পাকিস্থান থেকে বাংলাদেশ
চোখে দেখা রাজনীতি
19/12/17
আমার পরিচিিত
আমি মোহাম্মদ জসীম উদ্দীন। ১৯৫৪ সালে ২১জানুয়ারী ফৌজদার হাটের ঐতিহ্যবাহী পীর বাড়ীতে জন্ম গ্রহন করি। আমার পিতার নাম সূলতান আহাং, এবং মাতার নাম নূর জাহান বেগম। আমার বাবা তৎকালীন বার্মায় বৃটিস ইন্ডিয়া নেভিগেসন কোম্পানীতে চাকুরী করতেন। আমার মা একজন গৃহিনী ছিলেন। আমার মামা বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী শিল্পপতি, মরহুম আবুল হাশেম বি এস সি ফৌজদারহাট কে এম হাই স্কুলের অন্যতম প্রতিষ্টাতা। চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স প্রতিষ্টায়ও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।
আমার শিক্ষাজীবনের শুরু ফৌজদার হাট প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে। তারপর ১৯৭২ সালে ফৌজদার হাট কে এম হাই স্কুল থেকে এস এস সি পাশ করি। ১৯৭৫ সালে চট্টগ্রাম সরকারী সিটি কলেজ থেকে এইচ এস সি পাশ করে একিই কলেজ থেকে ১৯৭৮ সালে স্নাতক ডিগ্রী , ১৯৮২ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্র বিজ্ঞানের উপর স্নাতকোত্তর ডিগ্রী লাভ করি।
বিভিন্ন সময় ব্যবসা বানিজ্য, চাকুরী বাকুরী সহ বিভিন্ন পেশাগত কাজে ব্যস্থ থাকলেও মাঝে কিছু সময় বের করে নিয়ে একান্তে সাহিত্য, সমাজ এবং রাজনীতির উপর লেখালিখি করার চষ্টা করেছি। যে অভ্যাস আমার পাঠ্য জীবন থেকে আজ অবধি চলে আসছে। ছাত্র জীবনে আমার কিছু লেখা বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত হলেও পরবর্তীতিতে তা আর কোন পত্রিকায় প্রকাশের ঝামেলায় যায়নি। কিন্তু রাজনীতি নিয়ে এই লেখা জীবনের শেষ বয়সে এসে আমাদের দেশে ঘটে যাওয়া রাজনীতির কিছু ধামাচাপা সত্যকে উন্মোচন করার প্রয়োজন অনুভব করি। কেননা এ সত্যগুলা আমাদের বিভ্রান্ত নতুন প্রজন্মের জানা একান্ত দরকার। সে জন্য এই বইটি লেখা।
আমি জসীম উদ্দীন এক সময় রাজনীতির সাথে জড়িত থাকলেও এখন আর কোন রাজনৈতিক সংগঠনের সাথে সক্রিয়ভাবে জড়িত নই তবে এদেশ আমার প্রিয় জন্ম ভূমি। এ দেশের আলো হাওয়ায় এবং কাদা জল মেখে আমার বেড়ে উঠা। তাই এদেশ নিয়ে আমি ভাবি, এদেশের উন্নতিতে আনন্দিত হই। আবার কোন খারাপ সংবাদ শুনলে দুঃখ পাই।
আমার জ্ঞান বুদ্ধি হবার পর থেকে এক সময়ের পূর্ব বাংলা অর্থাৎ সাবেক পূর্ব পাকিস্থান, যা আজকে স্বাধীন বাংলাদেশ। তার সমাজ, অর্থনীতি, রাজনীতি সব কিছুর উত্থান দেখেছি পতন দেখেছি। দেখেছি বঙ্গবন্ধু ও মওলানা ভাষানীর আন্দোলন সংগ্রাম। সরওয়ার্দী শেরে বাংলার রাজনীতির সময় তখন আমি ছিলাম শিশু, তাই তখন এসব বুঝার মত বয়স হয়নি। পাকিস্থান আমলের শেষের দিকে অর্থাৎ ষাটের দশকের মাঝামাঝি থেকে যে আন্দোলন সংগ্রাম এবং পরবর্তীতে মুক্তিযুদ্ধসহ যা ঘটেছে তা নিজ চোখে দেখেছি, এনিয়ে নিজে যা ভেবেছি, আম জনতাকে যা ভাবতে দেখেছি প্রান্ত নামের একজন মুক্তিযুদ্ধার বাস্তব চরিত্র এঁকে তা তার মাধ্যমে এই লেখায় প্রকাশ করার চেষ্টা করেছি। এ বলার বা প্রকাশ করার চেষ্টাতে কতটুকু সফল হয়েছি তা পাঠকরাই বিচার করবেন। তবে ষাটের দশকের মাঝামাঝি থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত রাজনীতির ঘটে যাওয়া