙ্খল আধ্যাত্ববাদে মশগোল হয়ে নৈতিকতাকে বিসর্জন দিয়ে ধংষের দোড় গোড়ায় পৌছে যাচ্ছিল। কলেজ বিশ্ব বিদ্যালয়ের হলে হলে নেশা মহামারীর মত ছড়িয়ে যায়। নেশা করা যেন একটা ফ্যাসন হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ছাত্র রাজনীতিতে শুরু হয় অস্ত্রের ঝনঝনানী। দলীয় কোন্দলের জের ধরে বিশ্ববিদ্যালয় হতে থাকে রক্তাক্ত। একদিনে একসাথে সাতজন ছাত্রকে গুলি করে ছাত্রলীগের বিরুধী গ্রুপ। নেতৃত্ব দেয় তৎকালীন ছাত্রলীগ নেতা  আজকের জাগপা প্রধান সদ্য প্রয়াত শফিউল আলম প্রধান। এইসব নেশাগ্রস্ত অধঃপতিত উশৃঙ্খল তরুন সমাজকে নিয়ে, আতঙ্কিত হয়ে উঠল দেশের সরকার, অভিবাবক এবং সচেতন মহল।  তাদের শুধরানোর জন্য নির্মিত হয়  'আবার তোরা মানুষ হ' এর মত চলচ্ছিত্র। 

  এই রকম এক উদ্বেগজনক পরিস্থিতি থেকে যুব তথা ছাত্র সমাজকে উত্তরনের পথ দেখতে ১৫ আগষ্ট ১৯৭৫ সালের সকালে বঙ্গবন্ধু আসবেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্টানে।  ছাত্র ছাত্রীদের মধ্যে সাজ সাজ রব। বঙ্গবন্ধুকে অভ্যর্থনা জানাতে সবাই উন্মুখ। প্রান্তরাও মহান নেতাকে সম্বর্ধনা দিতে মুখিয়ে আছে।

 বঙ্গবন্ধুকে প্রান্ত প্রথম চাক্ষুস দেখেছিল নির্বাচনের সময় তাদের বাড়ীর পাশে বোন রুশনী সহ শৈকত পাড়ে। তাঁকে আবার দেখবে বিশ্ববিদ্যালয়ে, কিন্তু তার বোন রুশনী আজ ইহ জগতে নাই। এ স্মৃতি জাগানীয়া কথা মনে আসতেই প্রান্তের  দু চোখ বেয়ে অশ্রু ঝরে পড়ল। বোনের সেই নিস্পাপ চেহেরাটা ভেসে উঠল তার সামনে। বিছানায় শোয়ে শোয়ে এসব চিন্তা করতে করতে এক সময় সে ঘুমিয়ে পড়ল।

  রাত ভেদ করে ভোরের ফর্সা আভা তখনো দেখা দেয়নি মুয়াজ্জিন হয়ত আযান দেয়ার জন্য অজু করছেন। প্রান্তদের হলের বেশ কিছু ছাত্রলীগ কর্মী এই সাঁঝ সকলে উঠে গেছেন কারন কয়েক ঘন্টা পর বঙ্গবন্ধু আসছেন তাদের চল্লিশতম সমাবর্তনে যোগ দিতে। সে জন্য তারা প্রস্তুতি নিতে। হঠাৎ পাশের রুমের নাফিস এসে প্রান্তদের দরজা ধাক্কা দিচ্ছে। প্রান্ত ঘুম জড়ানো বিরক্তিকর কন্ঠে বলতে লাগল, এত বিরক্ত করছ কেন?  সে অপর পাশ থেকে বলতে লাগল,

"সর্বনাশ হয়ে গেছে, তাড়াতাড়ি রেডিও অন কর।"

কি হয়েছে বলবে তো বলে সে বিছানা থেকে উঠে দরজা খুলে দেয়। তারপর রেডিওটি অন করে।  রেডিওতে তখন মেজর ডালিমের ঘোষনা, "স্বৈরাচারী শেখ মুজিকে হত্যা করা হয়েছে--- ঢাকা শহরে কার্ফিও জারী করা হয়েছে" এ ঘোষনা শুনে প্রান্তর বিশ্বাসই হচ্ছিলনা, এ অপ্রত্যাশিত ঘোষনাকে তার দুঃস্বপ্নের মত মনে হল। তীরের মত সেল যেন তার হৃদয়কে বেদনায় বিদ্ধ করে দিল। একটি প্রশ্ন বার বার মনে আসতে থাকে কার এত সাহস বাঙালী জাতির এ মহান নেতাকে হত্যা করে?

         এদিকে অভ্যুত্থানের কুশিলবরা ধীরে ধীরে সক্রিয় হয়ে  উঠে। ছক আঁটা পরিকল্পনা মত তারা তাদের কাজে ঝাঁপিয়ে পড়ে। এ হত্যার ষড়যন্ত্রে জড়িত কুশিলবদের ভূমিকা পুনঃ মঞ্চস্ত করে দেখা যাক কে কি ভূমিকায় অবতীর্ন হয়েছে।

অভ্যূত্থানে জড়িত সেনা অফিসার কর্নেল রশীদ  বঙ্গবন্ধু হত্যার অব্যবহিত পরে ৪৬তম ব্রিগেডের কমান্ডার শাফায়াত জামিলের বাসার দিকে রওনা দেয়, বাসায় গিয়ে সে সেনাবাহিনী কতৃক বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করার কথাটি জামিলকে অভিহিত করে।  কথাটি শুনে তিনি খুবই রোগে যান এবং তাকে কোর্ট মার্শালের ভয় দেখান। সে সময় সেনা প্রধান শফিউল্লার ফোন পেয়ে শাফায়াত জামিল  আরো দুই সেনা কর্মকর্তাকে নিয়ে দ্রুত চলে গেলেন উপপ্রধান সেনা কর্মকর্তা জিয়ার বাসায়। তাদের সাথে রশীদও যায়।  জিয়া তখনও অন্যান্য স্বাভাবিক দিনের মত দাঁড়ী কামানোতে ব্যস্ত ছিলেন, শাফায়াত জামিল জিয়ার সাথে দেখা করে তাকে সেনা বাহিনীর কতৃক বঙ্গবন্ধুর বাসা ঘেরাও করে প্রসিডেন্টকে হত্যার বিষটি অভিহিত করেন।" তিনি এমন একটি ঘোরতর কথা শুনে বিচলিত হলেন না, তেমন কোন ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়াও দেখালেন না, তিনি স্বাভাবিক ভাবে বললেন, "Presiden is dead, so what? Vice president is there. You should uphold the constitution. Get your troops ready" জিয়ার এই প্রতিক্রিয়া দেখে সাফায়াত জামিলেরও বুঝতে কষ্ট হয়নি জিয়া এ ব্যপারে আগে থেকে অবহিত আছেন। তা নাহলে দেশের প্রেসিডেন্ট সেনা বাহিনীর কিছু উশৃঙ্খল সেনা অফিসার দ্বারা নিহত হলেন তিনি সেনা বাহিনীর উপপ্রধান হয়ে এরকম একটি বিষয় জেনেও কি ভাবে একেবারে অবিচল রইলেন।

বঙ্গবন্ধু হত্যায় জিয়া শুধু অবিচল নয়, কি রকম উল্লাসিত হয়েছিলেন তার আর একটি নজির এখানে উল্লেখ করছি, অধ্যাপক আবু সায়িদের লেখা গ্রন্থ "বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ড, ফ্যাক্টস এন্ড ডকুমেন্টস" গ্রন্থে তিনি একজন সেনা অফিসারের উদ্ধৃতি দিয়ে লিখেছেন,-- "সেনা সদরে (১৫ই আগষ্ট) শফিউল্লার সাথে অন্যান্য অফিসাররাও যখন সেনা প্রধানের রুম থেকে বেরিয়ে আসেন, তখন জিয়াউর রহমান একটু এগিয়ে এসে ডালিমকে বলেন, Come, তারপর জিয়া আবেগের কন্ঠে তাকে বলল You have done such a great job. Kiss me, kiss me. এই বলে তিনি ডালিমকে পরম উষ্ণতায় জড়িয়ে ধরল । এরপর জিয়া আবার বলল-"You come in my car", সে উত্তর দিল " No sir, thank you very much. You are the Majour Ganral, I am a simple major. Otherwise you are the hero of entire show. Please allow me to my Jeep". পাঠক লক্ষ্য করুন সেই ১৯৭১ এর ২৮শে মার্চ  স্বাধীনতার ঘোষনা পত্রের পাঠক(২য় বার) সেই উচ্ছাভিলাসী মেজর জিয়া যিনি নিজেকে সেইদিন Provincial head of the Shadin Bangla liberation government বলে  ঘোষনা  দিয়েছিলেন। তার সাথে ১৯৭৫এর পনেরই আগষ্টের  (ডালিমের কথায় Entire show'র hero) মেঃ জেঃ জিয়াউর রহমানকে মেলান যিনি মেজর ডালিমকে 'Great job' সম্পাদন কারার জন্য আনন্দিত হয়ে তাকে Kiss করতে বলেছিলেন, কারন তিনি তখন বুঝে গেছেন ১৯৭১ সালের ২৮ এ মার্চ  provincial head of the shadin Bangla liveration government হওয়ার যে স্বপ্ন তিনি মনের ভিতর লালন করেছিলেন সেই লালিত স্বপ্নের সিঁড়ি বেয়ে কাঙ্খিত লক্ষ্যে এগিয়ে যাবার পথ অনেকটা সুগম করে দিয়েছে ফারুক-রশীদ-ডালিমরা।

        জিয়া ছিলেন খুবিই চালাক, কুঠবুদ্ধি সম্পন্ন, ধীর স্তির, নিষ্টুর প্রকৃতির ধূরন্ধর  মানুষ, তিনি কম কথা বলতেন, রহস্যময় চোখ দুটি সব সময় ঢেকে রাখতেন সান গ্লাসের কালো রঙের আবরনে, বিদেশী সাংবাদিকের চোখে "জিয়া ছিলেন ঠান্ডা মাথার খুনী।"  নিজের লক্ষ হাসিলের জন্য পরম উপকারীকেও নির্দয়ভাবে খতম করে দিতে দ্বিধা করতেন না" (বাংলাদেশ, এ লেগাসী অব ব্লাড /মুক্তিযুদ্ধ ও তারপর,গোলাম মুরশীদ ) জিয়া একদিকে বাকশালের সদস্য হবার জন্য আবেদন করেছিলেন, অন্যদিকে আবার জাসদ এবং তাহেরের সাথে সম্পর্ক রেখেছেন। মুশতাক সরকারের সেনা প্রধান হয়েছেন আবার ফারুক রশীদের বিরুদ্ধে শাফায়াত জামিলকে উস্কে দিয়েছেন। তাহেরের সামনে সমাজ তন্ত্রের মূলা ঝুলিয়ে তাহেরকে ব্যবহার করছেন। কাজ হাসিলের পর তার সাথে প্রথারনা করে তাকে নিষ্টুরভাবে ফাঁসীতে ঝুলিয়েছেন। সত্যিই জিয়া ছিলেন অতি চালাক 'ধরি মাছ নাছুঁই পানি' ধরনের বক ধার্মিক মানুষ। তবে একথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, কর্ণেল তাহের ও জাসদের  অদূরদর্শী সীপাহী জনতার অভ্যূত্থানের নামে বিপ্লবের তথাকথিত বালখিল্য রাজনীতি জিয়াকে নেতা হিসাবে প্রতিষ্টিত হতে সবচেয়ে বেশী অবদান রেখেছে।  জিয়ার উচ্চাঙ্খার ভূরি ভূরি প্রমান আছে। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ও তার উচ্ছাঙ্খার আরো প্রমান পাওয়া যায়, এ উচ্ছাভিলাসের কারনে কর্নেল ওসমানীর সাথেও সম্পর্কের অবনতি ঘটে তার,  "১৯৭১ সালের ১১ই আগষ্ট কলিকাতার ৮নং থিয়েটার রোডে প্রবাসী সরকারের প্রধান মন্ত্রী তাজুদ্দিনের সভাপতিত্বে সেক্টর কমান্ডারদের এক বৈঠক অনুষ্টিত হয়, যুদ্ধের সার্বিক রণ কৌশল নির্ধারন করায় এ বৈঠকের উদ্দেশ্য। মেজর জিয়া সে সময় একটা প্রস্তাব পেশ করেন, প্রস্তাবটা ছিল অবিলম্বে একটা যুদ্ধ কাউন্সিল গঠন করতে হবে। এ প্রস্তাবে কর্ণেল ওসমানীকে প্রধান সেনসাপতির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে  প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর দায়িত্ব দেয়ার প্রস্তাব করেন জিয়া। সুস্পষ্টই এটা ছিল যুদ্ধ পরিচালনায় সামরিক কতৃপক্ষের কতৃত্ব প্রতিষ্ঠার সুস্পষ্ট প্রয়াস। মেজর শফিউল্লাহ এবং খালেদ মোশাররফ এ প্রস্তাবের বিরুধীতা করেন।  তারা বুঝতে পেরেছিলেন এটা জিয়ার কুট কৌশল। কারন ওসমানী অপসারিত হলে জৈষ্টতা অনুযায়ী জিয়াই হবেন সেনাপতি। এ সকল কারনে মুক্তিযুদ্ধ কালীন সময় ওসমানীকে তাজউদ্দীন তিন তিনবার জিয়াকে গ্রেফতার করার নির্দেশ দিতেও বলেছিলেন।" ( মুক্তি যুদ্ধে প্রবাসী সরকার, মেজর রফিকুল ইসলাম পি এস সি।) উচ্ছাঙ্খা তাড়িত জিয়া বঙ্গবন্ধু হত্যার ষড়যন্ত্র করে ক্ষমতা দখলের আর একটি প্রমান পাওয়া যায় ভারতীয় সাংবাদিক আনন্দ বাজার পত্রিকার তৎকালিন ব্যুরো চীফ সুখরঞ্জন দাশগুপ্তের সাথে তাজুদ্দিনের সাক্ষাৎকারে, (১৯৭৫ সালের এপ্রিল মাস)সুখ রঞ্জনের কথায় বলা যাক "আমাকে দেখেই তাজুদ্দীন বললেন বসুন, তারপর সেখানে উপস্তিত অন্যান্যদের চলে যেতে বললেন,  তারপর কুশলাদির পর বলেন, ----এ চার পাঁচ মাস আমি ঘর থেকে এক পা বেরুইনি একটি ভয়ঙ্খর ষড়যন্ত্র দানা বেঁধে উঠছে, জানতে চাইলাম কি ধরনের ষড়যন্ত্র?  তিনি বললেন হত্যা, হত্যার ষড়যন্ত্র। আমি শিউরে উঠি, প্রশ্ন করি কারা এষড়যন্ত্র করছে নাম জানতে পারি?  তাজুদ্দীন গম্ভীরভাবে বললেন কি হবে আর নাম শুনে !  তারা সব শেখ সাহেবের বিশ্বস্থ লোক। সুখ রঞ্জন প্রশ্ন করলেন, শেখ সাহেব তা জানেন? তাজউদ্দীন বললেন, জানার তো কথা। তাজউদ্দীন গোড়া থেকে ব্যপারটা বলতে থাকেন, 'কদিন আগে একরাতে মেজর জেনারেল জিয়া দেখা করতে এসে সে প্রস্তাব দিল সামরিক অভ্যূত্থানের মাধ্যমে শেখ মুজিবকে ক্ষমতাচ্যূত করা হবে। তারপরে তাকে আটক রাখা হবে ঢাকা কেন্টনমেন্টে।  এ ব্যপারে সে তাজুদ্দীনের সমর্থন চাই। জিয়া নিজে থেকে আমার কাছে আসেনি তাকে পাঠানো হয়েছিল তা বেশ বুঝলাম। এ রকম একটা প্রস্তাবে আমার কি প্রতিক্রিয়া হয় বুঝতে। আমি অবশ্যই সঙ্গে সঙ্গে জিয়ার কথা মুজিবকে জানিয়ে দিই। মুজিব কি বললেন? বুঝতে পারলামনা মুজিব আমাকে বিশ্বাস করলেন কিনা।" বঙ্গবন্ধুকে হত্যা ষড়যন্ত্রের জিয়ার জড়িত থাকার আর একটি প্রমান হল বঙ্গবন্ধুর স্বঘষিত খুনী স্বয়ং ফারুক রহমানের এন্টনি ম্যাসকার্নহাসকে  দেয়া সাক্ষাৎকার। তাতে তিনি বলেছেন তার কথারউদৃতি দিয়ে বলি "আমাদের লীড করার জন্য জিয়াই ছিল মতাদর্শগতভাবে যোগ্যতম ও বিশ্বস্থ ব্যক্তি। তার সাথে দেখা করলাম ২০শে মার্চ(৭৫সাল)।জেঃ জিয়া বললেন,  একজন সিনিয়র অফিসার হিসাবে আমি তোমাদের এই টীমে সক্রিয় হতে পারি না।  তোমরা জুনিয়ার অফিসাররা ব্যপারটা চালিয়ে যাও।  লনে হাঁটতে হাঁটতে ফারুক তখন বলল, স্যার আমরা প্রফেসনাল সোলজার, আমরা প্রফেসনাল কিলারের মত কোন একক ব্যক্তিকে সার্ভ করবনা। আমরা আপনার আর আপনার মতাদর্শের বিজয় দেখতে চাই। এ মিশনে আপনার সমর্থন ও নেতৃত্ব অনিবার্য  "(Interview with it ccls Farooq and Rashid broatcast by ITV on 2 august,1976, বাংলা অনুবাদ) এথেকে বুঝা যায় যাতে ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হলে বা ধরা পড়লে যেন তার গায়ে কোন আঁচড় না লাগে আর সফল হলে তিনি যেন এর বেনিফিসিয়ারী হতে পারেন। জিয়া বঙ্গবঙ্গবন্ধু হত্যায় জড়িত থাকার আরো প্রমান আছে যা জাতির জানা উচিত, শুধু জিয়া নয় জিয়ার সাথে আরো অবাক করা কুশিলবরাও জড়িত ছিল। অশোক রায়ানার বই, "ইন সাইড দ্য হিষ্টিরী অব ইন্ডিয়ান সিক্রেট সার্ভিস এ উল্লেখ আছে, "বেগম জিয়ার বাড়ীর ট্রেস থেকে উদ্ধার করা হয় তিন ঘন্টা মিটিং এর পরে মুজিবের বিরুদ্ধে ক্যূ এর একটা স্ক্রাপ পেপার, কাগজটি যত্নসহকারে গার্ভেজ করা হলে একজন গুপ্তচর(Raw) গৃহ ভৃত্যের মাধ্যমে তা সংগ্রহ করে পরীক্ষা নীরিক্ষা করার জন্য দিল্লীতে পাঠিয়ে দিলে বঙ্গবন্ধুকে সতর্ক করে দেয়ার জন্য 'র' পরিচালক 'কাউ' পান বিক্রেতার ছদ্মবেশে বাংলাদেশে আসেন। বঙ্গবন্ধুকে বিষয়টা অভিহিত করা হলে তিনি সেটাকে যথারীতি উড়িয়ে দিয়ে বলেন ওরা আমার সন্তানের মত।" এই চিরকুটে যাদের নাম ছিল তারা হচ্ছেন জিয়াউর রহমান, মেজর রশীদ, মেজর ফারুক, জেনারেল ওসমানীও মেজর শাহরিয়ার। ( সহায়ক সূত্র-বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডে জেঃ জিয়ার দায়, এর উপর দেয়া মতামত চেনেল আই অন লাইন(৩০/১১/২০১৭,রাজেশ পাল)। বঙ্গবন্ধু হত্যায় জিয়ার এত প্রমান দেওয়ার পর কি বলা যাবে কোন প্রমান নেই? যাই হউক বঙ্গবন্ধু হত্যায় সবচেয়ে বেশী বনিফিশিয়ারী হয়েছেন জিয়া নামের কুটবুদ্ধি সম্পন্ন এ কুশলী মানুষটি। এত কিছুর পরও ইতিহাসের চরম শিক্ষা মেনে নিয়ে তাকেও মঞ্চ থেকে প্রস্থান করতে হয়েছে তারই বিশ্বস্ত একদল সেনা সদস্যের হাতে নৃশংস বেদনাদায়ক করুন মৃত্যুর মধ্য দিয়ে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

২৬ তম পর্ব ২০০৬ সালে বি এন পি'র তত্ত্বাবধায়ক সরকার নাটক:

 . ২০০৬ সালে বি এন পি'র তত্ত্বাবধায়ক সরকার নাটক:-২০০৬ সলের জোট সরকার মেয়াদ শেষ হলে ক্ষমতা ছাড়ার সময় অাবার দেখা দেয় দুই প্রধান দল তথা জোট...