Pages

বৃহস্পতিবার, ১১ আগস্ট, ২০২২

১ম পর্ব /“চোখে দেখা রাজনীতির” ১ম পর্বে (পাকিস্থানের জন্ম থেকে ২৫শে মার্চের কাল রাত পর্য়ন্ত) পাকিস্থানী সামরিক স্বৈরসাশকরা কিভাবে ক্ষমতা দখল করে দেশের তৃণমূল পর্যন্ত অনৈতিকভাবে ক্ষমতা সুসংহত করেছে তা আমিনুর রহমান নামে একটি বাস্তব চরিত্র অংকন করে দেখানো হয়েছে ৷ তাছাড়া আছে ছয় দফা ৬৯ এর গন অভ্যুত্থান সত্তোরের নির্বাচন ২৫শে মার্চের কাল রাত ৷






 






 চোখে দেখা রাজনীতি পাকিস্থান থেকে বাংলাদেশ (১৯৪৭থেকে ২০১৭) ১ম পর্ব পাকিস্থান সৃষ্টি 

                    ---------জসীম উদ্দীন

 প্রান্ত, পুরা নাম খালেদ আব্বাস প্রান্ত, জন্ম পঞ্চাশের মাঝামাঝি দশকে, প্রান্তর বাবা আব্দুর রহমান তখনকার আমলের একজন সল্প লেখা পড়া জানা লোক। বার্মায় স্থানীয় শিপিং লাইনে একটি জাহাজের একজন ছোট খাট সারেং ছিলেন।  দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধে জাপানী বাহিনী যখন বার্মা দখল করে, সে সময় বার্মায় কর্মরত অনেক বাঙালীর মত তার বাবাও বার্মা সীমান্ত পেরিয়ে নিজ দেশ চট্টগ্রামে নিঃস্ব অবস্থায় প্রাণ নিয়ে পালিয়ে আসে। যুবক আব্দুর রহমান তখনো বিয়ে করেনি।  দেশে এসে কি করা যায় এসব ভাবতে ভাবতে অনেক কষ্টে শিষ্টে নিজ গ্রামে একটি ছোট খাট মুদির দোকান গড়ে তুলে।

পরবর্তীতে এই দোকানের উপর নির্ভর করে তার বেশ অার্থিক সচ্ছলতা আসে ।  তখন ২য় বিশ্ব যুদ্ধের শেষ।  ইংরেজ খেদিয়ে ভারত বিভক্তির আন্দোলন তুঙ্গে। আর ভারত মাতার দু সন্তান হিন্দু মুসলিম দুই সম্প্রদায় সাম্প্রদায়িক বিভক্তির যাতা কলে পিষ্ট হয়ে ভারত ও পাকিস্থান এ দুটি দেশ জন্ম দেয়ার প্রসব বেদনায় কাতড়াচ্ছে। চারিদিকে হিন্দু মুসলিম সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, অশান্ত ভারত। দ্বিজাতি তত্ত্বের বীজ জিন্নার মাথায় ঢুকিয়ে ভারত বিভক্ত করে দিয়ে এক বিশৃঙ্খল অশান্ত উদ্বাস্তু পরিবেশ সৃষ্টি করে অবশেষে ইংরেজরা চলে গেল। সৃষ্টি হল চির বৈরী দু দেশ ভারত আর পাকিস্থান।

        পাকিস্থান সৃষ্টিতে পশ্চিম পাকিস্থান থেকে পূর্ব বাংলার মুসলমানদের অবদান ছিল বেশী।   পূর্ব বাংলার সংখ্যাগরিষ্ট মুসলমানই ভোট দিয়েছিল পাকিস্তানের পক্ষে, তাদের আশা ছিল এ নতুন দেশ পাকিস্তান স্বর্গের আবাস ভূমি নাহলেও অন্ততঃ খেয়ে পরে শান্তিতে বেঁচে থাকতে পারবে এ আবাস স্থলে।  কিন্ত তাদের আশায় গুড়ে বালি, পাকিস্থান সৃষ্টির পর থেকেই শুরু হল সংখ্যালঘু হিন্দুদের দেশ ত্যাগের হিড়িক। দলে দলে হিন্দু সম্প্রদায় তাদের নিরাপত্তা না পেয়ে নিজেদের বাপ দাদার বসৎ বাড়ী ত্যাগ করে বাংলা ছেড়ে ভারতে গিয়ে স্বস্তির নিস্বাস ফেলল । আবার ভারত থেকেও অনেক মুসলমান নিরাপত্তাহীনতায় অভাবে তাদের বাপ দাদার ঘর বাড়ী ছেড়ে বংলাদেশে এসে হাঁফ ছেড়ে বাঁচল। তবে ভারত তার আভ্যন্তরিন রাজনীতিতে গনতান্ত্রিক চরিত্র অব্যাহত রেখে এগিয়ে চললেও পাকিস্থান চলেছে স্বৈরতন্ত্র ও সামরিকতন্ত্রের মধ্য দিয়ে। সে তার গনতান্ত্রিক চরিত্র ধরে রাখতে পারেনি। ফলে রাজনীতিতে শুরু হয় প্রাসাদ ষড়যন্ত্র, এ ষড়যন্ত্রের সুযোগে অল্প কয় বৎসরের মধ্যে রাজনীতিতে দানবীয় রূপ নিয়ে ঝেঁকে বসে সামরিক শাসন।

পাকিস্থান সৃষ্টির প্রায় চার পাঁচ বৎসর পর প্রান্তের বাবা আব্দুর রহমান বিয়ে করেন পাশের গ্রামের সচ্ছল গেরস্ত ঘরের মেয়ে জয়নবকে। বিয়ের দু বৎসর পর জয়নবের গর্ভে জন্ম নেয় অনন্ত আব্বাস প্রান্ত। তখন পঞ্চাশের দশকের মাঝামাঝি সময়।

পাকিস্তান সৃষ্টির প্রথম থেকেই পশ্চিম পাকিস্থানের রাজনীতিবিদরা বাঙ্গালীকে দ্বিতীয় শ্রেনীর নাগরিক আর বাংলাকে তাদের কলোনী হিসাবে ভাবতে থাকে, সামরিক জান্তার আমলে তা আরো বেগবান হয়। বাঙালীদের উপর চলতে থাকে শোষণ নির্যাতন আর বৈষম্য। তার সাথে চলে  বাঙালী সংস্কৃতি ধংসের পাঁয়তারা। রবীন্দ্রনাথকে নিষিদ্ধ করা হয়, চলে আরবী হরফে বাংলা লেখার চেষ্টা। এভাবে ধীরে ধীরে বাংলা তার স্বকীয়তা হারাতে বসে। এক সময় বাংলার নামও পাল্টে গিয়ে হয়ে যায় পূর্ব পাকিস্থান ।  এ পূর্ব পাকিস্তান হল  পশ্চিম পাকিস্তানের সম্মৃদ্ধির যোগান দাতা কাম ধনূ গাভী। এ গাভীকে দোহন করে তা দিয়ে পাকিস্থানের পশ্চিম অঞ্চল হয়ে উঠে সম্মৃদ্ধ। গড়ে উঠে নতুন রাজধানী ইসলামাবাদ, গড়ে উঠে বড় বড় শিল্প কারখানা, সৃষ্টি হয় বাইশ পরিবার। পাকিস্থানের এই বাইশ পরিবারের হাতে চলে যায় পাকিস্থানের শতকরা আশি ভাগ সম্পদ। এ বাইশ পরিবারের মধ্যে শুধু পূর্ব পাকিস্থানের একটি পরিবার ছিল চট্টগ্রামের একে খান পরিবার,  আর একুশ পরিবারের সবাই ছিল পাকিস্থানী। শুধু অর্থে নয় বাংলার শিল্প, সংস্কৃতি সাহিত্য ঐতিহ্য সব কিছুতে চলে পাকিস্থানী আগ্রাসন। এমন কি তারা মুখের ভাষা পর্যন্ত কেড়ে নেওয়ার পাঁয়তারা শুরু করে। এ জন্য ১৯৫২ সালে বাংলার দামাল ছেলেরা প্রতিবাদ করতে গিয়ে রক্ত দিয়ে রঞ্জিত করে রাজ পথ। শহীদ হয় সালাম বরকত  রফিক শফিক সহ  অনেক ছাত্র জনতা।

 এভাবে বাঙালীর বাঙালিত্ব কেড়ে নিয়ে, দু প্রদেশের মধ্যে বৈষম্য ও অত্যাচারের অরাজক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে চলছিল পাকিস্তান নামক রাষ্ট্রটি। তখন পঞ্চাসের দশকের শেষ সময় । এ ডামাডোলের সময়ে জন্ম নেয় প্রান্তর বোন আব্দুর রহমানের ২য় সন্তান কন্যা রওশন আরা রুশনী। 

রাজনৈতিক উথ্যান পতন, সামরিক শাসনের যাত্রা, ৬৫টির  পাক ভারত যুদ্ধ। যুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তানকে অরক্ষিত রাখা, পরবর্তীতে মৌলানা ভাসানীর আন্দোলন, শেখ সাহেবের স্বায়ত্বশাসন, ছয় দফা, ছাত্রদের এগার দফার আন্দোলন এসব আন্দোলন সংগ্রাম আর পাকিস্থানীদের অন্যায় অত্যাচার অবিচার এসব দেখে দেখে প্রান্ত, রুশনী সহ তখনকার নতুন প্জন্মের ছেলে মেয়েদের বেড়ে উঠা। প্রান্ত দেখেছে আয়ুব খানের সামরিক শাসন, তখন তার বয়স পাঁচ ছয় হবে। সে সময়ে পাকিস্থানী সামরিক শাসকদের করা কিছু অন্যায় তার শিশু মনকেও তখন দারুনভাবে ব্যথিত করেছিল। আয়ুব খান ইস্কান্দর মির্জা থেকে ক্ষমতা কেড়ে নিয়ে যখন সামরিক শাসন জারী করে। প্রতিদিন জারী হতে থাকে নানা সামরিক ফরমান। প্রান্তের এখনো মনে পড়ে সামরিক শাসনের ফরমান জারী হওয়ার পর ম্যেলেটেরীর অত্যাচারের ভয়ে সারা পূর্ব পাকিস্থানের মানুষ জড় সড় কাতর হয়ে গিয়েছিল। ম্যালেটেরী ফরমান জারীর পর পূর্ব পাকিস্তানের সব এলাকা, শহর কি গ্রাম সব অঞ্চলের রাস্তাঘাট,  দু ধারের জঙ্গল, পুকুরের কচুড়ী পানা, বাড়ী ঘরের আঙিনা সব কিছু এলাকাবাসী নিজেরা নিজের  উদ্যোগে পরিস্কার পরিছন্ন করে একেবারে সাফ সুরত করে রাখত। প্রান্তদের এলাকাও তার ব্যতিক্রম ছিল না।  এলাকার মুরুব্বীরা ছেলে পুলে দিয়ে এলাকার রাস্ঘাট পুকুরের কচুরী পানা সব পরিস্কার করে রেখেছিল। সে সময়ের একটা কথা প্রান্তর মনে এখনো দাগ কাটে। সদ্য জারী করা সামরিক শাসনের সময় একদিন সে তার এক চাচাকে নিয়ে যাত্রী বাসে করে নানুর বাড়ী বেড়াতে যাচ্ছিল, পথে পথে বাস থামিয়ে আয়ুব খানের সামরিক বাহিনীর পাঞ্জাবী সৈন্যরা সব যাত্রী সাধারনকে নামিয়ে তল্লাসী চালাচ্ছিল,  কারো কাছে কোন আপত্তিকর কিছু না পেলেও  একটা দোষ  বেশ কয় জন যাত্রীর কাছ তারা আবিস্কার করেছিল। এ হাস্যকর দোষটা হল ফুল হাতা শার্ট পরে আবার হাত ভাঁজ করে দেয়া।  তাদের মতে এটা এক প্রকার অপচয়। সে কথিত অপচয়ের অপরাধের জন্য চাচাসহ সকল 'হাত বটে দেওয়া' যাত্রীদের কান ধরে উঠ বস করা হয়েছিল।  তখন চাচা সহ বড়দের এভাবে প্রকাশ্যে অপমান করাকে প্রান্তর  ছোট্ট শিশু মনে বেশ দাগ কেটেছিল।  তাদের সাথে তারও খুব অপমান লেগেছিল। এভাবে তখন থেকেই পাকিস্থান সেনা বাহিনী পাকিস্থানবাসীর শাসক, শিক্ষক, এবং অভিবাবক হয়ে বসে।

প্রান্তর বেশ বুদ্ধি হয়েছে, তখন ষাটের দশকের শুরু। এক প্রলয়ঙ্করী ঘুর্নিঝড়ে চট্টগ্রামের উপকূলীয় অঞ্চলীয় লাখ লাখ লোক জলোচ্ছসে ভাসিয়ে নিয়ে গিয়েছিল। প্রান্তর অনেক ঘনিষ্ট আত্মীয় স্বজনও সে সময় জলোচ্ছাসে প্রাণ হারিয়েছিল।  অন্তুদের বাড়ী উপকূলীয় এলাকায় হওয়ায় ঘুর্নি ঝড়ের দিন তার বাবা মামা চাচারা তাদের সবাইকে প্রছন্ড ঘুর্নিঝড় ও জলোচ্ছাসের মধ্যে কোলে করে বড় রাস্তার পাশে তাদের পাকা দোকান ঘরে নিয়ে গিয়ে জীবন বাঁচিয়েছিল।

তখন এত বড় প্রাকৃতিক বিপর্যয়েও পাকিস্থানী শাসকদের সহমর্মিতা ছিল শূন্যের কোঠায়। পঙ্গ পালের মত লক্ষ লক্ষ বাঙালী নিহত হল, কত মানুষ পঙ্গু হল, কত বাড়ীঘর বিধ্বস্ত হল কিন্তু তাদের কোন সহমর্মিতা ছিল না। তাদের নির্দয় আচরনে সারা বাংলাদেশে তাদের প্রতি  ভিতরে ভিতরে ক্ষোভের সঞ্চার হতে থাকে। কিন্তু হয়রানী ও অত্যাচারের ভয়ে বাঙ্গালীরা মন খুলে তা প্রকাশ করতে পারত না।

অন্তুর বাবা আব্দুর রহমান দোকানদারীর সুবাদে এখন মোটামুটি ধনী গেরস্ত বলা যায়, তাই এলাকায় শালিস বিচারে তার ডাক পরে, তাতে তিনি বেশ খুশী। এরকম শালিস বিচার করতে করতে একদিন এলাকার অত্যোৎসাহী কিছু লোক তার বাসায় গিয়ে তাকে ধরে বলল, এবার আপনাকে এলাকার মেম্বার পদে দাঁড়াতে হবে। প্রান্তুর বাবা উপরে উপরে না বললেও ভিতরে ভিতরে মেম্বার হয়ার ইচ্ছার একটুও কমতি ছিল না। তাই তাদের হাঁ না কিছু না বলে চিন্তা করে বলবে বলে  এক সাপ্তাহ সময় নিল জবাব দেয়ার জন্য।

  এক সাপ্তাহ পর আব্দুর রহমান ইতিবাচক জবাব দিল। এতে তার অনুশারীরা খুবই খুশী হল, এবং আব্দুর রহমানকে আশ্বাস দিল তাকে জিতিয়ে আনতে তদের যা কিছু করা দরকার তা তারা করবে।

তখন আয়ুব খানের মৌলিক গণতন্ত্রের যুগ, সাধারন জনগণ শুধু ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার নির্বাচন করতে পারত, আর মেম্বারদের মধ্য থেকে মেম্বাররাই ভোটের মাধ্যমে একজন মেম্বারকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করত।। আয়ুব খান এই পদ্ধতির নাম দিয়েছিল মৌলিক গনতন্ত্র। সেবার প্রান্তর বাবা মেম্বার পদপ্রার্থী হয়ে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হন। মেম্বার নির্বাচিত হওয়ার পর আসে চেয়ারম্যান নির্বাচনের পালা, প্রত্যেক ইউনিয়নে নির্বাচিত সদস্যদের মধ্যে সর্বাধিক যোগ্য একজনকে সংখ্যাগরিষ্ট সদস্যদের ভোটে চেয়ারম্যান নিযুক্ত করতে হবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল চেয়ারম্যান হতে যোগ্যতার কোন স্থান নাই, চলছিল টাকার খেলা।  তখন প্রত্যেক ইউনিয়নে অনেক 'পাকিস্তান মুসলিম লীগে'র নেতা টাকার সিন্ধুক নিয়ে বসেছিল এ সদস্যদের কিনে নিয়ে চেয়ারম্যান হতে, এ টাকার খেলায় স্বাভাবিক ভাবে যে টাকা বেশী দেবে তাকেই সদস্যরা সমর্থন করবে। আব্দুর রহমানের ইউনিয়নের এক মুসলিম লীগের ধনপতি ব্যবসায়ী সদস্য  নব নির্বাচিত মেম্বারদের প্রায় সকল সদস্যদেরকে মোটা অংকের ঘুষ দিয়ে তার পক্ষে সমর্থন কিনে নেয়। এই চালাক নেতা এতই হিসেবী ছিলেন যে, টাকা নিয়ে যাতে  তার সাথে কেউ বেইমানী করতে না পারে সে জন্য তার কাছে সমর্থন বিক্রি করা সকল সদস্যদের হাতে টাকা দিয়ে তিন দিনের জন্য একটি গোপন আস্তানায় আবদ্ধ করে রাখে। ঠিক নির্বাচনের দিন তাদের নির্বাচন স্থলে হাজির করে তার পক্ষে সমর্থন আদায় করে নেন এবং চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে তাদের ছাড়েন। 

   আব্দুর রহমানও চেয়ারম্যানের নিকট সপোর্ট বিক্রি করায় যে অর্থ উৎকোচ হিসাবে লাভ করেন তা তখনকার সময়ে নিতান্ত কম বলা যায়না। তার নিজের সম্পদ এবং এ উৎকোচের টাকা সব নিয়ে তিনি নিজেও একজন সম্পদশালী মানুষে পরিনত হলেন এবং পাকিস্তান মুসলিম লীগের তথা আয়ুব খানের একনিষ্ট সেবক বনে গেলেন।nmjhb

এর পর থেকে শৈন্য শৈন্য উন্নতি হতে থাকে আব্দুর রহমানের। আব্দুর রহমানরা সবাই পাকিস্থানের শাসক গোষ্টির পদলেহী হয়ে পূর্ব পাকিস্থানের সাবেক গভর্ণর মোনায়েম খানের সাগরেদ বনে গেলেন। মোনায়েম খান ছিলেন পাকিস্থানপ্রেমী বাঙ্গালী বিদ্বেষী বাঙ্গালীর কুলাঙ্গার সন্তান। যিনি বাঙালীর স্বার্থকে জলাঞ্জলী দিয়ে নিজের স্বার্থ আর পাকিস্তানের স্বার্থকে বড় করে দেখতেন। বাংলাকে পাকিস্তানী ভাবধারায় প্রতিষ্টিত করতে পাকিস্থানের তাবেদার করে রাখতে যে কয়জন বাংলার নষ্ট সন্তান কাজ  করেছিলেন নুরুল আমিন, বগুড়ার মহাম্দ আলী, চট্টগ্রামের ফকা চৌধুরী, সবুর খান, কক্সবাজারের ফরিদ আহম্মদ, পূর্ব পাকিস্থানের তৎকালীন গভর্নর মোনায়োম খান ছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম। বাঙালীর এ কুসন্তানরা পাকিস্থানের জন্য  জান কুরবানী দিতেও প্রস্তুত ছিলেন, আয়ুবের তাবেদার মোনায়েম খানের কথা মনে পড়লে প্রান্তুর এখনও হাসি পায়। সেবার আয়ুব খান চট্টগ্রামে সফরে আসছেন, সাথে মোনায়ম খানও। তার বাবা আব্দুর রহমানের ইউনিয়নেও তাদের পরিদর্শনে আসার কথা। তথাকথিত জনপ্রতিনিধি হওয়ায় প্রান্তর বাবা আব্দুর রহমানও বেশ তৎপর ছিল আয়ুব খানকে স্বাগত জানাতে, তার এলাকায় পাকিস্থানের ভাগ্য বিধাতারা পরিদর্শনে আসছেন তাকে অবশ্যই দেখাতে হবে এই স্থানীয় জন প্রতিনিধিরা কিভাবে পাকিস্থানের শৈন্য শৈন্য উন্নতি করে যাচ্ছেন। তিনি আয়ুব মোনায়েমকে তার ভূয়া উন্নয়ন দেখানোর জন্য তার এলাকায় সকল নারীকেল গাছে বিভিন্ন এলাকা থেকে নারিকেলের বাঁধা কেটে এমন ভাবে পেরেক মেরে সেঁটে দিয়েছিল যে যেন গাছ ভর্তি শুধু নারিকেল আর নারিকেল, পুকুরে বড় রড় রুই কাতলা এনে ছেড়ে দিয়ে তাকে দেখানো হয়েছে পুুকুর ভর্তি মাছ আর মাছ। খাল বিল ছেঁটে ছুঁটে পরিস্কার করে দেখানো হয়েছে এটা একটা আদর্শ গ্রাম। প্রান্তু তার বাবার এ প্রতারনামূলক কর্মকান্ড দেখে যারপর নাই দুঃখিত হয়েছিল। তার বাবার এ প্রতারনামূলক কর্মকান্ডে তাকে তার বন্ধুবান্ধবদেরও অনেক তিরস্কার সহ্য করতে হয়েছিল ।  আর  এভাবে তোষামোদি চক্র বেষ্টিত আয়ুব খান খুব খুশী হয়েছিল তাদের ভূয়া উন্নয়নের চিত্র দেখে। বাবার এরূপ অনৈতিক কর্মকান্ড প্রান্তরা ছোট থেকে দেখে আসছে। এসব কর্ম কান্ডে পটু হওয়াতে তার বাবার টাকা পয়সার কোন অভাব ছিলনা। 