প্রায় পঞ্চাশ বছরের আন্দোলন সংগ্রাম সহ নানা ঘটনাবলী ধারাবাহিকভাবে এখানে আলোচিত হয়েছে। অজান্তে কোন কিছু না আসলে তার জন্য দুঃখিত। এ আলোচনায় যা বাস্তবে ঘটেছে, যা চোখে দেখেছি এবং তথ্য প্রমানে যা সত্য বলে জেনেছি তা গাল্পিক অবয়বে পাঠকের নিকট উপস্থাপনের চেষ্টা করেছি। রাজনৈতিক ডামাডোলের বাস্তব কোন ঘটনা নিয়ে আমি কল্পনার আশ্রয় নিইনি তা নির্দ্বীধায় বলতে পারি। প্রতিটি ঘটনা কোন তথ্য থেকে সংগৃহীত তা পাশে উল্লেখ করে দিয়েছি। কোন জায়গায় কারো লেখা বা মন্তব্য যদি সে বিষয়ের সাথে খুবই প্রাসঙ্গিক ও তথ্য নির্ভর মনে হয়েছে তা সরাসরি তুলে ধরেছি। সেখানে এ বিষয়ে সব কৃতিত্ব উক্ত লেখকদের। আমি আমার লেখায় পত্র পত্রিকা, বই পুস্তক, অন লাইন কাগজ, ব্লগের লেখা, টিভি চেনেল, রেডিও সহ বিভিন্ন মাধ্যমের সহযোগিতা নিয়েছি। আর এসব পেতে আমি সবচেয়ে বেশী সহযোগিতা নিয়েছি গুগলের।
এ লেখায় একটি বিষয় লক্ষ্য করবেন উল্লেখিত প্রান্ত চরিত্রটি গড়ে তোলা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত সব হারানো একজন শিক্ষিত সৎ রাজনীতি সচেতন আবার প্রত্যক্ষ রাজনীতি থেকে দূরে থাকা মানুষ হিসাবে। এই প্রান্ত নামের মানুষটি তার কিশোর বেলা থেকে সময়ের ঘাত প্রতিঘাতে বাংলার রাজনৈতিক রঙ্গ মঞ্চে ঘটে যাওয়া নানা ঘটনাবলী দেখে বড় হয়েছেন। ঘটে যাওয়া ঘটনাবলী নিজে আলোচনা বিশ্লেষন করেছেন। বিশ্লেষনে তিনি দেখিয়েছেন ঘটে যাওয়া এসব ঘটনাবলীতে তখনকার সাধারন মানুষের মাঝে কি প্রভাব ফেলেছিল এবং কি প্রতিক্রিয়া হয়েছিল।
সঠিক ইতিহাস বলতে গিয়ে কেন আমি উপন্যাসের মত চরিত্রের সন্নিবেশ ঘটিয়েছি এখানে একটি উদাহরন দিয়ে বললে বিষয়টা পরিস্কার হবে, ডালপালা মেলা একটি মৃত বৃক্ষে সবুজ লতা জড়ালে যেমন বৃক্ষটি মনে হয় জীবিত। তেমনি একটি ডালপালা মেলা মৃত ইতিহাসকে আগাগোড়া জীবন্ত চরিত্র দিয়ে জড়িয়ে দিয়ে ইতিহাসকে জীবন্ত করে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি যাতে নতুন প্রজন্ম শুধু ঘটে যাওয়া ইতিহাস জানাবেনা, তার সাথে জানবে ঘটনার ভিতরের ঘটনা তার সাথে তখনকার বিরাজমান সমাজ ও রাজনৈতিক প্রেক্ষিত।
এ লেখায় বাংলাদেশের রাজনীতির প্রধান প্রধান বিতর্কিত রাজনৈতিক চরিত্র গুলার আসল রূপ তথ্য প্রমানের মাধ্যমে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। তবুও এ লেখার কোথাও তথ্য প্রমানে কোন ভ্রান্তি কারো নজরে পড়লে তা প্রমান সাপেক্ষে পরবর্তী সংস্করনে সংশোধন করা হবে। এ লেখায় কারো হেয় করা আমার উদ্দেশ্য নয়, চরিত্রকে যথাযথভাবে তুলে ধরা আমার উদ্দেশ্য।
পরিশেষে বলি প্রায় ছয়মাস প্রতিদিন পাঁচ ছয় ঘন্টা পরিশ্রম করে অন লাইনে ঢুকে অনেক বই পুস্তক, অনেক অনেক তথ্য নির্ভর প্রবন্ধ, প্রতিবেদন, গবেষানামূলক লেখা ঘেঁটে এ ইতিহাস আশ্রিত ভিন্ন ধর্মী বইটি লিখেছি। নতুন প্রজন্ম এই বইটি পড়লে অনেক অজানা তথ্য জানতে পারবেন। তাই আশা করব বইটি তারা পড়ে দেখবেন। বইটি পড়ে কারো সামান্যতমও উপকার হয় তবে মনে করব আমার শ্রম সার্থক হয়েছে।
উপরোল্লিখিত লেখাগুলা আমার ‘চোখে দেখা রাজনীতি’ নামের একটি রাজনৈতিক বইয়ের মুখবন্ধ।


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন