Pages

রবিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২২

১৬ তম পর্ব “চোখে দেখা রাজনীতি”র এ পর্বে আছে সাত্তারের কাছ থেকে এরশাদের ক্ষমতা দখল

তারপর মোক্ষম সময় হিসাবে বেছে নিল ১৯৮২ সালের ২৪শে মার্চ। ২৪শে মার্চ সকালে এরশাদের অনুগত একদল সামরিক অফিসার বঙ্গবভনে গিয়ে বন্দুকের মুখে রাষ্ট্রপতি আব্দুছ সাত্তারের সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখল করে নেয়। (তাঁর গুরু জিয়াউর বহমান যেমন  বিচারপতি সয়েমকে করেছিল)সেদিন বিকালে বেতার এবং টিভিতে দেয়া ভাষনে এরশাদ বলেন, "জনগনের ডাকে সাড়া দিয়ে তাকে ক্ষমতা গ্রহন করতে হয়েছে। এছাড়া আর কোন বিকল্প পথ ছিলনা। এক সাক্ষাৎকারে তিনি আরো বলেন, "তিনি ক্ষমতা দখল করেননি রাষ্ট্রপতি সেচ্ছায় তার হাতে ক্ষমতা তুলে দিয়েছেন।" ক্ষমতা দখল করে তিনি প্রথমে সারা দেশে মার্শাল ল জারী করেন। তারপর সংবিধান রহিত করে জাতীয় সংসদ বাতিল করেন এবং মন্ত্রীসভা বরখাস্ত করেন। এরপর বেতার এবং টেলিভিসন ভাষনে তার পূর্বসূরী আয়ুব, ইয়াহিয়া,জিয়াউর রহমানের মত বলেন, "দেশ আজ গভীর সঙ্কটে নির্মজ্জিত । প্রশাসন আজ সুষ্টুভাবে কোন কাজ করতে পারছে না"---"ক্ষমতাসীন দলের লোকদের ক্ষমতা নিয়ে কাঁড়াকাঁড়ি জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তা বিপন্ন করছে।"----"তাই জাতির বৃহত্তর স্বার্থে -------দেশ প্রেমিক জনগনের দোয়ায় গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হিসাবে ১৯৮২ সালের ২৪শে মার্চ বুধবার থেকে গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পূর্ণ ক্ষমতা গ্রহণ করছি।" তিনি আরো বলেন, তিনি দেশের সকল সশস্ত্র বাহিনীরও পূর্ণ ক্ষমতাও গ্রহন করছেন।----" তিনি বলেন--আমি যে কোন ব্যক্তিকে দেশের প্রেসিডেন্ট নিয়োগ করতে পারি--, --সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি, বা আমার নিযুক্ত যে কোন বিচারপতির কাছ থেকে শপথ নিয়ে প্রেসিডেন্ট দায়িত্বভার গ্রহন করবেন।  আমি প্রয়োজনে এ নিয়োগ রদ অথবা বাতিল করতে পারি। যে ব্যক্তি রাষ্ট্র প্রধান হবেন তিনি  প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হিসাবে আমার উপদেশ মত কাজ করবেন,  যা দায়িত্ব দেব তা পালন করবেন।"

তিনি সামরিক ফরমানের ক্ষমতা বলে আরো বলেন,---"আজ থেকে সংবিধান স্তগিত করা হলো, নব নির্বাচিত জাতীয় সংসদ ভেঙ্গে দেয়া হলো, সামরিক আইন জারীর সাথে সাথে বর্ত্তমান প্রেসিডেন্ট, ভাইস প্রেসিডেন্ট, স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, কেউ আর তাদের স্বপদে বহাল নেই। মন্ত্রী পরিষদের আর অস্তিত্ব নেই। "(সহায়ক সূত্র-,এরশাদের শাসনামল-৪, রমিতের বাংলা ব্লগ)

        প্রান্ত রক্তে রক্তে মুক্তিযুদ্ধ দেখেছে, এক সাগর রক্ত দিয়ে বাংলাদেশ এসেছে। ভেবেছিল রক্ত দেখার পালা শেষ। কিন্তু এরপরও রক্ত দেখার শেষ হয় নাই। দেখেছে স্বপরিবারে বঙ্গবন্ধুর বর্বরোচিত হত্যা, এই যে হত্যার শুরু তারপর থেকে এখন পর্ষন্ত চোখে দেখে আসছে রক্ত আর রক্ত, প্রসিডেন্টের রক্ত, মুক্তিযুদ্ধা সৈনিকের রক্ত, স্বাধারণ সৈনিকের রক্ত, নেতা নেত্রীর রক্ত, আম জনতার রক্ত।  কত রক্ত আর দেখবে বাঙ্গলী!!  মুক্তযুদ্ধা প্রান্তরা শুধু এখন নিরব দর্শকের মত সব দেখে যাচ্ছে। আর ভাবতে থাকে কিসের জন্য এই বাংলাদেশ স্বাধীন করলাম,  এখন হচছেটা কি? বঙ্গবন্ধু নিহত, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ভূলুন্ঠিত, সামরিক বহিনীতে ক্ষমতা নিয়ে মুক্তিযুদ্ধা মুক্তিযুদ্ধা হানাহানি খুনা খুনি, দলাদলি। এসব দেখে  হতাস হয়ে পড়ে প্রান্তের মত মুক্তিযুদ্ধারা  এবং সাধারণ জনগণও। প্রান্ত ভাবে এজন্যই কি আমরা বাংলাদেশকে এত রক্ত দিয়ে স্বাধীন করেছি?  যে দেশের জন্য আজ প্রান্ত এবং তার মত আরো অনেকে বাবা হারা, মা হারা, বোন হারা,  তাদের এখনো কত শোক, কত লজ্জা, কত গ্লানী কাঁধে নিয়ে বয়ে বেড়াতে হচ্ছে।  এত ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত এই দেশে আজ এসব কি হচ্ছে? এই হতাসার কথা তার মত লক্ষ লক্ষ লোক কার কাছে বলবে ! কার সাথে শেয়ার করে নিজের মনকে একটু হালকা করবে!  মাঝে মাঝে প্রান্ত তার বান্ধবী একিই কলেজের প্রভাষক এবং সহকর্মী ফারজান হক বিথীর সাথে এসব নিয়ে কথা বলে। ফারজানাও আরেক মুক্তিযুদ্ধা পরিবারের সন্তান, সে তার দুঃখ গুলো বুঝে, তার দুঃখে সেও ব্যথিত হয়।  এ কলেজে অধ্যাপনা করার পর নিস্বঙ্গ প্রান্ত, ভালাবাসাহীন প্রান্তু, যেন এক প্রশান্ত সবুজ দ্বীপ খুজে পেয়েছে ফারজানা বিথী নামের এ মেয়েটির মাঝে। যার সাথে সে তার পরিবার, তার সমাজ, তার রাষ্ট্র, সব কিছু নিয়ে কথা বলে একটু হালকা হয়ে সাচ্ছন্দের জায়গা খুঁজে পায়।