      প্রান্ত আর তার বোন রোশনী প্রতিদিন স্কুলে গেলে স্কুল বসার আগে লাইনে দাঁড়িয়ে সবার সাথে জাতীয় সঙ্গীত গাইতে হয়। কিন্তু জাতীয় সঙ্গীতের মর্মার্থ বুঝতনা বলে তা গাইতে তাদের ভাল লাগতনা। অনেক চেষ্টা করেও তারা এ দুর্বোধ্য জাতীয় সঙ্গীতের  মর্মার্থ বার করতে পারেনি। সে জন্য মায়ের কাছে তারা অভিযোগ করত, "মা প্রতিদিন স্কুলের সামনে লাইনে দাঁড়িয়ে জাতীয় সঙ্গীত 'পাকছার জমিন সাত বাত' গাইতে হয়।  কিন্তু আমরা তার কোন মানে বুঝি না  কয়েকবার শিক্ষকদের কাছেও গিয়েছি এর অর্থ বুঝায়ে দিতে বলেছি কিন্তু তারাও দেবে দেবে করে দেয়নি, মনে হয় তারাও এর অর্থ বুঝে না।" প্রান্তরা ভাই বোন ভাবে এ দূর্বোধ্য জাতীয় সংগীত গেয়ে লাভ কি !

প্রান্তুর আর একটা কথা এখনো মনে আছে ফেব্রুয়ারি মাস, ভাষা আন্দোলনের মাস। কিন্তু তখন সরকারীভাবে একুশে ফেব্রুয়ারী পালন করা নিষিদ্ধ। এ নিষেধাজ্গা ভঙ্গ করে ২১শে ফেব্রুয়ারী পালন করবার জন্য স্থানীয় ছাত্র লীগ আর ছাত্র ইউনিয়নের ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতারা স্কুল বয়কট করে ২১শে ফেব্রুয়ারী ভাষা দিবস পালন করত। আর উৎসাহিত করত ছাত্র ছাত্রীদের।  তখন ভাষা দিবস পালন করা মানে নিষিদ্ধ গুন্ধম খাওয়া। যার ফল স্বরূপ প্রতিবার এভাবে ক্লাস না করে যে ছাত্ররা ২১শে ফেব্রুয়ারী পালনে নেতৃত্ব দিত সে সকল ছাত্রদেরকে স্কুল থেকে বহিস্কার করে দেয়া হত । এভাবে বহিস্কার হয়ে অনেক ছাত্রের ভ্যবিষ্যত নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। তারা আর জীবনে লেখা পড়া করতে পারেনি।

প্রান্তর তখন বুদ্ধি হয়েছে, চারিদিকে ছয়দফা এগার দফার দাবী নিয়ে শেখ মুজিব, মৌলানা ভাসানী রাজনৈতিক মাঠ উত্তপ্ত করে তুলছিল। মৌলানা ভাসানীও ছিলেন একজন মাটির মানুষ, নিতান্ত স্বাধারণ জীবন যাপন করতেন। স্বাধারন মানুষের অধিকার আদায়ে বাংলার মানুষ তাঁকে কোন দিনও ভূলতে পারবে না। তবে তার একটা দোষ ছিল তিনি কোন সময় এক কথায় স্তির থাকতে পারতেন না। একসময় এক কথা বলতেন।

যায় হউক ছয় দফা দাবী দেওয়ার পর থকে শেখ সাহেবকে পাকিস্থানী জান্তারা তাদের জন্য হুমকী মনে করতে লাগল, তাকে নিয়ে শুরু হল ষড়যন্ত্র। শেখ সাহেব নাকি পাকিস্থানকে দ্বিখন্ডিত করার জন্য ভারতের আগর তলায় গিয়ে পাকিস্থানকে আলাদা করার জন্য একটি ষড়যন্ত্র আঁটছেন। আর এ রাষ্ট্রদ্রোহিতার জন্য পাকিস্থান সরকার শেখ মুজিবকে প্রধান আসামী করে শেখ মুজিবসহ আরো পঁয়ত্রিশ জন বাঙ্গালী সামরিক বেসামরিক ব্যক্তি বর্গ এবং আমলাকে আসামী করে  আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করেন, এবং প্রধান আসামী শেখ সাহেব সহ বেশ কয়জনকে  গ্রেফতার করে কারাগারে বন্দী করেন। 

      এদিকে শেখ সাহেবকে গ্রফতার তার সাথে ছয় দফা এগর দফার আন্দোলন মিলে মিশে একাকার হয়ে এক বিস্ফোরোন্মোক পরিস্তিতির সৃষ্টি হয়েছিল। এ পরিস্তিতিতে চারিদিকে শেখ সাহেব সহ সকল রাজ বন্দীদের মুক্তির আন্দোলনে সারাদেশ যখন আন্দোলিত, তার উপর আগুনে ঘি ডালার মত ঘটল একটা ঘটনা, আগর তলা মামলার অন্যতম আসামী সার্জেট জহুরুল হককে কেন্টনমেন্টে বন্দী অবস্থায় গুলি করে হত্যা করা হল, তাতে আন্দোলন আরো চাঙ্গা হয়ে উঠল, তারপর দাও দাও আগুনের মত  চারিদিকে ছড়িয়ে পরল আগুন। শেখ মুজিবকে কারাগার থেকে মুক্ত করে আনা আন্দোলের প্রধান ইস্যু হয়ে দাঁড়াল। জনতার আন্দোলনের মুখে শেখ মুজিবকে মুক্তি দিতে বাধ্য হল সামরিক জান্তা আয়ুব খান। পরবর্তীতে এ আন্দোলনের হাত ধরে শুরু হয় ঊণসত্তুরের গণ আন্দোলন তথা গণ অভ্যূথ্যান এবং আয়ুব খানের পতন। (সহায়ক সূত্র- স্বাধীনতা আন্দোলনে গন অভ্যূত্থান এবং সত্তরের নির্বাচনের গুরুত্ব, মোহাম্মদ সামশুল হক) (ফিরে দেখা উণসত্তোরের গণ অভ্যূত্থান, আব্দুল মান্নান)

          আয়ুবখান গন আন্দোলন সামাল দিতে না পেরে বাধ্য হয়ে ইয়াহিয়া খানকে ক্ষমতা দিয়ে হাঁফ ছেড়ে বাঁচেন। ইয়াহিয়া খান ক্ষমতা গ্রহন করে গণ আন্দোলন প্রশমিত করার জন্য সার্বজনীন ভোটাধিকারের ভিত্তিতে সারা পাকিস্থানে অল্প সময়ে নির্বাচন দিয়ে নির্বাচিত প্রতিনিধির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করার প্রতিশ্রুতি দেন। ইয়াহিয়া ক্ষমতা গ্রহন করে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছিল তখন হঠাৎ সারা পূর্র পাকিস্থানের উপর দিয়ে বয়ে যায় এক প্রলয়ঙ্করী ঘুর্নীঝড়, প্রায় দশ লক্ষ অসহায় নারী পুরুষ এ ঘুর্নীঝড়ে প্রাণ হারান। মানুষের পঁচা লাশ আর মরা জীব জন্তুর পঁচা গন্ধে বাংলার আকাশ বাতাস ভারী হয়ে উঠে। এই পুঁতিগন্ধময় দূর্বিসহ অবস্থায় সারা দেশ জুড়ে শুরু হয় মানুষের আহাজারী। খাদ্যের অভাব, পানীয় জলের অভাব, বাসস্থানের অভাব সব কিছু মিলে মহামারী দেখা দিল। প্রান্তদেরও বাড়ীঘর সহায় সম্পত্তির অনেক ক্ষতি হয়। এ পরিস্তিতিতে শেখ মুজিব তার কর্মি বাহিনী নিয়ে উপদ্রুত এলাকায় ছুটে গেলেন। সব দল উপদ্রুত এলাকায় ত্রান তৎপরতা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। তৎকালীন আওয়ামী লীগ, কমিউিনষ্ট পার্টি, ন্যাপ সহ নানা সংগঠন এবং  মৌলানা ভাষানী সহ সকল দেশ দরদী নেতারা আর্ত মানবতার সেবায় ঝাঁপিয়ে পড়েন। প্রান্তও তার বন্ধু বান্ধব মিলে তাদের এলাকায় তাদের সীমিত সামর্থ নিয়ে যতটুকু পেরেছে সহযোগিতা করছে।

এ দুর্যোগের সময় পাকিস্থানের প্রেসিডেন্ট  চীন সফরে ছিলেন,  সফর শেষ করে ফেরার পথে ঢাকায়  কিছুক্ষণ অবস্থান করে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্থানের গভর্ণর এস এম আহছানকে কিছু নির্দেশ দিয়ে পশ্চিম পাকিস্থানে চলে যান। তার এ অমানবিক আচরনে মানুষ খুবই ক্ষুদ্ধ হল। এছাড়াও রাজনেৈতিক নেতারা সরকারের বিরুদ্ধে আরও একটি অভিযোগ তুলল তাহল পূর্ব পাকিস্থান আবহাওয়া অধিদপ্তরের উপর। তৎকালীন আবহাওয়া অধিদপ্তরের পাকিস্থানী মহাপরিচালক  সময় মত আবহাওয়া বার্তা রেডিও টিভিতে সম্প্রচার করতে পাঠায়নি। এ অবহেলা এবং খামখেয়ালীর কারনে লক্ষ লক্ষ মানুষ ঘুর্নীঝড়ের কবলে পড়ে প্রাণ হারান। কেননা  তারা কোন পূর্ব প্রস্তুতি গ্রহনের সুযোগ পায়নি। এ সব কর্মকান্ডে পাকিস্থানীদের প্রতি বাংলার মানুষের অসন্তোষ্টি আরো দ্বিগুন বেড়ে গেল।

 অনেক মৃত্যু, অনেক ক্ষয়ক্ষতি সামাল দিয়ে  মানুষ ধীরে ধীরে একটু একটু করে উঠে দাঁড়াল। ভাসানী সহ অনেক দল নির্বাচন পিঁছিয়ে দিতে বললেও আওয়ামীলীগ নির্বাচন পক্ষে কঠোর অবস্থান নেন। কারন নির্বাচনের এ সুযোগ একবার হাতছাড়া হলে তা আবার ফিরে পেতে বাঙালীর যুগ যুগ চলে যাবে। যাই হউক  ইয়াহিয়া খান তার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী উপদ্রুত এলাকা বাদ দিয়ে  সারা দেশে নির্বাচন দিলেন।

প্রান্তুর আজো মনে পড়ে সে নির্বাচনের কথা। সে কি উত্তেজনা ! নৌকা প্রতীকের সাথে মুসলিমলীগ, জামায়াত সহ বিভিন্ন দলের কি উত্তেজনাকর প্রতিদ্বদ্বিতা।  তখন প্রান্তু সবে মাত্র মেট্রিক পাশ করে আই এ ক্লাসে ভর্তি হয়েছে। আর তার বোন রুশনী নবম শ্রেনীর ছাত্রী। সারা দেশময় যে বাঙালী জাতীয়তাবাদী চেতনার যে এক জোয়ার বয়ে যাচ্ছিল তারা ভাই বোন সহ সারা দেশের নতুন প্রজন্ম এ চেতনার জোয়ারে সয়লাব হয়ে গিয়েছিল। প্রান্ত ও রুশনী তার বাবা আব্দুর রহমানের মুসলিম লীগ প্রীতির জন্য তাদের এ অনুভূতি বাহ্যিকভাবে প্রকাশ করতে না পরলেও তবুও এ চেতনার প্রতি তাদের সহানুভূতি ও সহযোগিতার কমতি ছিলনা।

     প্রান্তুর আজো মনে পড়ে, সত্তরের নির্বাচনের ডামাডোল চারিদিকে, তাদের বাড়ীর পাশে ছিল সমুদ্র সৈকত। এ সমুদ্র সৈকতে  প্রতিদিন কত লোক জন আসত বেড়াতে, শেখ সাহেব তখন চট্টগ্রামে নির্বাচনী প্রচারনা চালাচ্ছিলেন।  একদিন রাত নয়টায় প্রান্ত শুনতে পেল কিছুক্ষন আগে নির্বাচনী প্রচারনা চালিয়ে একটু বিশ্রাম নিতে  তাদের পাশের সমুদ্র সৈকতে এসেছেন শেখ সাহেব। তার সাথে আছে চট্টগ্রামের কয়েক জন বিশিষ্ট আওয়ামীলীগ নেতা। প্রান্তু চিন্তা করলএ সুযোগ হাতছাড়া করা যায়না, সে তাড়াতাড়ি শেখ সাহেবকে দেখতে যাবার জন্য মনস্তির করল। এসময় তার ছোট বোন রুশনীও আবদার করল সেও নেতাকে দেখতে যাবে।  একি আগ্রহ ভাই বোনের! তারা শেখ মুজিবকে চাক্ষুস দেখার জন্য বাড়ীর পেঁছনে সমুদ্র পাড়ের সৈকতে গেল। সত্যি সত্যি শেখ মুজিব এসেছেন। সারাদিন নির্বাচনী প্রচরনা চালানোর পর ক্লান্ত শ্রান্ত দেহে চট্টগ্রামের নেতৃবৃন্দ সহ এখানে এসেছেন  একটু বিশ্রামের জন্য। আবছা জ্যোস্নার আলো, কয়েকজন নেতা বেষ্টিত কাল কোট পরিহিত দীর্ঘাকায় নেতা। ভাঙ্গাচোরা চায়ের দোকানের সামনে চেয়ারে বসে চায়ে চুমুক দিতে দিতে কথা বলছিল সবার সাথে। ক্লান্ত শ্রান্ত অবসন্ন দেহেও বেশ হস্যোজ্জল এবং দৃড়চেতা মনে হচ্ছিল এ কিংবদন্তী নেতাকে। নেতাকে এই প্রথম চাক্ষুস দেখলেন প্রান্তু এবং তার বোন। দেখে  তার প্রতি শ্রদ্ধায় মাথা অবনত হয়ে আসল ভাই বোন দুজনের । তারা দূর থেকে হাত তুলে সালাম দিলেন তাঁকে । তিনি মাথা নেড়ে সালাম নিলেন। তখনো শেখ সাহেবের আসার খবর বেশী মানুষের কানে পৌঁছায়নি। তাই বেশী জনসমাগম হয়নি, সে সুযোগে তারা নেতাকে কাছ থেকে ভাল করে দেখে নিল।  আর তারা মনে মনে ভাবতে থাকে এ মানুষটির কি অসাধারণ যাদুকরি সম্মোহনী  শক্তি। যিনি স্বাধীকার আদায়ের জন্য বাঙ্গালীর মাঝে নব চেতনার এক জোয়ার সৃষ্টি করেছেন। যা দিয়ে ঘুমন্ত বাঙালীকে তিনি জাগিয়ে তুলেছেন মুক্তির নেশায় । এসব চিন্তা করতে করতে যখন জন সমাগম বাড়তে থাকে তখন ভাই বোন বাড়ীর দিকে রওনা দিল।  এদিকে এভয়ও মনের ভিতর পাক খাচ্চে যে, শেখ মুজিবকে দেখতে গেছে শুনলে তার বাবা আবার কি কান্ডই না বাঁধিয়ে বসে মায়ের সাথে। 

           বাড়ীতে এসে আমিনুর রহমান ছেলে মেয়েকে না দেখে খোঁজা খুঁজি করছিল। কারন তিনি কার কাছে জানি শুনেছে তাদের বাড়ীর পাশের বীচে (সৈকতে) শেখ সাহেব বেড়াতে এসেছেন, অনেক মানুষ তাকে দেখতে যাচ্ছে । তিনি ভাবছিলেন তার ছেলে মেয়ে যেভাবে তার জন্য পাগল নিশ্চয় তারা তাকে দেখতে গেছে। স্ত্রীর কাছে ছেলে মেয়ে কোথায় জানতে চাইলে, স্ত্রী ছেলে মেয়েকে রক্ষার জন্য বললেন "ওরা দুজন পাশে খালার বাড়ী গেছে।" তবুও তিনি বিশ্বাস করছিলেননা। পরে ওরা আসলে উকিলের মত জেরা করে আশ্বস্থ হলেন। আর এভাবে ছেলে মেয়েকে প্রান্তর মা তাদের বাবার রোষানল থেকে বাঁচালেন।

 

০১২ উৎসব মুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসছিল, শেখ সাহেব মানুষের সামনে তুলে ধরতে লাগলেন পাকিস্তানের দু অঞ্চলের বৈষম্যের চিত্র, শোষনের চিত্র। তখন আওয়ামীলীগ একটি পোষ্টার "সোনার বাংলা শ্বশান কেন?" ছাপিয়ে সারা দেশে প্রচার করেন। বাংলাদেশ আর পাকিস্থানের মধ্যে দুস্তর বৈষম্য চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছিল এ পোষ্টার।  এ পোষ্টার দেখে সারা দেশের মানুষ বুঝতে পারল পাকিস্থানের শোষনের কথা। তাছাড়া আওয়ামী লীগের  বিশাল বিশাল জন সভায় জনগন উপস্তিত হয়ে এসব বৈষম্যের কথা শুনতে লাগল। প্রান্তুও সময় সুযোগ পেলে তার বাবার অগোচরে শেখ সাহেবের জন সভায়, স্থানীয় আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগের মিটিংএ উপস্তিত হতে ভূল করেনা।

একদিন প্রান্তরা তিনজন বন্ধু স্তির করল তাদের এলাকার তিন রাস্তার মাথায় যেখানে জনসমাগম বেশী সেখানে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রতীক একটা বিশাল নৌকা বানিয়ে টাঁঙ্গীয়ে দেবে।  যেই ভাবা সেই কাজ, প্রায় দু তিন দিন পরিশ্রম করে তারা  একটি বিশাল কাপড়ের নৌকা বানিয়ে তিন রাস্তার মাথায় তোরনের মত করে টাঙ্গিয়ে দিল।

