Pages

বুধবার, ২৪ আগস্ট, ২০২২

৮ম পর্ব পাকিস্থান থেকে বাংলাদেশ “চোখে দেখা রাজনীতি”



জিয়ার উত্থান ও সামরিক স্বৈরাচার :-

  স্বাধীনতার পর থেকে দেশে স্বাধীনতা বিরুধী ও কিছু অতি বাম রাজনৈতিক দল ভারত বিরুধীতা জনগনের মাঝে উস্কে দিয়ে ঘোলা পানিতে রাজনীতি করার চেষ্টা করেছিল, সে ধারাবাহিতায় ৭ই নভেম্বরের পাল্টা  অভ্যূত্থানেও সুচতুরভাবে ভারত বিরুধীতাকে কাজে লাগায়ে গুজব ছড়ানো হয়।  ভারত বিরুধীতার এ গুজবে যখন জনগন দেখল ভারতের তথাকথিত (যা আদতে সত্যি নয়) দালাল খালেদ মোশাররফের অভ্যূত্থান প্রচেষ্টা দেশ প্রেমিক সৈনিকেরা ব্যর্থ করে দিয়ে জিয়াকে তাদের বন্দীদশা থেকে মুক্ত করে এনেছে। তাই সবাই জিয়ার উত্থানকে স্বাগত জানাল। কিন্তু সিপাহীবিদ্রোহের নায়ক কর্নেল তাহের চলে গেলেন পর্দার অন্তরালে। বন্দী করে রাষ্টদ্রোহিতার অভিযোগে অভিযুক্ত করে মার্শাল ল কোর্টে বিচার করে তাকে ফাঁসীতে ঝুলিয়ে হত্যা করা হয়। এর কোন প্রতিক্রিয়া হল না সারা দেশে।

আবার প্রান্তের কাছে আসা যাক প্রান্তও দেশে তথা সেনা বাহিনীর মধ্যে  কি ঘটছে, পরিস্তিতি কোন দিকে মোড় নিচ্ছে, কে ক্ষমতার কেন্দ্র বিন্দুতে আছে সারা দেশবাসীর মত সেও বুঝে উঠতে পারছিল না। সারা দেশের আপামর জনসাধারণ অন্ধকারে গুজবে গুজবে আতঙ্কিত হয়ে দিন অতিবাহিত করছিল। সেই প্রক্ষাপটে ১৯৭৫ সালের ১১ই নভেম্বর এক বেতার ও টেলিভিশন ভাষণে মেঃ জেঃ জিয়া উর রহমান বলেছিলেন "আমি রাজনীতিবিদ নই আমি একজন সৈনিক, রাজনীতির সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই আমার সরকার সম্পূর্ণ নির্দলীয় ও অরাজনৈতিক। মানুষ একটু আস্বস্থ হলেন, তিনি রাজনীতি করবেন না অচিরেই ক্ষমতা জনগনের নিকট ফিরিয়ে দেবেন।

১৯৭৬ সালে সরওয়ার্দী উদ্যানে এক জনসভায় তিনি এবার বললেন "আমি এক জন শ্রমিক" এবার জনগণ সন্দেহ করতে লাগল জেনারেল জিয়া  একবার 'সাধারন সৈনিক' একবার 'শ্রমিক' সাজার কারন কি ?  বুঝা গেল তিনি একবার শ্রমিক, একবার সৈনিক সেজে জনসাধারনের মাঝে জায়গা করে নিতে চাচ্ছেন। তিনি১৯৭১সালের ২৮শে মার্চ চট্টগ্রামের কালুর ঘাট বেতারে ইচ্ছাকৃতভাবে উচ্ছাকাঙ্খাকী হয়ে যে ২য় ঘোষনা দিয়ে নিজেকে Provincial Head head of the shadin Bangla liveration government ঘোষনার করেছিলেন তখন  তার মনের ভিতর  যে Head of the government   হওয়ার  সাধ জেগেছিল এখন একের পর এক বাঁধার সিঁড়ি ডিঙ্গিয়ে তিনি সেই লক্ষের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। জেঃ জিয়া এই Head of the government হবার ছক আঁটতে গিয়ে তার পূর্ব সূরী সামরিক  শাসক আয়ুর খানের  চিত্রনাঠ্য ধরে এগুতে থাকেন এবং শেষ পর্যন্ত সত্যি সত্যি গন্তব্যে পৌঁছে যান। 

              আগেই উল্লেখ করেছি জিয়া ছিলেন ধীর স্তির ঠান্ডা মাথার কুটবুদ্ধি সম্পন্ন বিচক্ষন মানুষ।   তিনি তাড়াহুরা না করে এক পা দু পা করে এগুতে থাকেন। ধীরে ধীরে তিনি সেনাবাহিনীর মধ্যে তার অবস্থান দৃড় করেন। এক সময় সেনাবাহিনীর মধ্যে তাকে চেলেঞ্জ করার আর কেউ থাকল না। এরপর তিনি চিন্তা করলেন, যেহেতু প্রেসিডেন্ট সায়েম তার পূর্ব প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ৭৭সালের ফেব্রুয়ারী মাসে নিরপেক্ষ নির্বাচন দিয়ে জনগনের হাতে ক্ষমতা ফিরিয়ে দিতে কাজ করছেন, সেহেতু তিনি(জিয়া) যে উচ্ছাভিলাসী রাজনৈতিক পরিকল্পনা নিয়ে তিনি এগুছেন তাতে তার মূলে কুঠরাঘাতের মত হবে। তাই তিনি সায়েমকে ফেব্রুয়ারী মাসের সংসদ নির্বাচন স্তগিত করতে বাধ্য করেন। তিনি তার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সায়েমকে পথের কাঁটা ভাবতে থাকেন, তাই তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন সায়েমের কাছ থেকে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকের পথটি কেড়ে নিবেন। সে লক্ষে একদিন তিনি বঙ্গ ভবনে গিয়ে প্রেসিডেন্ট সায়েমকে জেঃ এরশাদ, শওকত আলী, জেঃ মঞ্জু ও প্রসিডেন্টের বিশেষ সহকারী বিচারপতি সাত্তার ও তিন বাহিনীর প্রধানদের উপস্তিতিতে  তার প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকের পদটি ছেড়ে দিতে বাধ্য করেন। তিনি তার অন্যায় আবদার প্রত্যাখ্যান করে বলেন,  "আমি দেশে গনতন্ত্র ফিরিয়ে আনার দায়িত্ব নিয়েছি, আমাকে গনতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্টা করার কাজ শেষ করতে হবে।" এর পর জিয়ার সাথে অনেক তর্কাতর্কি  চলে, এক সময় রাত একটার দিকে প্রসিডেন্ট সায়েমকে  প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকের পদটি হস্তান্তরের কাগজে বাধ্য করে সই করিয়ে নেন জেঃ জিয়া। ১৯৭৬ সালের ২৯শে নভেম্বর তিনি প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকের পদটি দখল করে নেন। এরপর সায়েমের কাছ থেকে প্রেসিডেন্টের পদটি ছিনিয়ে নেয়া ছিল সময়ের ব্যপার মাত্র।  অবশেষে ১৯৭৭সালের একুশে এপ্রিল বিচারপতি সায়েম জিয়ার নিকট প্রসিডেন্টের পদ ছেড়ে দেবার ঘোষনা দিতে বাধ্য হন।  তিনি এক ভাষনে বলেন, " আমি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম শাররীক অসুস্ততার  কারনে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালনে অক্ষম হয়ে পড়েছি। সুতরাং আমি মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে দেশের প্রেসিডেন্ট মনোনীত করছি আর তার কাছে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব অর্পন করছি।" জিয়া ষখন প্রেসিডেন্ট  হিসাবে দায়িত্ব গ্রহন করেন তখন মার্শাল ল আইনে দেশ সম্পূর্ণ তার কজ্বায়। দেশের মানুষের রাজনৈতিক তথা মৌলিক অধিকার সামরিক শাসনের বুটের তলায় পিষ্ট।

এ পরিস্তিতিতে দেশের রাজনৈতিক দলগুলো বিশেষ করে আওয়ামীলীগ, জাসদ, কমিউনিষ্ট পার্টি সহ বিরুধী শক্তি সমূহ দ্বিধাবিভক্ত, বিচ্ছিন্ন, ছত্রভঙ্গ ও দিশেহারা। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে জিয়া প্রমান করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন তিনি বন্দুকের নল দিয়ে নয় জন সমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় এসেছেন। সে জন্য তিনি দেশের উন্নয়নের কথা বলে ১৯ দফা কর্মসূচি ঘোষনা করেন। এ ১৯ দফা কর্মসূচীরর প্রতি জনগনের আস্থা আছে কিনা জনপ্রিয়তা যাছায়ের  জন্য ৩০মে তিনি একক প্রার্থী হয়ে হাঁ না ভোটের আয়োজন করেন। এ ভোটে জন সম্পৃক্ততা না  থাকলেও ভোটের ফলাফল ছিল ৯৮.৯% হাঁ, মোট ভোট সংগৃহীত হয়েছিল ৮৮.১%,। এ হাস্যস্কর নির্বাচনের কোন গ্রহন যোগ্যতা না থাকলেও গনভোটের মাধ্যমে তিনি রাজনৈতিক বৈধতার একটি ছাড়পত্র তৈরী করে নিলেন। (সহায়ক সূত্র-৭৫ ও তারপর বঙ্গবন্ধুর খুনীদের উস্ফালন কাল।,আমার বন্ধু ব্লগ, স্বাধীন বাংলাদেশে  বৃটিশ দ্বিজাতি তত্ত্ব, মুশতাক জিয়া সায়েম, আমার ব্লগ সাইম হাসান খান,২৫/০২/১৩) (বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডে জিয়াউর রহমানের দায়, রাজেশ পাল)



 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

২৬ তম পর্ব ২০০৬ সালে বি এন পি'র তত্ত্বাবধায়ক সরকার নাটক:

 . ২০০৬ সালে বি এন পি'র তত্ত্বাবধায়ক সরকার নাটক:-২০০৬ সলের জোট সরকার মেয়াদ শেষ হলে ক্ষমতা ছাড়ার সময় অাবার দেখা দেয় দুই প্রধান দল তথা জোট...