   প্রান্ত জ্ঞান বুদ্ধি হওয়ার পর থেকে  নিরবে পাকিস্থান আমল থেকে রাজনীতির মঞ্চায়ন দেখে দেখে আসছে নিরব দর্শকের মত। তিনি জিয়ার ক্ষমতা দখল দেখেছে, ক্ষমতা নিজের কজ্বায় রাখতে গিয়ে কত মুক্তিযুদ্ধা ভাইকে ফাঁসীতে ঝুলিয়ে হত্যা করেছে তাও দেখেছে। এখন এরশাদকেও দেখেছে, প্রান্ত দেখে এরশাদ আর জিয়ার মধ্যে মৌলিক কোন পার্থক্য নাই। এরশাদ এবং জিয়া দুজনের চরিত্র একিই, দু জনেরই লক্ষ্য সামরিক বাহিনীর কাঁধে বন্দুক রেখে গনতন্ত্রকে পদদলিত করে স্বৈরাচারী কায়দায় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল  করা। দখল করে ছলে বলে কৌশলে সে ক্ষমতা পাকাপোক্ত করা।

প্রান্তের মতে বাংলাদেশের ইতিহাসে সবছেয়ে ধূর্ত ও কূট বুদ্ধিসম্পর্ন সামরিক স্বৈরাশাসক হচ্ছেন জেঃ জিয়াউর রহমান এবং তারপর জেঃ এরশাদ। তারা দুজনই খুবই কৌশলে রাষ্ট্রপতি নিহত হওয়ার ঘটনা থেকে নিজেদের নিরাপদ দূরত্বে আড়াল রেখে সময়মত খোলস থেকে বেরিয়ে এসে দেশের কান্ডারী হয়ে বসেছিলেন। আয়ুব খানের সামরিক শাসনের আদলেই এ দুজন সমর নায়ক  রাষ্ট্র পরিচালনা করেছেন। এ সকল সামরিক শাসকরা সবাই পাকিস্থানী সামরিক বাহিনীর উত্তারাধিকারী।



       
প্রান্তের মতে বাংলা দেশে জিয়া এবং এরশাদ এ দুজন সামরিক স্বৈরশাসক। এদের দুজনকে আমাদের নব প্রজন্মের সামনে নির্মোহ এবং নিপেক্ষভাবে তুলনামূলক বিচার বিশ্লেষন করে আমরা তুলে ধরতে পরিনা, বিএনপি বৃহত্তর দল হওয়ায় তাঁর সমর্থকরা তাঁর প্রতি আবেগ দেখাতে গিয়ে তার ক্ষমতা দখলকে বলেন বিপ্লব, তাকে বলেন বিপ্লবের নায়ক, আর এরশাদের  ক্ষমতা দখলকে বলেন সামরিক অভ্যূত্থান, আর তাকে বলেন  স্বৈরাশাসক। কিন্তু ক্ষমতা দখলে দূজনের ধূর্ততা এবং চাতুরী বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে দুজনের ক্ষমতা দখল ছিল হুবহু এক। দুজনেই স্বৈরশাসক। দুজনের মধ্যে পার্থক্য হল জিয়া ক্ষমতায় আসার পর মোহভঙ্গের আগে হানিমুন পর্যায়ে নিহত হয়ে বিদায় নিয়েছিলেন। তাই তার প্রতি মোহের ঘোর কাটতে পারেনি।   কিন্তু এরশাদ ক্ষমতায় এসে হানিমুন পর্যায় শেষ করে বেশ কিছুদিন ঘর সংসার করেছেন, তাই তার প্রতি মোহ ভঙ্গ হয়েছিল তাই তাকে সৈরশাসক বলি। এরশাদকে যা বলি জিয়াকে সেটা বলতে কষ্ট পায়।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

২৬ তম পর্ব ২০০৬ সালে বি এন পি'র তত্ত্বাবধায়ক সরকার নাটক:

 . ২০০৬ সালে বি এন পি'র তত্ত্বাবধায়ক সরকার নাটক:-২০০৬ সলের জোট সরকার মেয়াদ শেষ হলে ক্ষমতা ছাড়ার সময় অাবার দেখা দেয় দুই প্রধান দল তথা জোট...