টাঙ্গানোর পর  প্রােন্তুর বাবার কানে গিয়ে কে এ খবরটা দিল যে, এ কাজটা তার ছেলে প্রান্তু ও তার বন্ধুরা করেছে, প্রান্তুর বাবা এ খবর শোনে রেগে মেগে আগুন। প্রান্তু যখন বাসায় আসে তিনি রেগে বললেন, "আমি একজন মুসলিম লীগার, তোমরা মুসলীম লীগের নুন নিমক খেয়ে মানুষ, আমার ছেলে হয়ে কিভাবে আমাদের আজীবনের শত্রু আওয়ামী লীগের হয়ে নৌকা প্রতীক টাঁঙাতে গেলে?  ছি ! ধিক তোমাকে।" এভাবে শুধু অন্তুদের ঘরে নয় সারা বাংলাদেশে সনাতনী মধ্যযুগীয় ঔপনিবেশিক ধ্যান ধারনার প্রবীন মুসলীম লীগার ও ইসলামের নামধারী চরমপন্তী সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠির সাথে আধুনিক ধ্যান ধারনার  অসাম্প্রদায়িক চেতনার ভাবাদর্শে গড়ে উঠা আওয়ামীলীগ, কমিনিষ্ট পার্টি সহ প্রগতিশীল চেতনার দলগুলোর মধ্যে  এক প্রকার আদর্শিক  ও মানসিক দ্বন্দ্ব  বিরাজমান ছিল। এ দ্বন্দ্বের জের কখনো সাময়িক স্তিমিত কখনো প্রবলধারায় বয়ে গেছে। এই দ্বন্দ্ব বিদ্বেষের মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলছে নির্বাচনী কার্যক্রম এবং স্বাধীকার আন্দোলন। যেখানে আওয়ামীলীগ ও প্রগতিশীল দলগুলো পাকিস্থানের শোষণ নিপীড়ন ও বৈষম্য নিয়ে জনগণের দরজায় ভোটের জন্য যাচ্ছিল সেখানে পাকিস্থান পন্তী সাম্প্রদায়িক দলগুলো ভয় দেখাচ্ছিল, যদি আওয়ামীলীগকে ভোট দেওয়া হয় তাহলে দেশ হিন্দুস্থানের করতলগত হয়ে যাবে। এখানে ইসলাম থাবেনা,  মসজিদে আযানের বদলে উলোধ্বনী হবে। চট্টগ্রামের ফকা চৌধূরী স্লোগান তুলে "জয় বাংলা জয় হিন্দ, লুঙ্গী ছাড়ি ধূতি ফিন।" এভাবে একদিকে ভারত জুজুর ভয়, সাম্প্রদায়িক প্রচারনা অন্যদিকে প্রগতিশীল অসাম্প্রদায়িক চেতনার মধ্য দিয়ে নির্বাচনী মাঠ তুমুলভাবে জমে উঠে। তারপর তুমুল উৎসাহ উদ্দীপনা এবং উত্তেজনার মধ্যেও অনেক শান্তিপূর্ণভাবে সারা পাকিস্থানে নির্বাচন শেষ হলো। পশ্চিম পাকিস্থানে পাকিস্থানের অন্যতম দল ভূট্টোর পি পি পি পশ্চিম পাকিস্তানের নিরঙ্কুস সংখ্যগরিষ্টতা না পেলেও তার নিজের এলাকা পাঞ্জাব ও সিন্ধু প্রদেশে পশ্চিম পাকিস্থানের জন্য নির্ধারিত ৩০০ আসনের মধ্যে ১৪৪টি লাভ করেন। এদিকে পূর্ব পাকিস্থানের জন্য নির্ধারিত ৩০০ আসনের মধ্যে শেখ সাহেবের আওয়ামীলীগ ২৮৮টি আসন পেয়ে নিরঙ্কুস সংখ্যাগরিষ্টতা লাভ করে। (পাকিস্থানের সাধারণ নির্বাচন,১৯৭০/ উইকিপিডিয়া) পূর্ব পাকিস্থানে আওয়ালীগের তরুন নেতৃত্বের সাথে পাকিস্থান পন্তী অনেক প্রবীন বাঘা বাঘা নেতা, কনভেনসন মুসলীম লীগ নেতা ফকা চৌধূরী, নেজামে ইসলামী নেতা কক্সবাজারেরর ফরিদ আহমদ, কাউন্সিল মুসলীম লীগ নেতা খাজা খায়ের উদ্দীন সহ অনেক বড় বড় নেতা ধরাশায়ী হয়ে যায়।  আওয়ামীলীগের অপ্রত্যাশিত ফলাফলে তারা হতভাগ হয়ে যান। এসকল পাকিস্থান প্রেমী নেতারা নিজেদের বিজয়ের ব্যপারে এতই আত্ম বিশ্বাসী ছিলেন যে, ফরিদপুরের কাইয়ুম পন্তী মুসলীম লীগ নেতা ওয়াহিদুজ্জামান ঠান্ডা মিয়া আর রংপুরের কাজী কাদের চ্যলেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেছিলেন যদি আওয়ামী লীগ এবং শেখ মুজিব এ নির্বাচনে (সত্তরের) জিততে পারে তাহলে তারা হাতের কজ্বী থেকে কনুই পর্যন্ত চুড়ী পড়ে বেড়াবেন আর রাজনীতি ছেড়ে দেবেন।

কিন্তু নির্বাচনে তাদের দলের ভরাডুবি ঘটে এবং প্রায় সবার জমানত বাজেযাপ্ত হয়ে যায়। কিন্তু নির্বচনের পর এ নেতারা তাদের কথা রাখেননি। তারা কথামত চুড়ী পরেনি। তবে রসিক জনেরা পরার জন্য তাদের নিকট বেলোয়াড়ী চুড়ী পাটিয়ে দিয়েছিল। প্রান্তুর এখনো মনে আছে সে সময় এব্যপার নিয়ে রাজনৈতিক অঙগনে বেশ হাসি ঠাট্টার উদ্রেক হয়েছিল। 

123

সত্তরের নির্বাচনের পর দৃশ্যপট সম্পূর্ণ পাল্টে গেল। মুসলিম লীগের নেতা পাতি নেতারা অনেকটা হতাশ হয়ে গেলেন। প্রান্তর বাবাও অনেক কষ্ট পেলেন তাদের দল জিততে পারনি বলে।

প্রান্তর কৈশোর মনকে এ রাজনৈতিক ডামাডোলের উত্থান পতন ভিষনভাবে নাড়া দিতে থাকে। এ সকল রাজনৈতিক  বিষয় নিয়ে সে প্রায়ই ভাবতে থাকে। প্রান্তুর মত রাজনীতি সচেতন তার এক খালাত ভাই ছিল, সে তার  থেকে বয়সে কিছুটা বড়, নাম হোসেন আহমদ,  প্রান্তু এসব রাজনীতির জঠিল বিষয় নিয়ে তার সাথে সবসময়  আলোচনা করে। তিনি অন্তুকে তিনি আগে থেকে বলে দিয়েছিলেন, দেখবি আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্টতা পেলেও পাকিস্থানীরা আওয়ামী লীগকে কখনো ক্ষমতায় বসতে দেবে না। আওয়ামীলীগকে ক্ষমতা না দেওয়ার পায়তারা এবং ষড়যন্ত্র এখন থেকে শুরু হয়ে গেছে।

পরে দেখা গেল হোসেন ভায়ের কথাই সত্যি বলে পরিগনিত হল। নির্বাচনের পর জানুয়ারী মাসে ইয়াহিয়া খান যখন ঢাকায় এসে শেখ মুজিবের সাথে বৈঠক করলেন তিনি তাঁকে পাকিস্থানের ভাবি প্রধান মন্ত্রী হিসাবে আখ্যায়িত করলেন।  ১৫ই ফেব্রুয়ারী তিনি ঢাকা থেকে ফিরে লারকানায় গিয়ে ভূট্টোর সাথে বৈঠকে বসেন। এরপর  তিনি বার বার জাতীয় সংসদের অধিবেশন ডেকেও অধিবেশন বসাতে ব্যর্থতার পরিচয় দেন। মার্চের তিন তারিখ অধিবেশন ডেকেও পরে তিনি তা স্থগিত করলেন । কারন ভূট্টো তাকে বুঝান যে শেখ মুজিবকে যদি ক্ষমতা হস্তান্তর করা হয় তাহলে তিনি পাকিস্থানের সেনা বাহিনীর ক্ষমতা খর্ব করবেন। তাছাড়া আওয়ামী লীগ যে ছয় দফা এবং এগার দফার কথা বলছে তা পশ্চিম পাকিস্থানের জনগন মেনে নেবেনা।

এদিকে সংসদ অধিবেশন স্থগিত করায় ঢাকা সহ সারাদেশের মানুষ রোষে ফোঁসে উঠল। ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী খুলনার শিল্পাঞ্চলে  বাঙালী বিহারী দাঙ্গা বেঁধে যায়। বাঙালী জাীয়তাবাদী চেতনা গোটা জাতির মধ্যে   বলিষ্ট থেকে বলিষ্টতর হয়ে উঠল। শেখ মুজিবের জনপ্রিয়তা তখন আকাশ চুম্বি। সারা দেশের আনাচে কানাছে, আকাশে বাতাশে, কৃষক শ্রমিক, মাঝি মাল্লা, মুটে কুলি, ঘরের গৃহীনি সহ সর্ব স্তরের জনগনের মুখে মুখে একটি নাম সেটি হল শেখ মুজিব। সারা জাতি চেয়ে আছে সেই মহান নেতার দিকে, তিনি কি দিক নির্দেশনা দেন জাতিকে। সে এক অবিশাস্য জনপ্রিয়তা। শেখ মুজিবের নেতৃত্বে সেকী গনবিস্ফোরন, সেকি গনজাগরন তা না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন। দেশের শহরে নগরে, গ্রামে গঞ্জে, সবখানে মুজিব এক জাতীয় চেতনা এবং বাঙালীর সশস্ত্র গণ বিস্ফোরনের উপাদনে পরিনত হয়ে গেল। এ প্রতীকের নির্দেশে বাঙালী জাতি প্রথম কোন সশস্ত্র শক্তিকে মোকাবেলার মানসিকতা অর্জন করল। একটি কন্ঠই যখন গোটা জাতিকে সশস্ত্র রূপে সজ্জিত হবার সাহস যুগায় সে জাতিকে পরাভূত করার কোন শক্তি কারো থাকেনা। তারপর ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ  রেস কোর্স মাঠে এক ভাষনে উৎগ্রীব জনতার উদ্দেশ্যে তার বজ্র কন্ঠে বললেন, 'এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম'-'তোমাদের যার যাকিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়, -ঘরে ঘরে দূর্গ গড়ে তোল'। উপরোক্ত ঘোষনার মধ্য দিয়ে বস্তুতপক্ষে স্বাধীনতা যুদ্ধের ঘোষনা হয়ে গেছে। সমস্ত বাঙালী তার কথা মত পাকিস্থানী সামরিক শাসককে অগ্রাহ্য করে তার কথা মত অসহযোগ আন্দোলন চালিয়ে যেতে লাগল।

 

আর এদিকে সামরিক শাসক ইয়াহিয়া এবং ভুট্টো মিলে শুরু করল ষড়যন্ত্র, বাঙ্গালীর স্বাধীকারকে কিভাবে চিরতরে নষ্যাত করে দেওয়া যায়। তার জন্য ভিতরে ভিতরে চলে সামরিক প্রস্তুতি। 

ইয়াহিয়ার আদেশে সাহেব জাদা ইয়াকুব আলীকে দিয়ে গোপনে পরিকল্পনা করা হয় অপারেসান চার্চ লাইটের। ২২ শে জানুয়ারী গভর্ণর সম্মেলনে এ ওপারেশনের চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এর পর থেকে পূর্ব পাকিস্থানে হত্যা কান্ড চালানোর যাবতীয় প্রস্তুতি শরু হয়ে যায়।  পূর্ব পাকিস্থানে পাঠানো হতে থাকে অস্ত্র শস্ত্র ও সেনা বাহিনী। আবার অন্যদিকে সমঝোতার নাম করে ঢাকায় চালানো হয় ইয়াহিয়া মুজিব বৈঠক। যেই পূর্ব পাকিস্তানে ওদের যাবতীয় সামরিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়ে যায়। সাথে সাথে পঁচিশে মার্চ রাতে ঢাকা সহ সকল সামরিক বেসামরিক স্থাপনায় আক্রমন চালিয়ে সারাদেশকে মৃত্যু পুরীতে পরিনত করা হয়। সে রাতেই শেখ মুজিবকে তাঁর বাসভবন থেকে গ্রেফতার করে নিয়ে যাওয়া হয় পাকিস্থানে। প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া ঘোষনা করলেন, "আমার বাংলার মানুষের দরকার নাই, আমি চাই বাংলার মাটি।"

এদিকে মুজিব গ্রেফতার হওয়ার আগে পিলখানায় ই পি আর কেম্পে এক গোপন বার্তা পাঠিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষনা করে যান, সেখানে তিনি ঘোষনা করেন, " আজ থেকে গন প্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ একটি  স্বাধীন রাষ্ট্র। তিনি আহ্বান জানান পুলিশ, ই পি আর, সশস্ত্র বাহিনী সহ সকল ছাত্র জনতাকে মুক্তি অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত সশস্ত্র সংগ্রাম চালিয়ে যেতে। " এই বার্তা চট্টগ্রামে ইপি আর সদর দফতর এবং ফৌজদার হাটে অবস্তিত তৎকালীন ছলিম পুর টি এন্ড টি ওয়্যারলেস ষ্টেশান গ্রহন করে। পরে তা চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা জহুর আহমদ চৌধূরীর কাছে পৌছানো হয়। সেখান থেকে সাইক্লোষ্টাইল করে রাতে  সারা শহরে বিলি করা হয় ।(সহায়ক সূত্র-৫মার্চ ওপারেশান সার্চ লাইট, পাক বাহিনীর গণহত্যা, বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষনা, নূরুজ্জামান মানিক) (অপারেশান সার্চ লাইট উইকিপিডিয়া)০১৩


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

২৬ তম পর্ব ২০০৬ সালে বি এন পি'র তত্ত্বাবধায়ক সরকার নাটক:

 . ২০০৬ সালে বি এন পি'র তত্ত্বাবধায়ক সরকার নাটক:-২০০৬ সলের জোট সরকার মেয়াদ শেষ হলে ক্ষমতা ছাড়ার সময় অাবার দেখা দেয় দুই প্রধান দল তথা জোট...